ঢাকা, শনিবার 12 May 2018, ২৯ বৈশাখ ১৪২৫, ২৫ শাবান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

কারাগারের শৃঙ্খল ভেঙে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করা হবে -মির্জা ফখরুল

গতকাল শুক্রবার নয়াপল্টনস্থ দলীয় কার্যালয়ে দেশনেত্রী বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার রাজনীতি, সংগ্রাম ও সফলতার ৩৪ বছর উপলক্ষে আয়োজিত আলোকচিত্র প্রদর্শনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার : প্রধানমন্ত্রীকে মালয়েশিয়ার নির্বাচন থেকে শিক্ষা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, জনমত বিপক্ষে থাকলে কোনো শক্তি দিয়েই পরাজয় ঠেকানো যায় না। জনতার ঐক্য সৃষ্টি করে কারাগারের শৃঙ্খল ভেঙে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
গতকাল শুক্রবার সকালে রাজনীতিতে খালেদা জিয়ার ৩৪ বছরপূর্তি উপলক্ষে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আলোকচিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট রিসার্স সেন্টার এই প্রদর্শনীর আয়োজন করে। খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবনের ৩৪ বছরের ৯২টি ছবি প্রদর্শণীতে স্থান পায়।
মির্জা ফখরুল বলেন, দেশবাসীর প্রতি আমার আবারও আহ্বান থাকবে,যে ভয়াবহ দানব সরকার আমাদের সব কিছু লুটে নিয়ে যাচ্ছে তাকে পরাজিত করতে আমরা জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি করি। একইসঙ্গে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করি।
তিনি বলেন, কারাগার থেকে খালেদা জিয়া যে নেতৃত্ব দিচ্ছেন, তাতে আমরা জনগণের ঐক্য সৃষ্টি করে আমাদের ওপর যে ভয়াবহ দুঃশাসন চেপে বসে আছে তা সরাতে পারবো। আমি অবৈধ সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বলবো, মালয়েশিয়ার দিকে তাকিয়ে দেখুন। দুর্নীতি করলে, জনগণ ও গণতন্ত্রের বাইরে চলে গেলে সব শক্তি দিয়েও জনমতকে যে প্রতিহত করা যায় না তা প্রমাণ করেছে মালয়েশিয়ার জনগণ।
রাজনীতি থেকে দূরে সরিয়ে রাখার জন্য মিথ্যা মামলা দিয়ে বিএনপির চেয়ারপারসনকে কারাগারে রাখা হয়েছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, সম্ভবত তিনিই একমাত্র ব্যক্তি যাকে হাইকোর্ট জামিন দেওয়ার পর তা স্থগিত করে সুপ্রিম কোর্ট শুনানি করছেন। তাকে কারাগারে আটকে রেখে আবারও একদলীয় একটি নির্বাচন করার চক্রান্ত করছেন আওয়ামী লীগ।
সরকার নির্বাচন কমিশনকে ধ্বংস করে দিয়েছে অভিযোগ করে মির্জা ফখরুল বলেন, প্রতিদিন খুলনায় বিএনপির নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করা হচ্ছে। এমনকি যারা নির্বাচনের এজেন্ট হবেন তাদেরকে গ্রেফতার করা হচ্ছে। নেতাকর্মীরা নির্বাচনের প্রচারণার কাজ করতে পারছে না। আওয়ামী লীগ পুলিশকে দিয়ে গোটা নির্বাচন মাঠ দখল করে নিয়েছে। কালও আমাদের প্রার্থী মঞ্জুর সঙ্গে কথা হয়েছে, তিনি বলেছেন এরপরও শেষ দিন পর্যন্ত নির্বাচনি মাঠে থাকবো এবং জয়লাভ করবো।
পরাজয়ের ভয়ে আওয়ামী লীগ খুলনায় নির্বাচনি মাঠে নেই দাবি করে তিনি বলেন, এখন মাঠে আছে পুলিশ। আজ এ রাষ্ট্রকে শেখ হাসিনা পুরোপুরি অকার্যকর করে ফেলেছে। আইনশৃঙ্খলা- প্রশাসন শেষ হয়ে গেছে। মিডিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। অনেক আছেন যাদের কথা বলতে ও লিখতে দেওয়া হচ্ছে না। বলেছে চাকরি চলে যাবে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বার বার খালেদা জিয়ার নাম উচ্চারিত হচ্ছে। তিনি বিএনপির চেয়ারপারসন হিসেবে দায়িত্ব পালনের ৩৪ বছর অতিক্রম করেছেন। তিনি গণতন্ত্রের জন্য মানুষের ভোট,বেঁচে থাকার, শিক্ষা-স্বাস্থ্য সেবা পাওয়ার অধিকার প্রতিষ্ঠা করার জন্য তার পুরো জীবন সংগ্রাম করে চলেছেন। শহীদ জিয়াউর রহমানের ৯ মাস যুদ্ধ চলাকালে তাকে শিশু সন্তানদের নিয়ে নানান ঘাত-প্রতিঘাতের মধ্যে দিয়ে জীবন পার করতে হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধে তার যে অবদান তা কোনোভাবেই খাটো নয়। তিনি নির্যাতিত এবং বন্দি ছিলেন।
গম খালেদা জিয়ার আত্মজীবনী লেখা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার ওপর বই লেখা হচ্ছে, তার আত্মজীবনী লেখা হচ্ছে। আমি বিশ্বাস করি, সে আত্মজীবনীতে আমরা এমন কিছু জিনিস পাব, যা আমরা অনেকেই জানি না।
তিনি বলেন, আজকে কী নির্মমভাবে, নিষ্ঠুরভাবে আমাদের তথাকথিত সরকারের অবৈধ প্রধানমন্ত্রী তিনি বারবার আমাদের নেত্রীকে খাটো করার চেষ্টা করেছেন। তিনি চেষ্টা করেছেন স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমানকে ছোট করতে। তরুণ নেতা তারেক রহমানকে ছোট করার চেষ্টা করেছেন। তাদের এই ছোট করার মানসিকতা জনগণ মেনে নেবে না। তাদের নিজস্ব মহিমায় উজ্জ্বল হয়ে বেরিয়ে আসবে।
 দেশবাসীর উদ্দেশে তিনি বলেন, আসুন আমরা সবাই জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি করি। জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি করেই এ ভয়াবহ দানব, যে আমাদের সব কিছু লুট করে নিয়ে যাচ্ছে তাকে পরাজিত করে জনগণের শাসন প্রতিষ্ঠিত করি। এটাই হোক আমাদের লক্ষ্য। সেই কারণে আমরা আহ্বান করেছি- সকল দল, মত ও নেতৃত্বকে, দেশনেত্রী যে আন্দোলন চালাচ্ছেন এবং নেতৃত্ব দিচ্ছেন- আসুন আমরা সবাই সেই আন্দোলন শরীক হয়ে আমাদের দেশ ও গণতন্ত্রকে মুক্ত করি।
বেগম জিয়াকে হাইকোর্ট জামিন দেওয়ার পরেও সুপ্রিমকোর্ট তাকে আটকে রেখেছে অভিযোগ করে মির্জা ফখরুল বলেন, গতকাল জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলার বিষয়ে যথেষ্ট আলোচনা হয়েছে। কিন্তু সরকার পক্ষ কোন প্রমান দেখাতে পারেনি। বেগম জিয়াকে কারাগারের ভিতরে আটকে রেখে আবারও তারা (সরকার) একদলীয় নির্বাচনের ব্যবস্থা করবে- বলে মনে করে ফখরুল।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, আজকে গাজীপুর নির্বাচন নিয়ে এমন একটি কাজ করল, যেখানে লোকজন বুঝে নিয়েছে যে এর পিছনে কারা কী করছে এবং কীভাবে করছে।
অনুষ্ঠানে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান বলেন, ১৯৮৩ সালের ২৮ নভেম্বর সচিবালয় ঘেরাও কর্মসূচিতে প্রথম দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া রাজপথে নেমে আসেন। তার নেতৃত্বে সচিবালয় ঘেরাও হয়। টিয়ার শেল তার পায়ে লাগে, হাতে লাগে, টিয়ার শেলের ধোঁয়ায় তিনি রাজপথে লুটিয়ে পড়েন। সেদিনও তিনি পিছপা হন নি।
রুহুল কবীর রিজভী আহমেদ বলেন, গতকাল (বৃহস্পতিবার বার) বাবুল তালুকদার এসে জানালো যে তারা একটি আলোকচিত্র প্রদর্শনী করবে, একটি শিরোনাম ঠিক করে দিতে। আমি প্রথমে খুব একটা আগ্রহ দেখাচ্ছিলাম না। কিন্তু যখন এর তাৎপর্য বুঝতে পারলাম তখন অত্যন্ত উৎসাহিত হলাম।
তিনি বলেন, যার আলোকচিত্র প্রদর্শনী করা হবে তিনি শুধু একজন ব্যক্তি নয়, প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছেন। তার রাজনৈতিক প্রক্রিয়া সব কিছু মিলিয়ে যা রচিত হবে তা বিশ্বের যে কোনো মহান রাজনীতিক বা রাষ্ট্রনায়কদের সমতুল্য হবে কিংবা কাউকে ছাড়িয়ে যাবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ফটো সাংবাদিক বাবুল তালকুদার। অন্যদের মধ্যে বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ, নির্বাহী কমিটির সদস্য আবেদ রাজা, ফরহাদ হোসেন আজাদ, আমিনুল ইসলাম প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ