ঢাকা, শনিবার 12 May 2018, ২৯ বৈশাখ ১৪২৫, ২৫ শাবান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

মোবাইল ফোন ও ব্রেইন ক্যান্সার

মোবাইল ফোন এখন বিশ্বজুড়ে অনিবার্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। ছেলেবুড়ো বা শিশুকিশোর বলে কথা নয়। যোগাযোগের সর্বাধুনিক এ যন্ত্রটি এখন সবার চাই। বাসার কাজের লোক থেকে শুরু করে ভিখেরি পর্যন্ত মোবাইলের ব্যবহার রফত্ করে ফেলেছে। দু-আড়াই বছরের শিশুও মোবাইল পেলে চুপচাপ এর পেছনে লেগে থাকে। দিব্যি এর সুইচ টেপে এবং ভিডিও গেইমে ডুবে থাকে।  আর শিশুর মা সংসারের কাজ দেখেন বা অফিসে চলে যান। মোবাইলের এ আগ্রাসন আমাদের সবাইকে প্রতিদিন গ্রাস করছে সেদিকে নজর দেবার অবকাশ আমাদের আসলে কারুরই নেই। তবে চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা এব্যাপারে বেশ চিন্তিত। তাঁরা এনিয়ে গবেষণা করেছেন ইতোমধ্যে। ভয়াবহ রেজাল্টও জানিয়েছেন তাঁরা।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, মস্তিষ্কের টিউমার বা ব্রেইন টিউমার হচ্ছে এমন এক অবস্থা যখন মানুষের মস্তিষ্কে অস্বাভাবিক কোষ তৈরি হতে থাকে। এ টিউমার দু’ধরণের হয়। একটি ম্যালিগন্যান্ট বা ক্যান্সার তৈরিকারী টিউমার। অন্যটি ব্রেইন টিউমার। ক্যান্সার সৃষ্টিকারী প্রাইমারি ক্যান্সার তৈরি হয় মস্তিষ্কের অভ্যন্তরে। আর মাধ্যমিক টিউমার দেহের অন্য কোনও অংশে তৈরি হয়ে বিস্তার লাভ করে মস্তিষ্কে ছড়িয়ে পড়ে। মস্তিষ্কের বেশিরভাগ টিউমারের কারণ এখনও অজ্ঞাত। বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, ভিনাইল ক্লোরাইড, এপস্টাইনবার ভাইরাস এবং আয়োনিত তেজস্ক্রিয়া ব্রেইন টিউমারের কারণ হতে পারে। তবে এবার ইংল্যান্ডের এক গবেষণায় বলা হচ্ছে, ম্যালিগন্যান্ট বা ক্যান্সার সৃষ্টকারী টিউমারের পেছনে হাত থাকতে পারে মোবাইল ফোনের। গত ১৯৯৫ থেকে ২০১৫ এই ২১ বছর ব্রেইন ক্যান্সারে আক্রান্তদের পর্যালোচনায় দেখা যায় যে, মোবাইল ফোন ব্যবহারের কারণে বেড়েছে ব্রেইন ক্যান্সারের হার। ১৯৯৫ সালে প্রতি এক লাখে যেখানে ক্যান্সার আক্রান্ত ছিল ২.৪ জন, সেখানে ২০১৫ সালে দাঁড়ায় ৫ জনে। মানে ডবলেরও বেশি। গবেষণার রেজাল্ট প্রকাশ করে জার্নাল অব এনভায়রনমেন্ট এন্ড পাবলিক হেলথ।
ব্রেইন ক্যান্সারে আক্রান্তদের তথ্য পর্যালোচনায় সরাসরি কোনও কারণ খুঁজে পাওয়া না গেলেও গবেষকরা মোবাইল ফোনের ব্যবহারকে দায়ী করেন। তাঁরা মূলত জীবনযাত্রা, খাবার-দাবার সবকিছু পর্যালোচনা করেছেন। এক্ষেত্রে তাঁরা যেটা লক্ষ্য করেছেন, তা হচ্ছে মোবাইল ফোন ব্যবহারের হার। গত ২১ বছরের ব্যবধানে এর ব্যবহার বেড়েছে অনেক বেশি। এতে ক্যান্সারে আক্রান্তও হয়েছে দ্বিগুণের বেশি মানুষ। তাই বিজ্ঞানীরা মনে করেন, মোবাইল ব্যবহারের সঙ্গে ক্যান্সার সৃষ্টির নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। স্টাডি এন্ড ট্রাস্টি অব চিল্ড্রেন উইথ ক্যান্সার ইউকে’র প্রধান গবেষক আলাসডির ফিলিপস বলেন, ব্রেইন ক্যান্সারের কারণ খুঁজতে গিয়ে মোবাইল ফোনের ভূমিকার বিষয়টি সামনে চলে এসেছে। উল্লেখ্য, ম্যালিগন্যান্ট বা ক্যান্সার সৃষ্টকারী ব্রেইন টিউমার প্রাথমিক পর্যায়ে কান ও কপালের মধ্যবর্তী স্থানে সৃষ্টি হয়। অতিরিক্ত মোবাইল ফোন ব্যবহারের কারণে ক্রমান্বয়ে তা ক্যান্সারে রূপ নেয়। অর্থাৎ ব্রেইন ক্যান্সারের মাত্রা তরান্বিত করতে মোবাইল ফোন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তবে আলাসডির ফিলিপস মোবাইল ফোন ইউজারদের আতঙ্কিত না হয়ে দীর্ঘ কথা বলবার সময় লাউড স্পিকার ব্যবহারের পরামর্শ দেন। -সিএনএন।
যোগাযোগ মাধ্যমের সর্বাধুনিক সহজ প্রযুক্তি হচ্ছে মোবাইল ফোন। এর বিকল্প এখনও আবিষ্কৃত হয়নি। এর ব্যবহার প্রতিদিন বেড়েই চলছে। জন্মের অল্পদিন পরেই মানবশিশু পরিচিত হচ্ছে এর সঙ্গে। বিজ্ঞানের এই আবিষ্কার এড়িয়ে চলবার উপায় নেই। তাই এর ব্যবহার অনিবার্য। তবে অপব্যবহার যেন না হয় সেদিকে নজর দেয়া খুব জরুরি। বিনা প্রয়োজনের এর অতিরিক্ত ব্যবহার পরিহার করা বুদ্ধিমানের কাজ। বিজ্ঞানীরা মানুষকে এ ব্যাপারে সাবধান করেছেন। আমরা অনেকেই শখের বশবর্তী হয়ে বাচ্চাদের হাতে মোবাইল সেট তুলে দেই। এতে ওদের উপকারের চাইতে ক্ষতি হয় বেশি। বিজ্ঞানীদের মতে আদরের শিশুদের মোবাইল এডিকশনের ফলে মারণ ব্যাধি ক্যান্সার পর্যন্ত হতে পারে। তাই এর ব্যবহার যেমন পরিমিত হওয়া জরুরি, তেমনই ছোট বাচ্চাদের কাছ থেকে মোবাইল সেট দূরে রাখা একান্ত প্রয়োজন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ