ঢাকা, শনিবার 12 May 2018, ২৯ বৈশাখ ১৪২৫, ২৫ শাবান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

শেষ মুহূর্তের প্রচারণায় উত্তেজনা

খুলনা : ২০ দলীয় জোটের মনোনীত মেয়র প্রার্থী মো. নজরুল ইসলাম মঞ্জু ১৬নং ওয়ার্ড এলাকায় গণসংযোগ করেন

খুলনা অফিস : খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি) নির্বাচনে চলছে শেষ মুহূর্তে প্রচার প্রচারণা। গতকাল শুক্রবার ছুটির দিন হওয়ায় মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা তাই ব্যস্ত সময় পার করেছেন। এদিকে প্রধান দুই দলের মেয়র প্রার্থীর প্রতিনিয়ত পাল্টা অভিযোগে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। এ কারণে নির্বাচন নিয়ে জনমনে উৎকণ্ঠা এখনও কাটেনি। এদিকে নির্বাচনে পুলিশি গণগ্রেফতার, নির্বাচন পরিচালনায় সমন্বয়ক কমিটি ও দুই দলের টানা বিতর্কে উত্তেজনাও তৈরি হয়েছে। যেকোনও মুহূর্তে পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা করছেন ভোটাররা। আর নির্বাচন বিশ্লেষকরা বলছেন, সুষ্ঠু ভোট গ্রহণের জন্য রাজনীতিবিদদের সহনশীল আচরণ করতে হবে। এছাড়া ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ বিতর্ক চলছে জোরেসোরে। বড় দুই দল আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি দাবি করছে, কেসিসি নির্বাচনে ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নেই। দুই দলই নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণায় ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ দাবি করছেন। নির্বাচনি আচরণবিধিমালা অনুযায়ী আগামীকাল ১৩ মে মধ্যরাতে শেষ হচ্ছে নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণা।

এদিকে খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনকে সুষ্ঠু, অবাধ, শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষ করতেই বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন দুই কর্মকর্তার সমন্বয়ে সমন্বয় কমিটি গঠন করেছে। একইসাথে ২০ সদস্যের পর্যবেক্ষক কমিটিও নিয়োগ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের নির্বাচন ব্যবস্থাপনা ও সমন্বয়-১ শাখার উপসচিব (চলতি দায়িত্ব) মো. ফরহাদ হোসেন স্বাক্ষরিত এ কমিটি ইতোমধ্যেই খুলনায় তাদের কার্যক্রম শুরু করেছে। তবে রিটার্নিং অফিসারকে সহায়তার জন্যই এ কমিটি গঠন করা হয়েছে উল্লেখ করে নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন বলেন, এ কমিটি নিয়ে ভুল ব্যাখ্যা দেয়ার সুযোগ নেই। গঠিত সমন্বয় কমিটির প্রধান সমন্বয়কারী করা হয় নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের জাতীয় পরিচয় নির্বাচন অনুবিভাগের পরিচালক (পরিচালনা) ও যুগ্মসচিব মো. আবদুল বাতেনকে এবং উপপ্রধান সমন্বয়কারী করা হয় রংপুরের আঞ্চলিক নির্বাচন অফিসের আঞ্চলিক নির্বাচন অফিসার(চ.দা.) জিএম সাহাতাব উদ্দিনকে। ২০ সদস্যের নির্বাচন পর্যবেক্ষক কমিটিতে রয়েছেন বাগেরহাটসহ দেশের বিভিন্ন জেলার জেলা নির্বাচন অফিসার এবং উপজেলা নির্বাচন অফিসারবৃন্দ।

প্রধান সমন্বয়কারী গত বুধবার থেকে খুলনায় অবস্থান করে রিটার্নিং অফিসারকে সহায়তা করছেন। তিনি মূলত কেসিসি নির্বাচনের কার্যক্রম তদারকির পাশাপাশি রিটার্নিং অফিসারকে সহায়তা এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠান যেমন বিভাগীয় প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, বিজিবি, র‌্যাব, আনসার, গোয়েন্দা সংস্থাসহ যেসব সংস্থা নির্বাচনী কাজে নিয়োজিত তাদের প্রধানদের সাথে সমন্বয় সাধন করবেন।

নির্বাচন কমিশনের সচিব হেলালুদ্দীনের বলেন, যে কাউকে দিয়েই কমিটি করার ক্ষমতা নির্বাচন কমিশনের আছে। জন প্রশাসনের যে কোন কর্মকর্তাকে দিয়ে নির্বাচন কমিশন কাজ করাবে। যেমন পুলিশ, ম্যাজিষ্ট্রেট, বিজিবি, র‌্যাব, আনসার কাজ করছে। এদের মধ্যে সমন্বয়ের জন্য একজন সিনিয়র অফিসারের প্রয়োজন হয়। যেমনটি এর আগে রংপুর, কুমিল্লা, নারায়নগঞ্জেও করা হয়। সমন্বয় কমিটি শুধুমাত্র রিটার্নিং অফিসারকে সহায়তার জন্য করা হয়েছে বলেও জানান ইসি সচিব। তাছাড়া মো. আবদুল বাতেন শুধু প্রধান সমন্বয়কারীই নন, বরং তিনি বিভাগীয় কোর কমিটিরও সভাপতি। কেননা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সহিংসতার পাশাপাশি যে কোন ধরনের আইন-শৃংখলা কমিটির অবনতি হতে পারে। এগুলোর জন্য রিটানিং অফিসারকে সহায়তা দিতেই সহযোগী একাধিক কমিটি হতে পারে। তবে রিটার্নিং অফিসারই সর্বময় ক্ষমতায় অধিকারী উল্লেখ করে ইসি সচিব বলেন, ভোট গ্রহণ, ফলাফল ঘোষণা সবইতো রিটার্নিং অফিসারের দায়িত্ব।

এছাড়া ২০ সদস্যের পর্যবেক্ষক কমিটির সদস্যরা ১৩ মে’র মধ্যে অবশ্যই রিটার্নিং অফিসারের কাছে রিপোর্ট করবেন। ওইদিনই রিটার্নিং অফিসার প্রধান সমন্বয়কারীর সাথে আলোচনা করে নিয়োগকৃত পর্যবেক্ষকদের পর্যবেক্ষণ এলাকা বন্টন করবেন এবং এর একটি তালিকা নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে প্রেরণ করবেন বলেও পত্রে উল্লেখ রয়েছে। পত্রে আরও উল্লেখ করা হয়, রিটার্নিং অফিসার, উপ প্রধান সমন্বয়কারী ও প্রধান সমন্বয়কারী নিয়োগপ্রাপ্ত পর্যক্ষেকগণকে নির্বাচনী এলাকার পরিস্থিতি এবং সুষ্ঠু, সুন্দর ও অবাধ নির্বাচন অনুষ্ঠানে তাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য যথাযথভাবে পালনে করণীয় সম্পর্কে অবহিত করবেন। রিটার্নিং অফিসার কর্তৃক দায়িত্ব পাওয়ার পর দায়িত্ব প্রদানকৃত এলাকায় পর্যবেক্ষকগণ অবস্থান করে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবেন উল্লেখ করে পত্রে বলা হয়, নির্বাচনের পূর্বরাতে ভোটকেন্দ্রে সকল আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্য এবং ভোট গ্রহণকারী কর্মকর্তাগণ অবস্থান করছেন কি না তা পর্যবেক্ষণ করতে হবে।

পর্যবেক্ষণকালে আইন ও বিধি অনুসারে কোনরূপ অনিয়ম বা ত্রুটি-বিচ্যূতি( যেমন-ব্যালট ছিনতাই, আইন-শৃংখলা পরিস্থিতির অবনতি, ভোটারদের কেন্দ্রে প্রবেশে বাধা প্রদান, জাল ভোট, অবৈধ প্রভাব বিস্তারের প্রচেষ্টা ইত্যাদি) নজরে আসা মাত্র টেলিফোন বা মোবাইলে এবং প্রয়োজনে লিখিতভাবে রিটার্নিং অফিসার, নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের উপসচিব (নি. ব্য. ওস.-১), যুগ্মসচিব (নি. প.-২), যুগ্মসচিব (নি. ব্য.-২), অতিরিক্ত সচিব, সচিব এবং প্রয়োজনে নির্বাচন কমিশনারগণ ও প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে অবহিত করবেন। সব মিলিয়ে নির্বাচন সম্পর্কিত যে কোন কমিটি নিয়ে সরকারি বা বিরোধী দলের কোন প্রকার ভুল ব্যাখ্যা বা অপব্যাখ্যার কোন সুযোগ নেই উল্লেখ করে নির্বাচন কমিশনের সূত্রটি বলছে, কেসিসি নির্বাচন হবে রংপুরের চেয়েও গ্রহণযোগ্য। যে বিষয়টি সম্প্রতি খুলনা সফরকালে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কেএম নূরুল হুদাও উল্লেখ করেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ