ঢাকা, রোববার 13 May 2018, ৩০ বৈশাখ ১৪২৫, ২৬ শাবান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

ইরাক পুনর্গঠনের নির্বাচনে ভোট গ্রহণ

১২ মে, জেরুসালেম পোস্ট, রয়টার্স : ইরাকে ইসলামিক স্টেট (আইএস) জঙ্গিদের সঙ্গে লড়াইয়ে বিজয়ের পর এই প্রথমবারের মতো দেশব্যাপী নির্বাচনের ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। গতকাল সকাল ৭টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ চলে। শনিবার শুরু হওয়া এই নির্বাচনের মধ্যদিয়ে দেশটি পুনর্গঠন শুরু করতে পারবে বলে আশা করা হচ্ছে। 

এবারের নির্বাচনে পার্লামেন্টের ৩২৯টি আসনের জন্য ৭ হাজার প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে যাচ্ছে।

রাজধানী বাগদাদসহ অন্যান্য শহরে ভোট গ্রহণ চলছে। ২০০৩ সালে দেশটিতে মার্কিন আগ্রাসন ও সাদ্দাম হুসাইনকে উৎখাতের পর এখনও অর্থনৈতিকভাবে ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি ইরাক। অধিকাংশ ইরাকিই দেশটির রাজনীতিবিদদের ওপর আস্থা হারিয়েছেন।

ইরানের সঙ্গে পরমাণু অস্ত্র চুক্তি নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে যখন উত্তেজনা তুঙ্গে ঠিক সেই মুহূর্তে নির্বাচনটি অনুষ্ঠিত হতে হচ্ছে। ২ কোটি ৪৫ লাখ ভোটার এবারের এই নির্বাচনে ভোট দিবে।

আই এসের বিরুদ্ধে বিজয় অর্জন করার পরও দেশটিতে অভ্যন্তরীণ সমস্যা রয়ে গেছে। দেশটির শাসন কর্তৃত্ব শিয়াদের হাতে, কুর্দিরা বিশৃঙ্খল অবস্থায় রয়েছে এবং সুন্নিরা পিছিয়ে পড়েছে।

প্রধানমন্ত্রী হাইদার আল-আবাদি ২০১৪ সালে ইরাকব্যাপী আইএস-এর ধ্বংসযজ্ঞের সময় ক্ষমতায় ছিলেন। তিনি জঙ্গিদের পরাজিত ও কুর্দিদের স্বাধীনতার প্রচেষ্টা সামাল দেয়ার দাবি করে নতুন মেয়াদের জন্য ক্ষমতায় যাওয়ার আশা করছেন। 

গতকাল শনিবারের ভোটে অংশ নেওয়া প্রার্থীদের বেশিরভাগই হয় সুন্নি না হয় শিয়া বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিত্ব করছেন; এর বাইরে কুর্দিদেরও আলাদা তালিকা আছে।

গত বছরের সেপ্টেম্বরে কুর্দি নিয়ন্ত্রিত স্বায়ত্তশাসিত কুর্দিস্তান এক গণভোটের মাধ্যমে নিজেদের স্বাধীন ঘোষণার পথে এগিয়ে গেলেও বাগদাদ তাতে বাদ সাধে।

তুরস্কসহ সীমান্তবর্তী দেশগুলোও স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে কুর্দিস্তানকে মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানায়।

কুর্দি নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলোতেও এবারের ভোটে রমরমা প্রচার দেখা গেছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স।

আইএস হটানো, দেশজুড়ে নিরাপত্তা বৃদ্ধিসহ নানান বিষয়ে ইরাকি জনগণ বর্তমান শিয়া নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রশংসা করলেও অনেকেই সরকারের দুর্নীতি ও দুর্বল অর্থনৈতিক অগ্রগতির সমালোচনা করছেন।

 “আমি ভোটে অংশ নেবো এবং ব্যালটে ক্রস চিহ্নে টিক দিবো। কোনো নিরাপত্তা নেই, কোনো চাকরি নেই, কোনো সেবা নেই। প্রার্থীরা সবাই নিজেদের পকেট ভরার চিন্তায় মশগুল, জনগণের সহায়তার চিন্তায় নয়,” বলেন ৬১ বছর বয়সী কসাই  জামাল মাওয়াসাওয়াইয়ি।

ছয় বিশ্বশক্তির সঙ্গে ২০১৫ সালে হওয়া ইরানের পরমাণু চুক্তি থেকে ট্রাম্পের বেরিয়ে যাওয়ার কয়েক দিনের মধ্যে ইরাকের এবারের সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আমেরিকা ও ইরানের দ্বৈরথে পূর্বের মত এবারও ইরাককেই দায় চুকাতে হয় কিনা, তা নিয়েও শঙ্কা আছে অনেক ইরাকির।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ