ঢাকা, রোববার 13 May 2018, ৩০ বৈশাখ ১৪২৫, ২৬ শাবান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

দালালদের কাছে পণবন্দী রোগীরা এম্বুলেন্স সেবা থেকেও বঞ্চিত

রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) সংবাদদাতা : নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স যেন নিজেই অসুস্থ্য হয়ে আছে। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এসে রোগীরা প্রতিদিনই অন্তহীন ভোগান্তির স্বীকার হচ্ছে। হাসপাতালে গুরুতর অবস্থায় আসা অনেক রোগীকেই ঢাকা মেডিকেল কলেজসহ অন্যান্য হাসপাতালে পাঠাতে গিয়ে এম্বুলেন্স পাওয়া যাচ্ছেনা। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একটি মাত্র এম্বুলেন্স রয়েছে। এম্বুলেন্সটি ১ মাস চললে ৬ মাস অকেজো অবস্থায় পড়ে থাকে। এতে করে হাসপাতালে আসা রোগীদের পরতে হয় ভোগান্তিতে। এছাড়া দালালদের কাছে পণবন্দী হয়ে পড়েছে রোগীরা।
সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে গিয়ে দাড়াতেই দেখা গেল একজন মূমূর্ষ রোগী মাটিতে শুয়ে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে। ওই রোগী বিষ পান করেছে। শরীফ নামে ওই মূমূর্ষ রোগী কাপড়ে ময়লা থাকায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে ভেতরে না ঢুকিয়ে হাসপাতালের বাইরে ফেলে রাখে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে রোগীকে ভেতরে নিয়ে যাওয়ার কথা বললে তারা বলে রোগীর ভেতর থেকে বিষ বের করে দেওয়া হয়েছে। তাই রোগীকে বাইরে বের করে দেয়া হয়েছে। এম্বুলেন্সের চালককে এম্বুলেন্স বের করার কথা বলা হয়। কিন্তু এম্বুলেন্সের চালক বাবুল বলে এম্বুলেন্স ৬ মাস ধরে অকেজো হয়ে পড়ে আছে। এম্বুলেন্স অকেজো হয়ে থাকলেও বাবুল প্রতি মাসেই বেতন নিচ্ছে।    
জানা যায়, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ২০০৮ইং সনে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। প্রসূতি, ধাত্রীসেবা কেন্দ্র ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে দালালের দৌড়াত্ম্য দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। হাসপাতালে কর্মরত আয়া ও কর্মচারীরাই জড়িত হয়ে পড়েছে রোগী ভাগিয়ে নেয়ার কু-কর্মে। এতে বাদ যায়নি চিকিৎসকরাও। এতে দিনের পর দিন রোগী ভোগান্তি চরমে ওঠেছে। বাড়ছে হয়রানীও। কিন্তু জনবল ও নানা সরঞ্জামাদী সংকট নিয়ে এতোদিন ঢিলে ঢালাভাবে সেবা দিয়ে আসলেও অত্যধিক প্রাইভেট হাসপাতাল বৃদ্ধি পাওয়ায় দালালের দৌড়াত্ম্য বেড়ে গেছে। এতে হতদরিদ্র ও সাধারণ রোগীদের  সরকারি সেবা বঞ্চিত করতে দালালরা নিয়েছে নানা কৌশল। সরকারি হাসপাতালের সেবা ভাল না এসব বলে রোগীর মনে তৈরী করেছে অনাগ্রহ। তাই আইনি জটিলতা ছাড়া সাধারণ রোগীরা চিকিৎসা নিতে আসেন না এ হাসপাতালে।
স্বাস্থ্য কপ্লেক্সের ভর্তি হওয়া রোগীদের অভিযোগ, রোগীরা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এসে সঠিকভাবে সেবা পাচ্ছে না। এছাড়া সরকারিভাবে ওষুধের বরাদ্দ থাকলেও রোগীদেরকে বাইরে থেকে ওষুধ কিনতে হচ্ছে। এছাড়া হাসপাতালে পায়খানার অবস্থা খুবই অস্বাস্থ্যকর হয়ে আছে। পায়খানার ভেতরে গেলে দূর্গন্ধে সুস্থ মানুষ অসুস্থ হয়ে যাবে। এছাড়া হাসপাতালের বেডের অবস্থা খুবই নগন্ন। রোগীদের আরো অভিযোগ, ইমারজেন্সী রুমে দায়িত্বরত ডাক্তার গীতা রানী দাস রোগীদের সঙ্গে খুব দূর্ব্যবহার করেন। ইমারজেন্সী কোন রোগী গেলে আলাদা করে সম্মানী না দিলে তিনি চিকিৎসা করেন না। হাসপাতাল থেকে ডাক্তারী পরীক্ষা নিরীক্ষা করতে সরকারি খরচ থেকে বাড়তি খরচ নিয়ে থাকেন। এতে হতদরিদ্র ও সাধারণ রোগীরা  সরকারি সেবা বঞ্চিত হচ্ছে।
ভুক্তভোগী রোগীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, হাসপাতালের দায়িত্বরত আয়া রিনা আক্তার ও তার স্বামী নৈশ প্রহরী ও সহকারী ইলেক্ট্রিক মিস্ত্রি  বাবুল মিয়ার অধীনে একটি শক্তিশালী দালাল চক্র গড়ে ওঠেছে। হাসপাতালের পাশেই তাদের বাড়ি থাকায় প্রভাব খাঁটিয়ে খোদ স্বাস্থ্যকর্মকর্তাকেই পণবন্দী কর রাখে বলে রয়েছে অভিযোগ। তাদের ভয়ে হাসপাতালের অন্য কর্মচারীরাও নীরব থাকেন।
 আয়া রিনা আক্তার প্রতিদিন সেজেগুজে হাসপাতালের গাইনি চিকিৎসক সালমা আক্তার ওয়ালিদার টেবিলের পাশে  দাড়িয়ে যান। ওই ডাক্তারের  কাছে আসা একটু সচ্চল রোগীরাই হয় তার প্রধান  টার্গেট। গর্ভবতী ও সাধারণ রোগীদের প্রথমে চিকিৎসকের দেয়া টেস্টগুলো করাতে পাঠায় পাশ্ববর্তি মায়ের ছাঁয়া জেনারেল হাসপাতাল ও মর্ডান ডায়াগনষ্টিক নামে অনুমোদনহীন কিছু প্রতিষ্ঠানে। সেখান থেকে ফিরতি রোগীদের প্রকাশ্যে বলে বেড়ান, “এই হাসপাতালের সেবা ভালো না রোগী মারতে না চাইলে প্রাইভেটে নেন, বইল্লা দিমু ভিআইপি সেবা পাইবেন। এসব কথায় রোগীরা ভয় পেয়ে বাধ্য হয় প্রাইভেট ক্লিনিকে ভর্তি হতে। এতে সরকারি হাসপাতালের দেয়া চিকিৎসা সেবা বঞ্চিত হচ্ছে এখানকার রোগীরা।
সূত্র আরো জানায়, উপজেলার বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর জন্য এ সরকারি চিকিৎসা সেবা কেন্দ্রটিতে নানামূখি সংকট রয়েছে। এক্সরে মেশিন, আলট্রাসনোগ্রাম, এম্বুলেন্সসহ বিভাগী গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসক সংকট রয়েছে।
এ বিষয়ে রূপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার রাশেদুল হাসান মাহমুদ বলেন, এম্বুলেন্সটি ১ মাসের মধ্যে ঠিক করা হবে। রোগীদের ভোগান্তির বিষয়টি সম্পূর্ণ মিথ্যে। এছাড়া হাসপাতালের কোন কর্মকর্তা যদি রোগীদের সাথে খারাপ ব্যবহার করে তাহলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বহিরাগত দালালদের আর রোগী তা চিহ্নিত করা সম্ভব নয়। তাই দালাল নিয়ন্ত্রণ হাসপাতালের দায়িত্ব নয়। তবে অভ্যন্তরীণ কোনো সরঞ্জামাদি ও চিকিৎসক  সংকটের কারণে  দু’একজন  রোগী বেসরকারি হাসপাতালে স্বেচ্চায় ভর্তি হন বলেই জানি।
আন্তর্জাতিক নার্স দিবস উপলক্ষে র‌্যালী
আন্তর্জাতিক নার্স দিবস উপলক্ষে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে র‌্যালী ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার বিকেলে জুনিয়র কনসালটেন্ট শিশু ডা. মাহমুদুর রহমান ফিরোজের সভাপতিত্বে রূপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অডিটোরিয়োমে এ আলোচসা সভা অনুষ্ঠিতক হয়েছে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, ডাঃ রানী চক্রবতী, সামান্তা জাহান, সোয়েব আহম্মেদ, মাকসুদুল হাসান, সাদিয়া জারিফা, ওয়ালিদা, মোস্তাফিজুর রহমান, খায়রুন নাহার, ফাতেমা খাতুন, শিউলী আক্তার, পেয়ারা বেগম প্রমুখ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ