ঢাকা, রোববার 13 May 2018, ৩০ বৈশাখ ১৪২৫, ২৬ শাবান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

রেন্টালের ব্যয় মেটাতে পিডিবি ৮৯ হাজার কোটি টাকা লোকসানে

স্টাফ রিপোর্টার : বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের অনিয়ম-দুর্নীতি অব্যাহত রাখতে দায়মুক্তি আইন আবারও সংশোধন হচ্ছে। গতকাল শনিবার এক সাংবাদিক সম্মেলনে তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির সদস্যসচিব অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ এ কথা জানান।
আনু মুহাম্মদ বলেন, দুর্নীতিকে দায়মুক্তি দিতে ২০১০ সালে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি (বিশেষ বিধান) আইন করা হয়েছিল। এরপর কয়েক দফায় এ আইন সংশোধন করে মেয়াদ বাড়ানো হয়েছিল। ফের ২০২১ সাল পর্যন্ত এ আইনের মেয়াদ বাড়ানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এ আইনের মেয়াদ বাড়ানোর অর্থ হলো বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে সামনে আরও বড় দুর্নীতি সংঘটিত হবে। শনিবার দুপুরে রাজধানীর তোপখানায় বাংলাদেশ শিশু কল্যাণ পরিষদে জাতীয় কমিটির এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় গণফ্রন্টের টিপু বিশ্বাস, সিপিবির রুহিন হোসেন প্রিন্স, বাসদের খালেকুজ্জামান লিপন, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির আকবর খান, কমিউনিস্ট লীগের আবদুস সাত্তার, গণসংহতি আন্দোলনের বাচ্চু ভুইয়া ও বাসদের মহিউদ্দিন লিটন। সাংবাদিক সম্মেলনে  বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি আইন (দায়মুক্তি আইন) বাতিল এবং জ্বালানি খাতে দুর্নীতি ও অনিয়ম বন্ধের জন্য চার দফা দাবিতে ১৪ মে সারা দেশে বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। আনু মুহাম্মদ বলেন, দায়মুক্তি আইন প্রকৃতপক্ষে বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের নামে দুর্নীতি, অনিয়ম ও টাকা পাচারের মতো অপরাধ থেকে দায়মুক্তি পাওয়ার জন্য করা হয়েছিল। আর দুর্নীতি-অনিয়মের কারণেই একের পর এক অসম্ভব ব্যয়বহুল ক্ষতিকর প্রকল্প গ্রহণ করা হচ্ছে। যে কারণে গত আট বছরে বিদ্যুতের দাম বেড়েছে আটবার।
রেন্টাল ও কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের অতিরিক্ত ব্যয় সরকারি কোষাগার থেকে মেটাতে গিয়ে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড ৮৯ হাজার কোটি টাকা লোকসানে পড়েছে। জাতীয় কমিটির চার দফা দাবির মধ্যে রয়েছে, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের অনিয়ম ও দুর্নীতি বন্ধ করতে দায়মুক্তি আইন বাতিল করে এ খাতের সব দুর্নীতির সঠিক তদন্ত ও বিচার করতে হবে, বিদেশনির্ভর এলএনজি আমদানি না করে স্থলভাগে ও সমুদ্রের তলে গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে, সুন্দরবনবিনাশী সব প্রকল্প ও শিল্পকারখানা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে এবং ঋণনির্ভর ও অতি বিপজ্জনক রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্প বাতিল করতে হবে।
 সরকারের সৌর বিদ্যুতের নীতির সমালোচনা করে আনু মুহাম্মদ বলেন, সরকার বলছে দেশে কৃষিজমি কম, সে কারণে বাংলাদেশে সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের সুযোগ নেই। এভাবে কৃষি ও সৌর বিদ্যুৎকে মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিয়ে তারা মূলত ভারত থেকে সৌর বিদ্যুৎ আমদানি করতে চায়। এতে বেশি দামে ভারত থেকে সৌর বিদ্যুৎ কিনতে হবে।
 সাংবাদিক সম্মেলনে বলা হয়, জাতীয় কমিটি মে-জুন মাসে সারা দেশে সাধারণ মানুষের মধ্যে চার দফা দাবির বিষয়ে প্রচার চালাবে। এ ছাড়া মানুষকে আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে বিভিন্ন অঞ্চলে সভা-সমাবেশ করবে। জুলাই মাসে বিভিন্ন বিভাগীয় শহরে সমাবেশ করা হবে। এরপরও সরকারের ভূমিকা অপরিবর্তিত থাকলে জুলাই মাসের শেষে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ