ঢাকা, রোববার 13 May 2018, ৩০ বৈশাখ ১৪২৫, ২৬ শাবান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসা ও মুক্তি দাবি

বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন-বিএফইউজে’র নির্বাহী পরিষদ সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার গুরুতর অসুস্থতায় গভীর উৎকন্ঠা প্রকাশ করে অবিলম্বে বেসরকারি হাসপাতালে তার সুচিকিৎসা এবং পবিত্র রমযানের আগেই  মুক্তির দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে বন্ধ সকল গণমাধ্যম খুলে দেয়া এবং ডিজিটাল সিকিউরিটি আইনসহ সকল কালাকানুন বাতিলের জোর দাবি জানিয়েছে সাংবাদিকদের এই শীর্ষ সংগঠন।
গতকাল শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে অবস্থিত ফেডারেশনের নিজস্ব কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত নির্বাহী কমিটির সভায় গৃহীত প্রস্তাবে এ দাবি জানানো হয়েছে। বিএফইউজে সভাপতি রুহুল আমিন গাজীর সভাপতিত্বে এবং মহাসচিব এম আবদুল্লাহর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় গণতন্ত্র ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা পুনরুদ্ধারে সাংবাদিক সমাজকে ঐক্যবদ্ধ করে রমযানের পর বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ।
সভায় গৃহীত প্রস্তাবে বেগম খালেদা জিয়াকে গণতন্ত্র এবং গণমাধ্যমের বন্ধু ও সুহৃদ হিসেবে বর্ণনা করে বলা হয়, গুরুতর অসুস্থ খালেদা জিয়ার চিকিৎসা না দিয়ে সরকার যে নিষ্ঠুর ও অমানবিক আচরণ করছে তা মৌলিক ও মানবিক অধিকারের পরিপন্থী। খালেদা জিয়া এ দেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে যে ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করেছেন তা  দেশের সাংবাদিক সমাজ কখনও ভুলবে না। কারাবন্দী সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী উন্নত চিকিৎসা না পেলে বড় ধরনের বিপদ ঘটতে পারে বলে ইতিমধ্যে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তার পরও সরকারের নির্বিকার ভূমিকার তীব সমালোচনা করেছেন বিএফইউজের নির্বাহী পরিষদের নেতৃবৃন্দ।
সভায় গৃহীত অপর এক প্রস্তাবে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের নামে স্বাধীন ও অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা এবং মত প্রকাশের স্বাধীনতা রুদ্ধ করার সরকারি অপচেষ্টায় গভীর উদ্বেগ ও তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলা হয়, কুখ্যাত ৫৭ ধারার বিষয়গুলো নতুনরূপে বহাল রাখা এবং ভয়ানক নিবর্তনমূলক ৩২ ধারা সংযোজনের মাধ্যমে প্রমাণ হয়েছে সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতা হরণে নতুন নতুন কালাকানুন করা বর্তমান সরকারের মজ্জাগত অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। গণতন্ত্র, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, মানবাধিকার ও মৌলিক অধিকার হরণকারি সরকার ক্ষমতা চিরস্থায়ী করার জন্য গণমাধ্যমের পায়ে শেকল পরাতে মরিয়া।
সভায় অবিলম্বে বন্ধ সব মিডিয়া খুলে দেয়া এবং মাহমুদুর রহমান, শওকত মাহমুদ, মাহফুজ আনামসহ সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দায়ের করা হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়েছে। তা না হলে সাংবাদিক সমাজকে ঐক্যবদ্ধ করে সারাদেশে ধারাবাহিক কর্মসূচীর মাধ্যমে দাবি পূরণে বাধ্য করা হবে।
সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিএফইউজে’র সহসভাপতি নুরুল আমিন রোকন, মোদাব্বের হোসেন ও শামসুদ্দিন হারুন, সহকারী মহাসচিব আহমদ মতিউর রহমান, কোষাধ্যক্ষ ওবায়দুর রহমান শাহীন, সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী মাসুদ, দফতর সম্পাদক আবু ইউসুফ, প্রচার সম্পাদক আসাদুজ্জমান আসাদ, নির্বাহী সদস্য মুনশী আবদুল মান্নান, সাদ বিন রাবি, সৈয়দ ফজলে রাব্বি ডলার, শাহ আলম শফি, সাদিকুল ইসলাম স্বপন, রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি সরদার আবদুর রহমান, সাংবাদিক ইউনিয়ন বগুড়ার সভাপতি মীর্জা সেলিম রেজা, সাংবাদিক ইউনিয়ন দিনাজপুরের সাধারণ সম্পাদক মাহফিজুল ইসলাম রিপন, সাংবাদিক ইউনিয়ন ময়মনসিংহের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম প্রমুখ। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ