ঢাকা, রোববার 13 May 2018, ৩০ বৈশাখ ১৪২৫, ২৬ শাবান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

বাংলাদেশের সাথে তিক্ত অভিজ্ঞতার অবসান চায় পাকিস্তান সরকার ও দেশটির তরুণ প্রজন্ম

মোহাম্মদ জাফর ইকবাল, পাকিস্তান থেকে ফিরে : [ কিস্তি-৫ ]
 দুই বৃহত্তম মুসলিম রাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান তিক্ত অভিজ্ঞতার অবসান চায় পাকিস্তান সরকার ও দেশটির তরুণ প্রজন্ম। তারা মনে করেন, সময় অনেক হয়েছে। অতীতকে সামনে না এনে ভবিষ্যতে করণীয় কি তা নিয়েই আলোচনা করা উচিৎ। তারা দুই দেশের মানুষের পারস্পরিক বোঝাপড়া বৃদ্ধিতে উভয় দেশের ভিসা জটিলতা দূরীকরণ ও বাণিজ্যিক অসমতা দূর করার উপর জোর দেন। সম্প্রতি পাকিস্তান হাই কমিশনের আমন্ত্রণে বাংলাদেশের একদল সাংবাদিক দেশটি সফর করলে সেদেশের প্রশাসন ও সাধারণ মানুষ এভাবেই খোলাখুলিভাবে তাদের অভিব্যক্তি জানান।
১৯৭১ সালে জনগণের উপর পাকিস্তানি বাহিনীর আক্রমণ, তারপর মুক্তিযুদ্ধ ও ৩০ লাখ মানুষের প্রাণের বিনিময়ে স্বাধীন-সার্বভৌম হয় বাংলাদেশ। স্বাধীনতার দীর্ঘ প্রায় অর্ধশিতক বছর পার হলেও বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধকে কেন্দ্র করে পাকিস্তানের সাথে সম্পর্ক এখনো সেভাবে গড়ে উঠেনি। তবে সময়ের ধারাবাহিকতায় কমে এসেছে সে তিক্ততা। সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে দ্বি-পাক্ষিক সম্পর্কের। পাকিস্তান সরকার ও বর্তমান তরুণ প্রজন্মও চায়, অতীত ভুলে দুই মুসলিম প্রধান দেশ একসাথে কাজ করতে।
বাংলাদেশের সাংবাদিক প্রতিনিধিদলটি পাকিস্তানের করাচি, ইসলামাবাদ, লাহোর ও অবকাশ যাপন কেন্দ্র মারি সফর করেন। এসময় তারা সিন্ধু প্রদেশের গভর্নর, পররাষ্ট্র ও তথ্য সচিব, এডিটর কাউন্সিল, এক্সটারনাল পাবলিক রিলেশন অফিসার, সাংবাদিক ও সাধারণ মানুষের সাথে কথা বলার সুযোগ পান। আলোচনায় বিশেষভাবে স্থান পায় বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের বিষয়টি।
সরকারের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সাংবাদিক এবং সাধারণ মানুষের সাথে আলোচনায় উঠে আসে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের তিক্ত অভিজ্ঞতার বিষয়টি। আলোচনায় দু’দেশের সম্পর্ক উন্নয়নের ক্ষেত্রে ১৯৭১ সালের তিক্ততাকে পাকিস্তানের অধিকাংশরাই বড় করে দেখেন। পাকিস্তান প্রশাসনের কর্মকর্তারা এটিকে তৎকালীন সময়ের একটি রাজনৈতিক অস্থিতিশীল ঘটনা বলে দাবি করলেও সাধারণ মানুষ ও তরুণ প্রজন্ম মনে করেন, মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানের রাজনীতিবিদ-সেনাবাহিনীর ভূমিকা ও এমন পরিস্থিতি পাকিস্তানের জনগণ চায়নি। ওই সময়ে বাংলাদেশে গণহত্যার নির্দেশ যারা দিয়েছিল, তারা ছিলেন বিপথগামী। গণতন্ত্র নয়, ক্ষমতার লোভে তারা এ বর্বও হামলা চালিয়েছে। সাধারণ মানুষ মনে করেন, ওই সময়ে জুলফিকার আলী ভূট্টো যে কোন মূল্যে ক্ষমতায় টিকে থাকতে চেয়েছিলেন। তিনি চেয়েছিলেন অভিভক্ত পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হতে। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নিরঙ্কুশ জয় পেলে প্রধানমন্ত্রী হওয়াটা ছিল তার ন্যায্য দাবি। কিন্তু জুলফিকার আলী ভুট্টো নিজের ক্ষমতাকে টিকিয়ে রাখতে অরাজকতা শুরু করেন। পাকিস্তান ভেঙে ছোট হলেও তার কোন সমস্যা ছিল না, বরং তিনি শুধুমাত্র প্রধানমন্ত্রী হতে চেয়েছিলেন।
জানা যায়, রাষ্ট্র আকারে পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রথম সম্পর্ক তৈরি হয় ১৯৭৪ সালে। ওই বছরের ২২ ফেব্রুয়ারি লাহোরে অনুষ্ঠিত ইসলামী সম্মেলন সংস্থার শীর্ষ সম্মেলনে যোগদানের জন্য বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তান সফরে যান। সেই সময় দু’দেশের সম্পর্ক উন্নয়নে শেখ মুজিব ও জুলফিকার ভুট্টোর মধ্যে দ্বি-পাক্ষিক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। একই বছরের ২৭ জুন জুলফিকার আলী ভূট্টো তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে ঢাকায় আসেন। মূলত তখন থেকেই দু’দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক শুরু হয়। কিন্তু দু’দেশের ক্ষমতার পালাবদলে এই সম্পর্ক সর্বোচ্চ পর্যায়ে নেওয়া সম্ভব হয়নি।
বাংলাদেশের সাথে পাকিস্তানের রাজনৈতিক সম্পর্ক স্থিতিশীল না হওয়ায় তার বিরূপ প্রভাব রয়েছে দু’দেশের বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে। পাকিস্তানের ব্যবসায়ীরা মনে করেন, দু’দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য কম হওয়ার কারণ বাংলাদেশ-পাকিস্তানের মধ্যে যে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য চুক্তি সম্পাদিত হয়েছে তার অধিকাংশ এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। যদি মুক্ত ও অবাধ বাণিজ্য, পণ্যের শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার, বিনিয়োগ সহজীকরণ ও দক্ষতার সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক উন্নয়নে নীতিনির্ধারণ করা যায়, তাহলে দু’দেশের বাণিজ্য বৃদ্ধি করা সম্ভব হবে।
পাকিস্তানীরা জানান, তাদের জন্য বাংলাদেশের ভিসা পাওয়া কঠিন। এমনকি কূটনৈতিক ভিসা পেতে দু’বছরেরও বেশি সময় লাগে। জানা যায়, পাকিস্তানে প্রায় ২০ লাখ বাঙালি বসবাস করেন। তারা জন্মভূমি বাংলাদেশে আসতে, এমনকি যোগাযোগের ক্ষেত্রেও নানা ধরনের বিড়ম্বনায় পড়েন। দু’দেশের সম্পর্ক উন্নয়নে বাংলাদেশের ভিসা সহজীকরণের দাবি জানিয়েছেন সেখানে বসবাসরত বাঙালি ও সর্বস্তরের পাকিস্তানীরা।
করাচিস্থ কাউন্সিল অব পাকিস্তান নিউজপেপার ইডিটরস (সিপিএনই) এর প্রধান কার্যালয়ে কথা হয় বাংলাদেশী নুরুল ইসলামের (৫৮) সাথে। তার গ্রামের বাড়ি ফেনী জেলার পরশুরাম উপজেলাস্থ উত্তর গুথুমার জমিয়ার গং এলাকায়। তিনি প্রায় ৩৬ বছর ধওে পাকিস্তানে বসবাস করছেন। এক ছেলে আরিফুল ইসলাম (২২) এবং মেয়ে সুমি আক্তার (১৪)সহ পরিবারের অন্যরা দেশেই থাকেন। ২০১৪ সালে তিনি সর্বশেষ বাংলাদেশে আসেন। এরপর তিনি আর দেশে আসতে পারেননি। তিনি জানান, দীর্ঘ ২০ সময় ধরে তিনি পাকিস্তানী পাসপোর্টধারী ছিলেন। তিনবছর আগে তার পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। তিনি পাসপোর্টের জন্য বাংলাদেশ দূতাবাসে আবেদন করলেও পার্সপোর্ট হচ্ছেনা। তিনি জানান, আবেদনের সময় বাংলাদেশ দূতাবাসে তিনি জন্ম নিবন্ধন, জাতীয় পরিচয়পত্র, চেয়ারম্যান সার্টিফিকেট এবং পিতামাতার জন্মনিবন্ধন কার্ড সাবমিট করেন। কিন্তু বাংলাদেশ দূতাবাস বলছে দেশেই পার্সপোর্টের জন্য আবেদন করতে হবে। নুরুল ইসলাম জানান, তিনি খুব উদ্বিগ্ন দেশে ফেরা নিয়ে। এখানে তিনি অবৈধভাবে বসবাস করছেন। তিনি দেশে ফিরতে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। বর্তমানে তিনি সিপিএনই নেতা আমের মাহমুদেও বাসায় রান্নার কাজ করছেন বলে জানান।
এদিকে পাক-ভারত সীমান্তে কাশ্মিরে ভারতীয় দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে কাশ্মিরী জনগণের মুক্তি আন্দোলনে বাংলাদেশের সর্বাত্মক সমর্থন চায় পাকিস্তানীরা। তারা মনে করেন, সৌদী আরব, তুর্কিসহ বিশ্বের অন্যান্য মুসলিম দেশগুলোর মতো বাংলাদেশেরও কাশ্মির সমস্যায় হস্তক্ষেপ করা উচিৎ। একটি আন্তর্জাতিক সংস্থার তথ্য-উপাত্ত তুলে ধরে তারা জানায়, কাশ্মিরে ১৯৮৯ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৭ সালের মে পর্যন্ত গণধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে প্রায় ১০ হাজার ৮৭২টি। হত্যাকান্ড হয়েছে ১ লাখের বেশি। নিরাপত্তা হেফাজতে খুন হয়েছে ৭ হাজর ৮৬ জন, বিধবা হয়েছেন ২২ হাজার ৮৩৬ জন, এতিম হয়েছে ১ লাখ ৭ হাজার ৮৭২ জন শিশু। এসময়ের মধ্যে উচ্ছেদ করা হয়েছে ৮ থেকে ১০ হাজার নিরীহ মানুষকে। ভারতীয় সেনা ও নিরাপত্তারক্ষীদের হামলায় আহত হয়েছে দেড় লাখের বেশি মানুষ। আটক হয়েছেন ১ লাখ ৪১ হাজার ১৬৬ জন। পিলেট (ছররা) গুলিবিদ্ধ হয়েছে ১ হাজার ১৭৮ জন। পাকিস্তানের জনগণ মনে করেন, এ সব বিষয়ে সমাধান করা সম্ভব হলে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যকার সম্পর্ক উন্নয়নে বাধা দূরীভূত হবে। মুসলিম জনগণের ঐক্যের জন্য হলেও নিজেদের জায়গা থেকে ছাড় দেওয়া প্রয়োজন। আর সমস্যার সমাধান তখনই করা সম্ভব হবে যখন দুটি দেশ পারস্পরিক সহমর্মিতা ও আন্তরিকতা নিয়ে এগিয়ে আসবে। এটা অনুধাবন করতে হবে যে, সম্পর্ক উন্নয়ন হলে দু’দেশই সার্বিকভাবে লাভবান হতে পারবে।
দুই দেশের সম্পর্কেও বিষয়ে সিপিএনই এর সেক্রেটারি জেনারেল আজিজুল হক বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধকে কেন্দ্র করে দুই দেশের তিক্ততা এখনো রয়ে গেছে। আমরা চাই, দুই সরকারের হস্তক্ষেপে সেটি দ্রুত নিরসন হোক। দেশের তরুণ প্রজন্ম বাংলাদেশ সম্পর্কে জানতে চায়। যদি তথ্য আদান প্রদানসহ যাতাযাত সহজ হয় তাহলে সম্পর্ক বৃদ্ধি পাবে। এতে করে দুই দেশই লাভবান হবে।
সিন্ধু প্রদেশের গভর্নর মো: জোবায়ের ওমর বলেন, মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে অনেক কিছু হয়েছে। আমরা বলেছি সেটি ছিল রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত। এরসাথে দেশের জনগণের কোনো সম্পর্ক নেই। আমরা চাই সম্পর্কের উন্নতি ঘটুক।  তিনি অন্যান্য দেশের উদাহরণ টেনে বলেন, জাপান ও চীনের মধ্যে একসময় যুদ্ধ হয়েছে। আমেরিকার সাথে ভিয়েতনামের দীর্ঘ যুদ্ধ হয়েছে। ফ্রান্স ও ব্রিটেনের মধ্যে তিক্ততা খুবই প্রাচীন। কিন্তু এ দেশগুলো অতীতের তিক্ততা ভুলে গিয়ে কাছাকাছি এসেছে এবং সব ধরনের সম্পর্ক বৃদ্ধি পাচ্ছে তাদের মধ্যে। তারা সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। আমরাও এগিয়ে যেতে চাই।
তিনি বলেন, বালাদেশের সাথে পাকিস্তানের বিভিন্ন বিষয়ে সম্পর্ক বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষ করে ক্রিকেটের কথা বলবো। দুই দেশের খেলোয়াড়রা তাদের ঘরোয়া লীগে খেলছে। অনেক পাকিস্তানী ক্রিকেটার প্রতিবছর বাংলাদেশে খেলছে। বাংলাদেশের তামিম ইকবাল এখানে খুব জনপ্রিয়। আমাদের জনগণ পাকিস্তানের পাশাপাশি একমাত্র দেশ তা হচ্ছে বাংলাদেশ। যেই দেশকে আমরা সমর্থন করি। তিনি বলেন, অন্যঅন্য ক্ষেত্রে দুই দেশের সম্পর্ক অতোটা ভালো সেটি বলা যাবেনা। পাকিস্তানের পক্ষ থেকে সবসময় ইতিবাচক আহবান অব্যাহত থাকবে।  আমাদের উচিৎ হবে অতীত ভুলে যাওয়া। জনগণ কি চায় সেটিই এখন দেখতে হবে। তিনি বলেন, প্রত্যেক পাকিস্তানীর ভারতীয় বন্ধু আছে। কিন্তু ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও পাকিস্তানীরা তরুণরা বাংলাদেশীদের সেভাবে পাচ্ছেনা।
দুই দেশের জনগণের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক সম্পর্কে ক্ষশতাসীন দলের এই নেতা আরো বলেন, আমরা ভাই ভাই। দুই দেশের মধ্যে ঐতিহাসিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও প্রধানত ধর্মের অনেক মিল রয়েছে। সুতরাং, আমরা আমাদের মধ্যে ভাই-বোন সম্পর্ক গড়ে তুলতে চাই। আমরা জানি না, কেন আপনার (বর্তমান) সরকার আমাদের ভিসা দিচ্ছে না। ভিসার উপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা  রয়েছে। গত কয়েক বছরে সাধারণ মানুষ ছাড়াও কূটনীতিককেও ভিসা দেয়া হচ্ছেনা। যোগ করেন গভর্নর। তথ্য মন্ত্রণালয়ের এডিশনাল সেক্রেটারি শাফকাত জলিল বলেন, বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল রাষ্ট্র। দেশটি পাকিস্তান থেকেও অনেক উন্নতি করেছে। আমরা তাদের সাথে একসাথে কাজ করতে চাই। আমরা চাই, দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্কটা আরো উন্নত করুক। সব ধরণের ইস্যু নিয়ে আমরা বাংলাদেশের সাথে কাজ করতে আগ্রহী। তিনি বলেন, বাংলাদেশ আমাদের ভিসা দিতে গড়িমসি করে। অনেক সময় ভিসা দেয়না। কিন্তু আমরা বাংলাদেশের কোনো ভিসার আবেদন ফিরিয়ে দেইনা।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র সচিব তাহমিনা জানজুয়া বলেন, বাংলাদেশ এবং পাকিস্তানের মধ্যে সম্পর্কটা ঐতিহাসিক। এটি কেউই অস্বীকার করতে পারবেনা। পাকিস্তান ও ভারত পৃথক হবার সময় বাংলাদেশের অনেকেই নেতৃত্ব দিয়েছেন। ওখানে অনেক গ্রেট নেতার জন্ম হয়েছে। পাকিস্তানের জনগণ বিশ্বাস করে বাংলাদেশ-পাকিস্তানের মধ্যে অনেক জায়গায় মিল রয়েছে। বিশেষ করে ক্রিকেটের কথা বলবো। এখানে দুই দেশের বুঝা পড়া অনেক ভালো। আমরা চাই পাকিস্তান ও বাংলাদেশের সম্পর্কটা আরো গভীর হোক।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ