ঢাকা, রোববার 13 May 2018, ৩০ বৈশাখ ১৪২৫, ২৬ শাবান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

রমযানের প্রস্তুতি

অধ্যাপক অবদুছ ছবুর মাতুব্বর : আমরা কিভাবে রমযানের প্রস্তুতি নিব, এই মহিমাম্বিত মাসে কোন কাজটি উত্তম? এ বিষয়ে সঠিক ধারনা নেয়া আমাদের সকলের জন্যই জরুরী। রোযার প্রস্তুতি বিষয়ে কি করণীয়? এ সম্পর্কে বহু মানুষের ধ্যান ধারনার বিকৃতি ঘটেছে। বিকৃত মানুষগুলো এই মাসকে খাদ্য, পানীয়, মিষ্টি-মন্ডা খাওয়া, অর্থহীন! রাত জাগা ও স্যাটেলাইট চ্যানেলগুলো দেখার মৌসুম বানিয়ে ফেলেছে। আর এ জন্য তারা রোযার (রমযান) মাস আসার আগ থেকেই অনাকাংখিত প্রস্তুতি নিতে শুরু করে। তারা আশংকা করে খাদ্য-দ্রব্য ক্রয় বাদ পড়তে পারে, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি পেতে পারে তাই তারা হরেক রকমের খ্যাদ্যের সমাহার ঘঁটাতে থাকে।
কোন চ্যানেল দেখবে! কোন অনুষ্ঠান দেখবে! সেজন্য স্যাটেলাইট চ্যানেলগুলোর গাইড খোজ করে! টিভি স্কীনে নিয়মিত চোখ রাখে ইত্যাদি। আঁক্ষেপ এভাবেই রমযান মাসের প্রকৃত অবস্থা সম্পর্কে মুসলিম সমাজ অজ্ঞ থেকে যায়। অথচ রমযানের প্রস্তুতি হওয়া উচিত ঃ ১. পূর্বেই একনিষ্ঠ তওবা করা ঃ যেহেতু এক মহান মুবারক (বরকতময়) মাসের দিকে আমরা যাচ্ছি তাই আমাদের জীবনে যে গুনাহ্গুলো আছে তা থেকে তওবা করতে হবে। কারণ পবিত্র মন ও প্রশান্ত হৃদয় নিয়ে এই মাসের ইবাদাতে নিজেকে মশগুল রাখতে হবে। আল্লাহ তায়লা বলেন “ তুবু ইলাল্লাহি জামিয়া আইয়্যুহাল মু‘মিনূনা লা“য়াল্লাকুম তুফলিহুন” আর তোমরা সবাই, হে মুমিনরা আল্লাহ তায়ালার নিকট তওবা কর যাতে করে সফলকাম হতে পার। সুরাহ নূর ৩১।
হাদীসে আল্লাহর রাসুল (সল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম) বলেন “ ইয়া আইয্যুহান্নাছ তুবু ইলাল্লাহি  ফা ইন্নি আতুবু ফিল ইয়াওমি ইলাইহে মিয়াতা” অর্থ হে লোক সকল, তোমরা আল্লাহ তায়ালার নিকট তওবা কর, আমি তার নিকট দৈনিক ১০০ (একশত বার) তওবা করি” সহীহ মুসলিম হাদীস নং ২৭০২। ২. আল্লাহ তায়ালার নিকট দোয়া করা ঃ একজন মুসলিম তার রবের কাছে দোয়া করবে- যাতে তিনি তাকে রমযান মাস পাওয়ার তাওফিক দান করেন, সর্বোত্তম দ্বীনি অবস্থায় রাখেন এবং শারীরিকভাবে সুস্থ রাখেন, সর্বদা যেন তার আনুগত্য করেন এবং তার আমল কবুল করেন। ৩. রমযান মাসের আগমনে আনন্দিত হওয়া ঃ রমযান মাসের আগমন মুসলিম বান্দার প্রতি আল্লাহ তায়ালার নিয়ামতগুলোর অন্যতম একটি।  কারণ এ মাসে জান্নাতের দরজাসমূহ খুলে দেয়া হয় এবং জাহান্নামের দরজাসমূহ বন্ধ করে দেয়া হয়। রমযান মাস হলো কুরআনের মাস এ মাসে কুরআন অবতীর্ণ করা হয়েছে। ৪. ওয়াজিব রোযা থেকে নিজেকে মুক্ত করা : অর্থাৎ গত বছরের রমযানে শরয়ী  (অসুস্থতা ও সফরের) কারণে যে কয়টি রোযা রাখতে পারে নাই তা আদায় করা। এ প্রসংগে হাদীস- হযরত আবু সালামাহ বলেন আমি আয়শা (রা:)কে বলতে শুনেছি “ আমার উপর বিগত রমযানের রোযা বাকী থাকত যার কাযা আমি শাবান মাস ছাড়া আদায় করতে পারতাম না”। সহীহ আল বুখারী। হাদীস নং ১৮৪৯ এবং সহীহ আল মুসলিম। হাদীস নং ১১৪৬।
এ প্রসংগে ইবনে হাজার রাহিমুল্লাহ বলেন  আয়শা (রা:) এর হাদীস প্রমাণ করে যে, এক রমযানের অনাদায়ী রোযা পরের রমযান আসা পর্যন্ত দেরী করা যায়েয নেই। অর্থাৎ এক রমযানের কাযা রোযা পরবর্তী রমযান আসার পূর্বেই আদায় করতে হবে। ফতহুল বারী (৪/১৯১। ৫. পর্যাপ্ত ইলম(ঞ্জান) অর্জন করা ঃ রমযান মাসের রোযা পালনের হুকুম-বিধি-বিধান, মাসয়ালা অবশ্যই জানতে হবে। রমযান মাসের ফযিলত ও রোযার ফজিলতের বর্ণনা  জানতে হবে। ৬. রমযান মাসের ইবাদাত থেকে একজন মুসলিমকে বিরত রাখতে পারে এমন সম্ভাব্য কাজ রমযান মাস আসার আগেই দ্রুত শেষ করতে হবে। যেমন প্রয়োজনীয় বাজার করা, আত্মীয়-স্বজনের খোঁজ নেয়া, রমযান মাসে এমন কি কাজ আছে যা না করলেই নয় তার পরিকল্পনা করা। ৭. পরিবারের সদস্যবর্গ যেমন স্ত্রী ও সন্তানদের সাথে নিয়ে বসা এবং তাদেরকে রোযার হুকুম-আহকাম, বিধি-বিধান, মাসয়ালা শিক্ষা দেয়া ও স্মরণ করিয়ে দেয়া। রমযান মাসের মর্যদা,গুরুত্ব, তাৎপর্য, রোযার মর্যাদা, গুরুত্ব ও তাৎপর্য শিক্ষা দেয়া। ৮. রমযান মাসে পড়ার জন্য নিজ বাড়িতে বই সংগ্রহ করা, অন্যকে বই উপহার দেয়া বিশেষ করে মসজিদের ইমাম সাহেবকে এমন বই দেয়া যাতে ইমাম সাহেব মুসল্লীদের শিক্ষা দিতে পারেন। ৯. রমযান মাসের প্রস্তুতিস্বরূপ শাবান মাস থেকেই রোযা রাখা শুরু করা। হাদীসে বর্ণিত আছে, আয়শা (রা:) বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লামকে রমযান মাসের রোযা ছাড়া অন্য কোন মাসের গোটা অংশে রোযা পালন করতে দেখিনি এবং শাবান মাস ছাড়া অন্য কোন মাসে অধিক রোযা পালন করতে দেখিনি।
সহীহ আল বুখারী, হাদীস নং ১৮৬৮ এবং সহীহ আল মুসলিম, হাদীস নং ১১৫৬। কেহ কেহ বলেন, ফরয নামাযের পূর্বের সুন্নাত নামাজ যেমন ফরয নামায আদায়ে মনকে প্রস্তুত করে এবং উৎসাহিত করে তেমনি শাবান মাসের রোযা রমযান মাসের রোযা পালনে মন ও শরীরকে প্রস্তুত করে এবং উৎসাহিত করে। ১০. শাবান মাসে বেশী-বেশী কুরআন তিলাওয়াত করা : সালামাহ ইবনে কুহাইল বলেন “শাবান মাসকে ক্কারীগণের মাস বলা হতো। আমর ইবনে কাইস  শাবান মাস শুরু হলে তার দোকান বন্ধ করে কুরআন তিলাওয়াতের  জন্য অবসর নিতেন। অল্লাহ আমাদেরকে রমযান মাস ও রোযার গুরুত্ব- তাৎপর্য বুঝার এবং আমল করার তাওফিক দান করুন ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ