ঢাকা, রোববার 13 May 2018, ৩০ বৈশাখ ১৪২৫, ২৬ শাবান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

কর্ণফুলী নদী রক্ষায় চট্টগ্রাম আঞ্চলিক সংস্কৃতি একাডেমির বিভিন্ন কর্মসূচি পালন

চট্টগ্রাম ব্যুরো : কর্ণফুলী দখল দূষণ মুক্ত করতে নদীর উভয় তীরের দশ লক্ষাধিক মানুষকে সম্পৃক্ত করে দিন ব্যাপী ‘বিনি সুতার মালা’ শীর্ষক অনুষ্ঠান মঙ্গলবার  (৮ মে) সকাল নয়টায় নগরীর সদরঘাট থেকে শুরু হয়েছে। সদরঘাট থেকে চন্দ্রঘোনা দোভাষি বাজার পর্যন্ত ৫০ কিলোমিটার ব্যাপী এই অনুষ্ঠান দিন ব্যাপী চলবে। চট্টগ্রাম আঞ্চলিক সংস্কৃতি একাডেমির আয়োজনে কর্ণফুলী নদী সাম্পান মাঝি কল্যান সমিতি ফেডারেশনের তত্ত্ববধানে তিন ব্যাপী ‘সাম্পান খেলা ও চাঁটগাইয়া সংস্কৃতি মেলার’ প্রথম দিনের অনুষ্ঠান হচ্ছে ‘বিনি সুতার মালা’। নদীর উভয় তীরের ত্রিশটি ঘাটে এবং নদীর তীরস্থ জনবসতী ঘিরে আলোচনা, নাচ, গানের মাধ্যমে কর্ণফুলী নদীকে স্বচ্ছ রাখতে নদী ব্যবহারকারীদের সচেতন করতেই দিন ব্যাপী এই আয়োজন।
ভাসমান বোটে মঞ্চে পাহাড়ি নাচ, আলোচনা, আঞ্চলিক গানের অনুষ্ঠানমালা সদরঘাট, চরপাথরঘাটা, নয়াহাট, কালুরঘাট, বোয়ালখালী, লাম্বুরহাট, গোচরা বাজার, গোডাউন ঘাট, ইছাখালী ঘাট, গোদালাঘাট, চৌধুরী হাট, দোভাষী বাজার ইত্যাদি স্থানে আয়োজন করা হয়।
দিনব্যাপী অনুষ্ঠান মালার ডায়মন্ড সিমেন্টের সৌজন্যে বিনি সুতার মালা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে চুয়েট প্রফেসর ড. স্বপন কুমার পালিত বলেন, কর্ণফুলী দখল ও দূষণে মানুষের চেয়ে নদী ব্যবহারকারী প্রতিষ্ঠানগুলো দায়ভার বেশি। বন্দর মোহনা থেকে কালুরঘাট পর্যন্ত কর্ণফুলী নিয়ন্ত্রণ করার দায়িত্ব চট্টগ্রাম বন্দর কর্তপক্ষের। কিন্তু তারা কখনও সঠিক দায়িত্ব পালন করেনি। কর্ণফুলীতে নোঙ্গরকারী শত শত জাহাজের পোড়া তেল প্রতিনিয়ত কর্ণফুলীতে ফেলছে। বন্দর নিরব। চট্টগ্রাম মহানগরীর ৭০ লক্ষ মানুষ সৃষ্ট বর্জ্য সরাসরি কর্ণফুলী পড়ছে। এক্ষেত্রে এখন পর্যন্ত ওয়াসা নিরব দর্শক।
নদীর উভয় তীরের শতাধিক শিল্প কারখানা, বাজার, ঘাটের মাধ্যমে নদী দূষণ হচ্ছে। কিন্তু দেখার কেউ নাই। এভাবে চলতে দেয়া যায় না। কর্ণফুলী রক্ষায় সামাজিক আন্দোলন আরো জোরদার কার বিকল্প নাই। খর¯্রােতা না হলে অনেক আগেই কর্ণফুলী বুড়িগঙ্গা হয়ে যেত।
কর্ণফুলী জোয়ার বাটা রাসায়নিক ও মানুষ্য সৃষ্ট বর্জ্য সাগরে নিয়ে যাচ্ছে। এতে সাগরের দূষণ দিন দিন বেড়ে চলেছে। বক্তব্যে চট্টগ্রাম আঞ্চলিক সংস্কৃতি একাডেমির চেয়ারম্যান আলীউর রহমান বলেন, ক্যাপিটাল ড্রেজিং এর অব্যবস্থাপনা কর্ণফুলীর প্রাকৃতিক রূপ ও সৌন্দর্য্য নষ্ট করছে। বন্দর কর্তৃপক্ষ এই প্রকল্প নিয়ে গত দশ বছর ধরে তাল বাহানা করছে।
আগামী তিন মাসের মধ্যে কর্ণফুলীর উভয় তীরের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে ক্যাপিটাল ড্রেজিং বাস্তবায়ন না করলে  জোরদার আন্দোলন করা হবে। বক্তব্যে ডায়মন্ড সিমেন্ট লিমিটেড এর ব্রান্ডিং এবং কমিউনিকেশন ম্যানেজার মোহাম্মদ আমান উল্লাহ চৌধুরী বলেন, কর্ণফুলী রক্ষায় ডায়মন্ড সিমেন্ট সব সময় সাম্পান মাঝিদের সাথে ছিল আগামীতেও থাকবে। কর্ণফুলী বাঁচলে বাংলাদেশ বাঁচতে কথাটি এখন আন্দোলনে রূপ নিয়েছে।
কর্ণফুলী নদী সাম্পান মাঝি কল্যাণ সমিতি ফেডারেশন সভাপতি এস এম পেয়ার আলীর সঞ্চালনায় এবং উক্ত সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক শাহ আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন চরপাথরঘাটা ইউনিয়ন প্যানেল চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক মেম্বার। অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন কর্ণফুলী নদী সাম্পান মাঝি কল্যাণ  সমিতি ফেডারেশনের উপদেষ্টা ইঞ্জিনিয়ার মির্জা মোহাম্মদ ইসমাইল, চরপাথরঘাটা সাম্পান মাঝি কল্যান সমিতির সভাপতি জাফর আহমদ,শিল্পা গীতা আচার্য্য, শিল্প মিলন আচার্য্য, ইছানগর সগরঘাটা সাম্পান মাঝি কল্যান সমিতির সাবেক সভাপতি আলী হায়দার, কর্ণফুলী নদী মাছও মালবাহী সমিতির সভাপতি মীর আহম্মদ, চরপাথরঘাটা ব্রিজঘাট সাম্পান মাঝি কল্যান সমিতির সহ-সভাপতি জিন্নাত আলী প্রমুখ। অনুষ্ঠানের ভাসমান জাহাজে নৃত্য পরিবেশন করেন পলিয়ন বোমাং ও তার দল।
তিনদিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালার দ্বিতীয় দিন সকাল ১১টায় নগরীর অভয়মিত্র ঘাট থেকে সাম্পান শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়।
বৃহস্পতিবার বিকাল তিনটায় অভয়মিত্র ঘাট থেকে চরপাথরঘাটা সিডিএ মাঠে সাম্পান খেলা ও চাঁটগাইয়া সংস্কৃতি মেলা অনুষ্ঠিত হয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ