ঢাকা, সোমবার 14 May 2018, ৩১ বৈশাখ ১৪২৫, ২৭ শাবান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

ক্রিকেটারদের ফিটনেস সচেতনতায় আমি তৃপ্ত --ভিল্লাভারায়েন

স্পোর্টস রিপোর্টার : আফগানিস্তান ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজকে সামনে রেখে গতকাল থেকে শুরু হয়েছে জাতীয় ক্রিকেট দলের ক্যাম্প। প্রথম দিনে উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক দলে ডাক পাওয়া প্রায় সব খেলোয়াড়ই। তবে আইপিএল খেলতে যাওয়ায় ছিলেন না সাকিব আল হাসান ও মোস্তাফিজুর রহমান। গতকাল সকাল সাড়ে ৮টা থেকেই উপস্থিত হতে থাকেন প্রাথমিক স্কোয়াডে ডাক পাওয়া ক্রিকেটাররা। পৌনে ৯টা থেকে ট্রেনার মারিও ভিল্লাভারায়েনের অধীনে রিপোর্ট করা শুরু করেন তারা। এরপর ৯টা থেকে শুরু হয় অনুশীলন। মূলত এদিন টাইগারদের ফিটনেস নিয়েই কাজ করা হয়। বিপ টেস্ট দিয়েই শেষ হয় এদিনের অনুশীলন। ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের পর বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগের (বিসিএল) এক রাউন্ড অনুষ্ঠিত হয়েছিলো এ মাঠে। এরপর থেকেই ছুটিতে ছিলেন ক্রিকেটাররা। মূলত হার্টে অক্সিজেন সরবরাহের পরিমাণ মাপা হয় বিপ টেস্টে। এ টেস্টে ১০ এর নিচে স্কোর হলে বুঝতে হয় হার্টে যে পরিমাণে অক্সিজেন সঞ্চালিত হওয়ার কথা তা হচ্ছে না। তবে এ নিয়ে বড় কোন দুশ্চিন্তার কারণ নেই।

 নিয়মিত খাওয়া দাওয়া এবং ফিজিওদের দেয়া পরামর্শ অনুযায়ী অনুশীলন করলে অল্প দিনেই তা ঠিক হয়ে যায়। প্রথম দিনে বিপ টেস্টে উতরেছেন সব খেলোয়াড়ই। তবে খুব একটা ভালো অবস্থানে নেই ইনজুরি থেকে ফেরা রুবেল হোসেন ও তামিম ইকবাল। এছাড়াও অভিজ্ঞ স্পিনার আব্দুর রাজ্জাক বিপ টেস্টে কম স্কোর তুলতে পেরেছেন। বিপ টেস্টের জন্য ন্যুনতম স্বাভাবিক স্কোর ১০ ধরা হলেও রুবেল পেয়েছেন ৮.২। তামিমের ৯.১৪ এবং রাজ্জাকের ৯.৪। বিপ টেস্টে সবচেয়ে ভালো করেছেন মেহেদী হাসান মিরাজ। ১২.৫ নিয়ে তিনি সবার শীর্ষে। তার পরেই আছেন মুশফিকুর রহিম, সৌম্য সরকার ও সাব্বির রহমান। তাদের স্কোর সমান ১২.১। ১২.০ নিয়ে তাদের পেছনেই মুমিনুল হক ও নাঈম হাসান। আফগানিস্তান ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরকে সামনে রেখে ফিটনেস টেস্ট দিয়েই শুরু হয়েছে টাইগারদের অনুশীলন ক্যাম্প। ক্রিকেটারদের এক মাসের বিশ্রাম থাকলেও কিছু কিছু খেলোয়াড় নিজ উদ্যোগে ফিটনেস নিয়ে কাজ করেছেন। এটাকেই বড় পাওয়া মনে করছেন ভিল্লাভারায়েন। মারিও ভিল্লাভারায়েন বলেন, ‘ ক্রিকেটারদের মানসিকতায় বিশাল পরিবর্তন হয়েছে, অনেক বড় পরিবর্তন। আজকে সকালেই আমি ছেলেদের বলছিলাম, চার বছর হয়ে গেল। ২০১৪ সালের  মে মাসে এসেছিলাম। 

দারুণ চারটি বছর কাটল। অনেক বদল এসেছে। এবারই যেমন কলম্বোতে ছুটি কাটানোর সময় আমি জানতে পারলাম, তামিম নিজের তাগিদেই ফিটনেস ট্রেনিং করছে। আরও অনেকেই নিজে থেকে করছে। এসব আমাকে দারুণ তৃপ্তি দিয়েছে। আমি যখন এখানে এসেছিলাম, ঠিক এমনটিই চেয়েছিলাম। চেয়েছিলাম যে মূল দায়িত্বটি ক্রিকেটারদেরই নিতে হবে এবং নিজের তাগিদে ফিটনেস ট্রেনিংয়ের অভ্যাস গড়তে হবে। সেই কারণেই বলছি,  ছেলেদের মানসিকতায় অনেক উন্নতি হয়েছে।’ বাংলাদেশ ক্রিকেটের সঙ্গে এর মধ্যেই চার বছর কেটে গেছে ভিল্লাভারায়েনের। শুরু দিকে খেলোয়াড়দের ফিটনেস নিয়ে কাজ করতে খুব একটা  দেখেননি তিনি। তবে বর্তমানে মানসিকতার অনেক বদল দেখছেন। কঠিন পথটা পাড়ি দিয়েছেন। 

আর আশা করছেন এপথেই থাকবেন ক্রিকেটাররা। তিনি বলেন, ‘শুরুতে অনেক কষ্ট করতে হয়েছে আমাকে। ওদেরকে বোঝাতে হয়েছে কেন এটা ভীষণ জরুরি। সেই পরিশ্রমের ফল মিলতে শুরু করেছে। সবাই এখন অনেক সচেতন। আমি তো আজীবন এখানে থাকব না। তবে আশা করি, আমি যাওয়ার পরও ওরা এমনই থাকবে।’ ফিটনেস ট্রেনিংয়ে খেলোয়াড়রা গা গরম করতে ফুটবল খেলে থাকেন। আর সাম্প্রতিক সময়ে এটা করতে গিয়েই ইনজুরিতে পড়েছেন অনেক ক্রিকেটার। তবে জাতীয় দলের ক্যাম্পে এ নিয়ে যথেষ্ট সচেতন থাকেন বলেই জানালেন ভিল্লাভারায়েন। ্

এ নিয়ে তিনি বলেন, ‘যখন আমি থাকি, তখন আমি একটি গাইডলাইন ঠিক করে দেই যে এভাবে খেলতে হবে। যেন বিশৃঙ্খলভাবে না  খেলে। এজন্যই জাতীয় দলে খেলার সময় ফুটবলে বড় কোনো ইনজুরি গত চার বছরে হয়নি। কিন্তু ঘরোয়া ক্রিকেটে বা অন্য জায়গায় তো আমি দেখভাল করতে পারব না। অবশ্যই এখানে ঝুঁকি আছে। দায়িত্বটি ক্রিকেটারদের নিজেদেরই নিতে হবে। নিজের ভালো বুঝতে হবে।’

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ