ঢাকা, সোমবার 14 May 2018, ৩১ বৈশাখ ১৪২৫, ২৭ শাবান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

এসব কী চলছে?

ধর্মতো মানুষকে শুদ্ধি ও সংযমের কথা বলে। ধর্ম ন্যায় ও কল্যাণের কথা বলে। ধর্ম স্বধর্ম পালনে নিষ্ঠার কথা বললেও অন্য ধর্মাবলম্বীদের প্রতি হিংসা কিংবা বিদ্বেষমূলক আচরণ করতে বলে না। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো, বর্তমান সময়ে অনেকেই ধর্মের নামে এমন অনাকাক্সিক্ষত ও উগ্র আচরণ করে থাকেন, যা ধর্মের বার্তা বা মর্মবাণীর সাথে যায় না। বরং এদের আচরণে প্রকৃত ধার্মিকরা লজ্জিত হন। তাই প্রশ্ন জাগে, এরা কোন্্ ধর্মের অনুসারী, এদের ধর্মগ্রন্থ কিংবা ধর্মগুরুর নাম কী?
যখন খবরের শিরোনাম হয়, ‘ভারতের ৮৮ স্থানে নামাজ পড়া নিষিদ্ধ ঘোষণা’, তখন প্রশ্ন জাগে, হিন্দু ধর্মের কোন্্ গ্রন্থে লেখা আছে, মুসলমানদের নামাজ পড়তে দেওয়া যাবে না? ধর্ম কি এমন নির্দেশ দিয়েছে, নাকি উগ্র সাম্প্রদায়িক চেতনায় বিভ্রান্ত রাজনীতিকদের স্বার্থান্ধ প্ররোচণায় এমন বিদ্বেষমূলক কর্মকা- চলছে? একটি ধর্মনিরপেক্ষ ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে এমন কর্মকা- কেমন করে চলে? ১১ মে এনডিটিভিসহ ভারতের বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, ভারতের হারিয়ানা রাজ্যের গুড়গাঁও জেলায় খোলা স্থানে জুমার নামাজ আদায় হয় এমন ১২৫টি স্থানের মধ্যে মাত্র ৩৭ স্থানে গত শুক্রবার (১১ মে) জুমার নামাজ আদায়ের অনুমতি দিয়েছে পুলিশ প্রশাসন। বাকি ৮৮ স্থানে জুমার নামাজ আদায়ে সাময়িকভাবে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। ভারতীয় গণমাধ্যম জানায়, হিন্দু চরমপন্থী সংগঠনগুলোর হুমকির মুখে ৩৭টি স্থানে পুলিশ প্রহরায় শুক্রবার জুমার নামাজ আদায় করা হয়েছে। মুসলমানদের খোলাস্থানে জুমার নামাজ আদায়ে নিষেধাজ্ঞা আরোপের জন্য গত কয়েক সপ্তাহ ধরে আন্দোলন করে আসছিল স্থানীয় হিন্দু চরমপন্থী সংগঠনগুলো।
নামাজে বাধা দেওয়ার ঘটনাগুলো ঘটেছে ওয়াজিরাবাদ,  অতুল কাটারিয়া চক, সাইবার পার্ক, বাখতাওয়ার চক ও সাউথ সিটিতে। সংবাদ সংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, জুমার নামাজ আদায়ে বাধা দিতে দেখা গিয়েছে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ, বজরং দল, হিন্দু ক্রান্তি দল, গোরক্ষক দল ও শিব সেনা কর্মীদের। এমন আচরণ তো সমাজ, দেশ ও ধর্মের জন্য কল্যাণকর নয়। ভারতের সমাজ ও সরকার কি করে সেটাই এখন দেখার বিষয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ