ঢাকা, সোমবার 14 May 2018, ৩১ বৈশাখ ১৪২৫, ২৭ শাবান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

প্রজ্ঞাপন না হলে আজ থেকে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ধর্মঘট

গতকাল রোববার বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংগ্রাম পরিষদের উদ্যোগে রাজধানীতে র‌্যালি বের করা হয় -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার : কোটা বাতিলের ঘোষণা প্রজ্ঞাপন আকারে প্রকাশের দাবিতে পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী বিক্ষোভ মিছিল করেছে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীরা। গতকাল রোববার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের উদ্যোগে এ বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। বিক্ষোভ শেষে গতকাল ৫টার মধ্যে প্রজ্ঞাপন জারি না হলে আজ সোমবার থেকে সারাদেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন ও অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে আন্দোলনকারীরা।
প্রজ্ঞাপন জারির দাবিতে মিছিলটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে থেকে শুরু হয়ে মধুর ক্যান্টিন, লেকচার থিয়েটার ভবন, সূর্যসেন হল, মুহসীন হল, নীলক্ষেত মোড় ঘুরে ভিসি চত্বর, ফুলার রোড, শহীদ মিনার, দোয়েল চত্বর হয়ে প্রথমে শাহবাগ এবং পরে ছাত্র শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি)-তে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করে।
এ সময় বৃষ্টি এলে শিক্ষার্থীরা বৃষ্টির মধ্যেই বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করতে থাকেন এবং স্লোগান দিতে থাকেন। পরে টিএসসিতে এসে সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে কর্মসূচির সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।
এ সময় বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম-আহ্বায়ক নুরুল হক নূর বলেছেন, সরকার যখন ডেকেছে, আমরা সাড়া দিয়েছি। ৭ মে’র মধ্যে প্রজ্ঞাপন জারি করার কথা ছিল, কিন্তু এমনটা না হওয়ায় ছাত্ররা বিক্ষুব্ধ হয়েছে। বাংলার ছাত্রসমাজ তাদের অধিকার আদায়ে আর ছাড় দেবে না। যদি দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রজ্ঞাপন জারি না করা হয়, তাহলে কঠোর আন্দোলনে যাবো।
যুগ্ম-আহ্বায়ক রাশেদ খান বলেন, বাংলার ছাত্রসমাজকে প্রতিশ্রুতি দিয়ে তা রক্ষা করা হয়নি। আমাদের সঙ্গে নাটক করা হচ্ছে। বাংলার ছাত্রসমাজ নাটক মেনে নেবে না। দ্রুত সময়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা না হলে ছাত্রসমাজ আবারও রাস্তায় নামবে।
আহ্বায়ক হাসান আল মামুন বলেন, আমাদের আন্দোলনকারীদের ওপর বিভিন্ন রকম চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। আমরা যারা এ আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছি, তাদের বাড়িতে হামলা করা হচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু হলে আমাদের কেন্দ্রীয় কমিটির কয়েকজন নেতার ওপরও হামলা হয়েছে। আমরা সরকারের কাছে নিরাপত্তা দাবি করছি এবং একই সঙ্গে দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রজ্ঞাপন জারির দাবি জানাচ্ছি।
 কোটা সংস্কারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ১১ এপ্রিল জাতীয় সংসদে কোটাব্যবস্থা বাতিলের কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোটা নিয়ে যখন এত কিছু, তখন কোটাই থাকবে না। কোনো কোটারই দরকার নেই। যারা প্রতিবন্ধী ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী, তাদের আমরা অন্যভাবে চাকরির ব্যবস্থা করে দেব। এরপর প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী কোটা নিয়ে কোনো প্রজ্ঞাপন জারি করা না হলে ফের সোচ্চার হন শিক্ষার্থীরা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ