ঢাকা, সোমবার 14 May 2018, ৩১ বৈশাখ ১৪২৫, ২৭ শাবান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

স্যাটেলাইটে ব্যয়ের সঠিক হিসাব জাতির সামনে প্রকাশ করুন -ব্যারিস্টার মওদুদ

স্টাফ রিপোর্টার : সরকারের উদ্দেশে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ বলেছেন, উৎক্ষেপিত বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট প্রকল্পে ব্যয়ের সঠিক হিসাব জাতির সামনে প্রকাশ করতে হবে। আমরা জানতে চাই যে এই প্রকল্পে কত অর্থ অপচয় হয়েছে। কত টাকার দুর্নীতি হয়েছে। এটা দেশের মানুষের জানার অধিকার আছে। অবিলম্বে এ প্রকল্পের পূর্ণাঙ্গ হিসাব প্রকাশ করুন।
গতাকাল রোববার জাতীয় প্রেস ক্লাবে শফিউল বারী মুক্তি পরিষদ আয়োজিত বেগম খালেদা জিয়া ও শফিউল বারী বাবুর মুক্তির দাবিতে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।  সংগঠনের সভাপতি মুহাম্মদ ফয়েজ উল্লাহর সভাপতিত্বে সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর শরফত আলী সপু, মুক্তি পরিষদের সম্পাদক মজিবুল্লাহ মজিব, সহ-সম্পাদক আমির আমজাদ মুন্না প্রমুখ।
মওদুদ আহমদ বলেন, সরকার মহাকাশে স্যাটেলাইট পাঠিয়েছে। এটা আমাদের সবার জন্য একটা গৌরবের বিষয়। কিন্তু আজকে আমাদের দাবি সরকারকে জানাতে হবে, দেশের মানুষকে জানাতে হবে এই প্রকল্পে আমাদের কত টাকা খরচ হয়েছে। কিভাবে খরচ হয়েছে। কাদের মাধ্যমে খরচ হয়েছে। কাদেরকে এই চুক্তি দেওয়া হয়েছিল এবং কত টাকায় চুক্তি দেওয়া হয়েছিল। প্রকল্পের অর্থ পরিপূর্ণভাবে খরচ করার জন্য যে মনিটরিং করা প্রয়োজন সেটা করা হয়েছে কিনা এটা বাংলাদেশের মানুষ জানার অধিকার রাখে।
বাংলাদেশ সময় শনিবার মধ্যরাতে ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টারের লঞ্চ প্যাড থেকে উৎক্ষেপণ করা হয় কৃত্রিম উপগ্রহ বঙ্গবন্ধু-১। সরকার বলছে, বর্তমানে সম্প্রচার ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ বিষয়ে গবেষণার কাজের জন্য বিদেশী স্যাটেলাইটের ভাড়া বাবদ বছরে এক কোটি ৪০ লাখ ডলার (১১৮ কোটি টাকা) গুণতে হয়। তিন হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে মহাকাশে পাঠানো এই কৃত্রিম উপগ্রহ কাজ শুরু করলে বিদেশী স্যাটেলাইট নির্ভরতা কাটিয়ে উঠে অর্থ সাশ্রয় করা সম্ভব হবে।
তিনি বলেন, আমাদের কাছে খবর আছে খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ঢাকাসহ বিভিন্ন অঞ্চল থেকে সাদা পোশাকে এজেন্টদের পাঠানো হচ্ছে। সরকারি কিছু কিছু কর্মকর্তাদের ওই কেন্দ্র দখল করে ব্যালট বাক্সে ভুয়া ব্যালট পেপার ঢোকানোর জন্য। ব্যালট বাক্স ভর্তি করবে ভুয়া ভোট দিয়ে। আমাদের এজেন্টদের বলছে কেন্দ্রে আসতে দেবে না এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে গত তিন রাত যাবত তাদের বাড়িতে থাকতে দেয়নি। নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে ধানের শীষের প্রার্থী বিপুল ভোটে বিজয়ী হবে।
দিন যত যাবে আওয়ামী লীগের ক্ষমতা ক্ষীণ হয়ে আসবে। সরকারের প্রশাসনের পুলিশ-বিজিবি আস্তে আস্তে সরে পড়বে। জোর করে যে কোনোভাবে হলেও খুলনার নির্বাচনে জনগণের কাছে জয়লাভ দেখানোর চেষ্টা করবে তারা। দেশের মানুষ অন্ধ নয়, চোখে দেখে কানেও শোনে। খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে যদি কোনো রকমের অনিয়ম হয়, কেন্দ্র দখল ও ভোট ডাকাতির মাধ্যমে নির্বাচন হয়, আমরা তা প্রত্যাখ্যান করবো। নির্বাচনের বিরুদ্ধে আন্দোলন করবো। খুলনা মহানগরের নেতারা, ভোটাররা এবং জনগণ সক্রিয় কর্মসূচি পালন করবে।
বিএনপির এই নেতা বলেন, সরকারি চাকরিতে কোটা বিলুপ্তি করে অবিলম্বে গেজেট প্রকাশ করতে হবে। কোটা সংস্কার আন্দোলনে আমরা কী দেখেছি? আন্দোলনের সময় এই প্রধানমন্ত্রীসহ সবাই এটার সমালোচনা করেছেন। এটার বিরোধিতা করেছেন। কিন্তু যেদিন দেখলো ১০ হাজারের চেয়েও বেশি ছাত্র-ছাত্রী রাস্তায় নেমে এলো তখন পুলিশ কোথায় চলে গেলো। তখন এই পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবির দেখা পাওয়া যায়নি। কঠোর আন্দোলন হলে প্রশাসন ঘুরে দাঁড়াবে। মানুষের কাতারে চলে আসবে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, উনি তো রাজনীতি বোঝেন, সেদিন কারও সঙ্গে আলোচনা না করে সোজাসুজি পার্লামেন্টে গিয়ে এই কোটা পদ্ধতির বিলুপ্তি করার ঘোষণা দেন। তারা চেয়েছিল সংস্কার আর তিনি পুরোটাই বিলুপ্ত করে দিলেন। কারণ তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে এই আন্দোলন চলতে দেয়া যাবে না। এই আন্দোলন যদি চলতে দেয়া হয় তাহলে সরকার টিকবে না।
বিএনপির আন্দোলনের প্রতি ইঙ্গিত দিয়ে দলটির এই নীতি নির্ধারক বলেন, আমাদেরও সেই অবস্থার সৃষ্টি করতে হবে। এমন এক সময় আসবে। আসতে বাধ্য। দেশের মানুষ পরিবর্তন চায়। যখনই নির্বাচন কাছাকাছি আসবে তখনই দেশের মানুষের মনের পরিবর্তন হবে। তারা পরিবর্তন চাইবে। সেই পরিবর্তন চাওয়ার জন্য তারা রাস্তায় নামবে। স্বাধীন বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক মুক্তিকামী বিশ্বাসী সব রাজনৈতিক দলকে ঐক্যবদ্ধ করে দেশের মানুষকে নিয়ে মাঠে নামবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল। তখন দেশের রাজনৈতিক চিত্রেরও পরিবর্তন হয়ে যাবে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের মাটিতে আর ৫ জানুয়ারির মতো নির্বাচন কোনো দিন হবে না। দেশে সাধারণ নির্বাচন হবে। একটি অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচন হবে। সেই নির্বাচনে জনগণের সত্যিকার প্রতিনিধিরাই জয়লাভ করবে। তার নেতৃত্ব দেবেন বেগম খালেদা জিয়া। আমরা মুক্ত বেগম খালেদা জিয়াকে নিয়ে নির্বাচন করবো। আমরা মুক্ত বেগম খালেদা জিয়াকে নিয়ে জয়লাভ করবো। কারণ দেশের মানুষ অপেক্ষায় আছে।
এখন ভয়-ভীতি শঙ্কাকে উপেক্ষা করে প্রতিবাদ আর প্রতিরোধের নতুন পথ খুঁজে বের করতে হবে।  আর মাস তিনেক ধৈর্য ধরতে হবে। বাংলাদেশের মাটিতে দেখবেন যে গাজীপুরে যে গণজোয়ার তৈরি হয়েছে এ গণজোয়ার সারা বাংলাদেশে আগামী সাধারণ নির্বাচনে আসবে। আওয়ামী লীগ সেই গণজোয়ারে ভেসে যাবে। কেউ রক্ষা করতে পারবে না।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ