ঢাকা, সোমবার 14 May 2018, ৩১ বৈশাখ ১৪২৫, ২৭ শাবান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

হুমকির মুখে বাংলাদেশের কৃষিখাত -এডিবি

স্টাফ রিপোর্টার: আবহাওয়া পরিবর্তন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের তীব্রতার কারণে বাংলাদেশের কৃষিখাত হুমকির মধ্যে রয়েছে। দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় জেলাগুলোর কৃষিজমি বন্যা ও খরা প্রবণ এবং দক্ষিণাঞ্চলীয় জেলাগুলোর কৃষিক্ষেত ঘূর্ণিঝড় ও লবণ পানির শিকার। ফলে এসব অঞ্চলে চরম দরিদ্রতা ও খাদ্য ঘাটতি দেখা দেয়।
এমনটাই জানিয়েছেন বাংলাদেশে এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এডিবি)'র কান্ট্রি ডিরেক্টর মনমোহন পরকাশ। গতকাল রোববার রাজধানীতে একটি আন্তর্জাতিক সেমিনারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। ফিনান্সিয়াল প্রোটেকশন টুওয়ার্ডস এগ্রিকালচার রিস্ক মিটিগেশন ইন বাংলাদেশ শীর্ষক দু'দিনব্যাপী এ সেমিনার আয়োজন করে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বীমা কোম্পানি সাধারণ বীমা করপোরেশন (এসবিসি) । এসবিসি'র ম্যানেজিং ডাইরেক্টর সৈয়দ শাহরিয়ার আহসানের সভাপতিত্বে সেমিনারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর মনমহন পরকাশ, বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)'র চেয়ারম্যান মো. শফিকুর রহমান পাটোয়ারী, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের অতিরিক্ত সচিব অরিজিৎ চৌধুরী, আইডিআরএ সদস্য গকুল চাদ দাস। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন এসবিসি'র ডিজিএম ও ডব্লিউআইবিসিআই প্রকল্পের পরিচালক ওয়াসিফুল হক।
মনমোহন পরকাশ বলেন, কর্মসংস্থান তৈরি, দারিদ্র দূরীকরণ ও খাদ্য নিরাপত্তা প্রদানের মাধ্যমে কৃষিখাত বাংলাদেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। দেশের মোট জিডিপি'র ১৬ শতাংশই এ খাতের অবদান। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে দেশের শ্রমশক্তির ৪৭ শতাংশই এখাতে নিয়োজিত। এমনকি আজকে যারা এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত রয়েছেন তাদের অনেকের পিতা-মাতা কৃষক ছিলেন। তাদের পড়ালেখার খরচের যোগান হয়েছে এই কৃষিখাত থেকেই।
তিনি বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগের পর কৃষকদের ক্ষতি কাটিয়ে তুলতে বাংলাদেশ সরকার প্রতি বছর মিলিয়ন মিলিয়ন অর্থ ব্যয় করছে। কিন্তু দুর্যোগের আগেই কৃষকদের প্রস্তুত করতে পারলে এবং স্থিতিস্থাপকতার জন্য অর্থ ব্যয় করতে পারলে ক্ষতি পরবর্তী খরচ কমে আসবে। এক্ষেত্রে শস্য বীমা কৃষকের ক্ষতি কাটিয়ে তুলতে বেশি সহায়ক। তাই শস্য বীমার ওপর জোর দেয়া প্রয়োজন।
ঘূর্ণিঝড়, বন্যা ও খরা প্রবণ বাংলাদেশে শস্য বীমা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে বলে মন্তব্য করেছেন বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)'র চেয়ারম্যান মো. শফিকুর রহমান পাটোয়ারী।
শফিকুর রহমান পাটোয়ারী বলেন, পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে পর্যাপ্ত পরিমাণে শস্য বীমা রয়েছে। চরম আবহাওয়ায় কৃষিক্ষেত্রে ক্ষতি হ্রাসের মাধ্যম হিসেবে এটাকে ব্যবহার করা হয়। অথচ বাংলাদেশের অর্থনীতিতে কৃষি একটি গুরুত্বপূর্ণ খাত হওয়ার পরও এখানে শস্য বীমা প্রাপ্তিসাধ্য নয়।
তিনি বলেন, বন্য, খরা ও ঘূর্ণিঝড় আমাদের দেশের কৃষির জন্য বড় বাধা। কৃষকের হাসি নষ্ট করে দেয় এই চরম আবহাওয়া। তাই যেকোন উপায়ে আমাদের কৃষকদের হাসি ধরে রাখতে হবে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব আমাদের। এজন্য আমাদেরকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া জরুরি।
বিশেষ করে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যে কৃষকের জন ইনসেনটিভ প্যাকেজ ঘোষণা করা, বিভিন্ন শস্যের উন্নয়ন ও এ জন্য অর্থায়ন, স্বল্প মূল্যে কৃষি উপকরণ সরবরাহসহ উৎপাদন বাড়াতে প্রয়োজনীয় অন্যান্য পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। তাহলে পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর মতো কৃষিতে উন্নয়ন সম্ভব হবে বলে উল্লেখ করেন পাটোয়ারী। সেমিনানে বক্তারা বলেন, সাধারণ বীমা করপোরেশন ১৯৭৭ সালে প্রথমবারের মতো প্রচলিত শস্য বীমা চালু করে। তবে খরচ বেশি হওয়ায় ১৯৯৬ সালে এটি বন্ধ হয়ে যায়। এরপর ২০১৪ সালে পাইলট প্রকল্প আকারে আবারও শস্য বীমা চালু করে এসবিসি। আবহাওয়া সূচক ভিত্তিক শস্য বীমা একটি নতুন সংযোজন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ