ঢাকা, সোমবার 14 May 2018, ৩১ বৈশাখ ১৪২৫, ২৭ শাবান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

প্রচারণা শেষ এখন শুধু ভোটের অপেক্ষা

খুলনা অফিস : গতকাল রোববার দিবাগত রাত ১২টার পর থেকে বন্ধ হয়ে গেছে সকল প্রকার নির্বাচনী  প্রচার-প্রচারণা। যা শুরু হয়েছিল গত ২৪ এপ্রিল থেকে। এর আগে গত শনিবার দিবাগত রাত ১২টা থেকে কেসিসির ভোটার নন এমন ব্যক্তিদের খুলনা ত্যাগ করতে হয়েছে। একই সাথে  মধ্যরাত থেকে নির্বাচনের পরের দিন অর্থাৎ ১৬ মে সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত মটর সাইকেল এবং আজ সোমবার দিবাগত রাত ১২টা থেকে ১৫ মে  মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১২টা পর্যন্ত নগরীতে বেবীট্যাক্সি, অটো রিক্সা, ট্রাক্সি ক্যাব, মাইক্রোবাস, জীপ, পিকআপ, কার, বাস, ট্রাক ও টেম্পো চলাচলের ওপরও নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি)। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নির্বাচনের প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন হয়েছে। গতকাল রোববার থেকে আইন-শৃংখলা বাহিনীসহ সবছিুই পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে নির্বাচন কমিশনের। গতকাল থেকেই নগরীতে নেমেছে ১৬ প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। থাকছে পুলিশ, র‌্যাব, আনসার সদস্যদের স্ট্রাইকিং ফোর্স। ১০জন জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেটের পাশাপাশি নগরীতে থাকছেন ৩১জন নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট।
সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন উপলক্ষে ৩১টি ওয়ার্ডের দু’টি রাজনৈতিক দল সমর্থিত নারী-পুরুষরা নানাভাবে প্রচার-প্রচারণা চালিয়েছে। গণসংযোগ, মাইকিং, লিফলেট বিতরণ, খন্ড খন্ড মিছিল ও পথসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে সর্বত্র। রোববার মধ্যরাতে প্রচার অভিযান শেষ হয়েছে। শেষ মুহূর্তের প্রচারে দু’টি রাজনৈতিক দল সর্বশক্তি নিয়োগ করেছে। উৎসবমুখর পরিবেশে প্রচারণায় অংশ নিয়েছেন সব বয়সী মানুষ।
এদিকে সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনকে ঘিরে খুলনায় চলছে ‘গণগ্রেফতার’ বিতর্ক। বিএনপির অভিযোগ, সরকার পুলিশকে ব্যবহার করে একদিকে দলীয় নেতা-কর্মীদের গ্রেফতার করছে, অন্যদিকে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক এবং ভীতিকর পরিবেশ তৈরি করছে। যাতে করে ভোটাররা ভোট কেন্দ্রে যেতে না পারে। এক সপ্তাহে বিএনপির ১২৬ নেতা-কর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
তবে, পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে- গণগ্রেফতার করছেনা পুলিশ। শুধুমাত্র মামলার আসামি এবং সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে। অপরদিকে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে- গণগ্রেফতারের কথা বলে বিএনপি অপপ্রচার এবং নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট করছে। নির্বাচনের ঠিক আগ মুহূর্তে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও পুলিশের ত্রিমুখি ‘বিতর্কে’ এক ধরনের থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে।
এদিকে নির্বাচন নিয়ে নির্বাচন কমিশনের নানা প্রস্তুতির মধ্যেও বিভিন্ন অজানা শঙ্কা আর ভয় ভর করেছে প্রার্থী ও সাধারণ মানুষের মনে। খুলনায় পুলিশের ভূমিকাকেও ‘অতি  বাড়াবাড়ি’ মনে করছেন সুশীল সমাজের কেউ কেউ। খুলনা সিটি নির্বাচনের পাঁচজন মেয়র প্রার্থীর সঙ্গেই পৃথকভাবে কথা হয়েছে এ প্রতিবেদকের। তাদের মধ্যে চারজনই সুষ্ঠু ভোট নিয়ে নিজেদের সংশয় প্রকাশ করেছেন। কথা হয়েছে কাউন্সিলর প্রার্থীদের সঙ্গেও। সাধারণ ভোটাররা প্রকাশ করেছেন উদ্বেগ। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট দিতে পারবেন কিনা-এটা নিয়েই তাদের এ উদ্বেগ। তবে নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার মো. ইউনুচ আলী বলেন, 'সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে কোনো শঙ্কা নেই খুলনায়।
নির্বাচন সুষ্ঠু হবে কি-না, তা নিয়ে নিজের উদ্বেগ প্রকাশ করে ১২ নম্বর ওয়ার্ড খালিশপুর হাউজিং বাজার এলাকার জুতা-স্যান্ডেল ব্যবসায়ী মোহসীন আলী বলেন, 'আপনারা (সাংবাদিক) কি জানেন- নির্বাচন শান্তি মতো হবেনে? মারামারি হবে নানে? পুলিশ দেহি পত্যেক রাত্রিবেলা আইসে এরে-তারে ধইরে‌্য নিয়ে যায়। উরা (পুলিশ) এরাম কত্যিছে ক্যা?' এই ভোটার বলেন, 'ইলেকশনের দিন যদি দেহি ভালো (শান্তিপূর্ণ) ভোট হচ্ছে, তালি (তাহলে) ভোট দিতি যাবানে।’
ভোটারদের মতো অনেক প্রার্থীও রয়েছেন শঙ্কায়। সিটি নির্বাচনে সিপিবির মেয়র প্রার্থী মিজানুর রহমান বাবু বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন এখনও ভোটারদের আস্থা অর্জন করতে পারেনি। নির্বাচন সুষ্ঠু হবে বলে আমার কাছে মনে হয় না।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর মেয়র প্রার্থী মো. মুজ্জাম্মিল হক বলেন, 'সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে আমাদের মনে দ্বিধা-দ্বন্দ্ব আছে। কারণ পুলিশের ধরপাকড়-হয়রানি ও ক্ষমতাসীনদের হুমকি-ধামকি রয়েছে।’
শঙ্কা রয়েছে অনেক কাউন্সিলর প্রার্থীর মধ্যেও। ৩১ নং ওয়ার্ডে জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী ও বর্তমান কাউন্সিলর এডভোকেট জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল বলেন, ‘পুলিশ আমার নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করছে। আর আওয়ামী লীগের লোকজন আমার কর্মীদের হুমকি-ধাকি দিচ্ছে। এমনকি আমার ভোটারদের ভোটের দিন ভোট কেন্দ্রে না যাওয়ারও হুমকি দেয়া হচ্ছে।’
২৩ নং ওয়ার্ডের স্বতন্ত্র কাউন্সিলর প্রার্থী ও বর্তমান কাউন্সিলর ইমাম হাসান চৌধুরী ময়না উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ‘একজন কাউন্সিলর প্রার্থীর লোকজন ভোটারদের বলে বেড়াচ্ছে- ভোটকেন্দ্রে এবার গোলমাল হবে। সে কারণে আমার সমর্থক ভোটারদের মধ্যে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে।’
তবে প্রার্থীদের এসব উদ্বেগ বিষয়ে আওয়ামী লীগের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান সমন্বয়কারী এসএম কামাল হোসেন বলেন, ‘উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার কিছু নেই। অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে। আমরা ভোটারদের সেভাবে আশ্বস্ত করছি।’
এদিকে, ইতোমধ্যেই ব্যালট বাক্স, অমোচনীয় কালী এবং সীলসহ নির্বাচনী সরঞ্জাম খুলনায় এসেছে। এগুলো মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্সে রাখা হয়েছে। আজ সোমবার দুপুর থেকে ভোট কেন্দ্রে প্রেরণ করা হবে। এছাড়া ভোটের নিরাপত্তায় বিজিবি ও র‌্যাব-পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মাঠে থাকবেন। গতকাল রোববার রাত ১২টা থেকে সব ধরনের নির্বাচনী প্রচারণাও নিষিদ্ধ হয়েছে।
বিএনপির শত দাবি সত্ত্বেও সেনা মোতায়েন হচ্ছে না। পুলিশ, র‌্যাব, আনসার ও বিজিবি থাকবে কেসিসি নির্বাচনের নিরাপত্তায়। নিরাপত্তা কর্মীদের সংখ্যা ১০ হাজার। গতকাল ১৩ মে থেকে মাঠে নেমেছে নিরাপত্তা কর্মীরা। আচরণবিধি অনুসরণে মাঠ পর্যায়ে আছেন ম্যাজিস্ট্রেটরা। মেট্রোপলিটন পুলিশ ২৫৪টি ভোট কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ এবং বাকি ৩৫টিকে সাধারণ বলে চিহ্নিত করেছে। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোর জন্য ১০ জন এবং সাধারণ কেন্দ্রে ৮ জন সশস্ত্র পুলিশ দায়িত্ব পালন করবে। এছাড়া থাকবে পুলিশের টহলদল ও সাদা পোশাকের গোয়েন্দা কর্মীরা। সবমিলিয়ে ভোটের দিন ৫ হাজার পুলিশ নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করবে। প্রতিটি কেন্দ্রে ২জন করে সশস্ত্র, ৭ জন পুরুষ ও ৫ জন মহিলা লাঠি নিয়ে ভোট কেন্দ্রের নিরাপত্তায় থাকবে। প্রতিটি কেন্দ্রে তাদের সদস্য সংখ্যা ১৪ জন। সবমিলিয়ে নিরাপত্তায় থাকবে ৪ হাজার ৪৬ জন। টহল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে বিজিবি দায়িত্ব পালন করবে। ১৬ প্লাটুনে সদস্য সংখ্যা ৬৪০ জন। স্ট্রাইকিং ফোর্স ও টহলের দায়িত্ব পালন করবে ৫ শতাধিক র‌্যাব। র‌্যাবের গোয়েন্দারা ইতোমধ্যেই সাদা পোশাকে দায়িত্ব পালন করছে।
রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, খুলনা সিটি কর্পোরেশনে প্রথমবারের মতো মেয়র পদে দলীয় প্রতীকে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এবার মেয়র পদে ৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন-আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী তালুকদার আব্দুল খালেক (নৌকা), বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু (ধানের শীষ), জাতীয় পার্টি মনোনীত মেয়র প্রার্থী শফিকুর রহমান মুশফিক (লাঙল), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত মেয়র প্রার্থী মাওলানা মুজ্জাম্মিল হক (হাত পাখা) ও সিপিবি মনোনীত মেয়র প্রার্থী মো. মিজানুর রহমান বাবু (কাস্তে)।
এছাড়া নগরীর ৩১টি সাধারণ ওয়ার্ডে ১৪৮ জন এবং ১০টি সংরক্ষিত ওয়ার্ডে ৩৯ জন কাউন্সিলর প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এবারের নির্বাচনে খুলনা সিটিতে মোট ভোটার ৪ লাখ ৯৩ হাজার ৯৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ৪৮ হাজার ৯৮৬ ও নারী ২ লাখ ৪৪ হাজার ১০৭ জন। এ নির্বাচনে ২৮৯টি কেন্দ্রের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ (ঝুঁকিপূর্ণ) কেন্দ্রে রয়েছে ২৩৪টি এবং ৩৫টি সাধারণ কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করেছে পুলিশ। এবার ভোট কক্ষ রয়েছে ১ হাজার ৫৬১টি। আর অস্থায়ী ভোট কক্ষ ৫৫টি। প্রিজাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার ও পোলিং অফিসার রয়েছে ৪ হাজার ৯৭২ জন।
খুলনা জেলা প্রশাসক মো. আমিন উল আহসান বলেন, সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ রয়েছে। রোববার দুপুরের পর থেকে ১৬ প্লাটুন বিজিবি মাঠে নেমেছে। এছাড়া নির্বাচনে ভোট কেন্দ্র ও নির্বাচনী এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং নির্বাচনী আচরণ বিধিমালা প্রতিপালন নিশ্চিতকরণে ৩১জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেয়া হয়েছে। রোববার সকাল থেকে তারা নিজ নিজ অধীক্ষেত্রে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া আজ সোমবার ১০জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করছেন বলেও তিনি জানিয়েছেন। 
র‌্যাব-৬’র অধিনায়ক খোন্দকার রফিকুল ইসলাম জানান, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা মোতাবেক নির্বাচনে র‌্যাবের ৩২টি টিম দায়িত্ব পালন করছে। যার প্রতিটি টিমে ৮জন সদস্য রয়েছে। এছাড়া ৪টি স্টাইকিং ফোর্স নিয়োজিত রয়েছে। এ টিমে ১০ জন করে সদস্য রয়েছে।
মেজর হান্নান খান জানান, নির্বাচন কমিশনের চাহিদা অনুযায়ী ১৬ প্লাটুন অর্থাৎ ৬৪০ জন বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। বিজিবি সদস্যরা টহল ও স্টাইকিং ফোর্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তারা নগরীর বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান নিয়ে নির্বাচনের সার্বিক নিরাপত্তার দিকে সতর্ক নজর রাখছেন।
খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের মুখপাত্র ও অতিরিক্ত উপ-কমিশনার সোনালী সেন বলেন, এ নির্বাচনে সাড়ে ৯ হাজার পুলিশ, বিজিবি, এপি ব্যাটেলিয়ান ও আনসার সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। এর মধ্যে পুলিশের পাশাপাশি ১৬ প্লাটুন বিজিবি, সাড়ে ৪ হাজার আনসার-ভিডিপি সদস্য রয়েছে। ৯শ’ অঙ্গীভূত আনসার-ভিডিপি সদস্য থাকছেন। নির্বাচনের ঝুঁকিপূর্ণ (গুরুত্বপূর্ণ) কেন্দ্রে ২৪জন এবং সাধারণ কেন্দ্রে ২২জন করে পুলিশ ও আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া পুলিশের ৭০টি টিম দায়িত্ব পালন করছেন। প্রত্যেক ম্যাজিস্ট্রেটের টিমের সাথে একটি করে পুলিশের টিম থাকছেন। ৮টি মোটর সাইকেল টিম এবং ১১টি পিকেট টিম দায়িত্ব পালন করছেন।
কেসিসি নির্বাচনের রিটার্র্নিং কর্মকর্তা মো. ইউনুচ আলী জানান, সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন কমিশনের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। ইতোমধ্যে নির্বাচনের ভোটগ্রহণের জন্য ব্যালট পেপার, সিল, অমোচনীয় কালিসহ নির্বাচনী সরঞ্জাম খুলনায় এসেছে। এসব মালামাল বিভাগীয় মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্সে রাখা হয়েছে। এই নির্বাচনে ১ হাজার ৮১০টি ব্যালট বাক্স প্রয়োজন হবে। ১৪ মে সকাল ১০টা থেকে স্ব স্ব কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসারদের এসব মালামাল বুঝিয়ে দেয়া হবে। তিনি আরো জানান, রোববার বিকেল থেকে ২২ সদস্যের নির্বাচন পর্যবেক্ষক টিম দায়িত্ব পালন করছেন। তারা নির্বাচনের সকল বিষয় পর্যবেক্ষণ করবেন। একই সাথে রোববার থেকে ১৬ মে পর্যন্ত ৩১ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করবেন। তিনি বলেন, রোববার দিবাগত রাত ১২টার পর থেকে প্রচার-প্রচারণা শেষ হচ্ছে। এরপর কোনো প্রার্থী আর প্রচার-প্রচারণা করতে পারবেন না।
এছাড়া শনিবার রাত ১২টার মধ্যে বহিরাগতদের সিটি থেকে চলে যাওয়ার জন্য মাইকিং করা হয়েছে। তিনি বলেন, এ নির্বাচনে ২টি কেন্দ্রে ইভিএমে ভোট গ্রহণ হবে। এ দু’টি কেন্দ্রে সোমবার সকাল ১০টা হতে দুপুর ২টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে ইভিএম’র মাধ্যমে মক ভোটিং কার্যক্রম। এছাড়া তিনটি কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের কাজ চলছে।
উল্লেখ্য, ১৯৭২ সালের পর এ পর্যন্ত খুলনা পৌরসভায় ৩ জন এবং মেট্রোপলিটন কর্পোরেশন ও সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ও মেয়র হিসেবে ৬ জন নগর পিতার দায়িত্ব পালন করেছেন। এর মধ্যে শেখ সিরাজুল ইসলাম প্রশাসক, কাজি আমিনুল হক আমিন মনোনীত মেয়র এবং শেখ তৈয়েবুর রহমান, তালুকদার আব্দুল খালেক ও মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান নির্বাচিত এবং মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান ও খুলনা বিভাগীয় কমিশনার একেএম ফজলুল হক মিয়া ভারপ্রাপ্ত মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।  এছাড়া পৌরসভা থাকাকালে ৫ জন সরকারি কর্মকর্তা স্বল্পমেয়াদে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। স্বাধীনতার পর খুলনা পৌরসভার সর্বপ্রথম চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন গাজী শহীদুল্লাহ। ১৯৭৪ সালের ২০ ফেরুয়ারি থেকে ১৯৭৬ সালের ১৪  সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিনি দায়িত্ব পালন করেন। এরপর তিন জন সরকারি কর্মকর্তা স্বল্প মেয়াদে দায়িত্ব পালন করেন। এদের মধ্যে ১৯৭৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে ১৯৭৭ সালের ৩ মার্চ পর্যন্ত আব্দুল জলিল খান, একই বছরের ৪ মার্চ থেকে ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত মতিউর রহমান এবং ২০ এপ্রিল থেকে ১৮ নবেম্বর পর্যন্ত মঙ্গপ্রতাপ বড়–য়া দায়িত্বে ছিলেন। ১৯৭৭ সালে খুলনা পৌরসভার দ্বিতীয় নির্বাচনে প্রাক্তন গণপরিষদ সদস্য সংবিধান বিশেষজ্ঞ এডভোকেট এনায়েত আলী চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। তিনি একই বছরের ১৯ নবেম্বর থেকে ১৯৮২ সালের ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দায়িত্বে ছিলেন। এরপর দু’জন সরকারি কর্মকর্তা স্বল্প মেয়াদে অর্থাৎ আজিজুল হক ভুইয়া ১৯৮২ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে ১৯৮৪ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এবং এস.এন নবী ১৯৮৪ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে একই বছরের ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। পৌরসভার তৃতীয় চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন শেখ সিরাজুল ইসলাম। তিনি ১৯৮৪ সালের ২১ মার্চ থেকে একই বছরের ১১ ডিসেম্বর পর্যন্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন। একই বছর ১২ ডিসেম্বর খুলনা পৌরসভা সিটি কর্পোরেশনে উন্নীত হলে তিনি প্রশাসক হন এবং ১৯৮৮ সালের ২২ আগষ্ট পর্যন্ত প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করেন। একই বছর ২৩ আগষ্ট কাজি আমিনুল হক কেসিসি’র প্রথম মেয়র মনোনীত হন। ১৯৯০ সালের ৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত তিনি এ দায়িত্ব পালন করেন। একই বছর ১২ ডিসেম্বর থেকে ১৯৯১ সালের ২২ মে পর্যন্ত খুলনা বিভাগীয় কমিশনার একেএম ফজলুল হক মিয়া দায়িত্ব পালন করেন। বিএনপি নেতা এডভোকেট শেখ তৈয়েবুর রহমান খুলনা সিটি কর্পোরেশনের দীর্ঘ সময় মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। দীর্ঘ প্রায় ১৭ বছরের দায়িত্ব পালনকালে তিনি দুই বার নির্বাচিত ও একবার মনোনীত ছিলেন। তিনি ১৯৯১ সালের ২২ মে থেকে ১৯৯৩ সালের ২০ ডিসেম্বর পর্যন্ত মনোনীত, ১৯৯৪ সালের ২০ মার্চ থেকে ২০০২ সালের ৫ মে পর্যন্ত এবং ৫ মে থেকে ২০০৭ সালের ১৯ নবেম্বর পর্যন্ত তিনি নির্বাচিত মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৭ সালের ২০ নবেম্বর থেকে ২০০৮ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মোহাম্মদ মনিরুজ্জমান ভারপ্রাপ্ত মেয়রের দায়িত্ব পালন করেন। এরপর ২০০৮ সালের ৪ঠা আগষ্ট নির্বাচনে তালুকদার আব্দুল খালেক নির্বাচিত হয়ে ২০১৩ সালের ১১মে পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৮ সালের ৪ আগষ্ট  নির্বাচনে মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি তালুকদার আব্দুল খালেক এক লাখ ৫৭ হাজার ৮১২ ভোট পেয়ে মেয়র নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান পান এক লাখ ৩১ হাজার ৯৭৬ ভোট। অবশ্যই এই নির্বাচনের সময় বিএনপি-জামায়াতে ইসলাম মনিরুজ্জামান মনিকে সমর্থন দেয় নাই। সর্বশেষ ২০১৩ সালের ১৫ জুনের নির্বাচনে নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত ঐক্যবদ্ধ নাগরিক ফোরামের প্রার্থী মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান (আনারস) এক লাখ ৮১ হাজার ২৬৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ সমর্থিত সম্মিলিত নাগরিক কমিটির প্রার্থী তালুকদার আব্দুল খালেক পেয়েছিলেন এক লাখ ২০ হাজার ৫৮ ভোট। ওই নির্বাচনে ভোটার ছিল চার লাখ ৪০ হাজার ৫৬৬ জন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ