ঢাকা, মঙ্গলবার 15 May 2018, ১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫, ২৮ শাবান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

নরেন্দ্র মোদির রমযান ও রসূল প্রশস্তি

আর ক’দিন পরেই মুসলিম বিশ্ব স্বাগত জানাবে মাহে রমযানকে। লক্ষণীয় বিষয় হলো, রমযান উপলক্ষে শুধু মুসলিম দেশের নেতৃবৃন্দই নয়, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধানরাও চমৎকার বক্তব্য দিয়ে থাকেন। এবার ‘মান কি বাত’ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রমযান প্রসঙ্গেও কিছু কথা বলেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি বলেন, প্রিয় দেশবাসী, আর কিছুদিন পরেই রমযান মাস শুরু হবে। পুরো বিশ্বেই সম্মান আর শ্রদ্ধার সঙ্গে রমযান মাস পালন করা হয়ে থাকে। সামাজিক ও সমষ্টিগত দিক থেকে রোজা হচ্ছে এমন একটি বিষয় যা একজন ব্যক্তিকে ক্ষুধার্ত থাকার অভিজ্ঞতা অর্জনে সাহায্য করে থাকে। রোজা রাখলে একজন মানুষ অন্যজনের ক্ষুধার্ত অবস্থা বুঝতে পারে। যখন সে তৃষ্ণার্ত থাকে তখন সে অন্যের তৃষ্ণার্ত অবস্থা উপলব্ধি করতে পারে। হযরত মুহাম্মদ (স.) যে শিক্ষা দিয়েছেন তা স্মরণ করার এটা একটি সুযোগ। আর সমতা ও ভ্রাতৃত্বপূর্ণ যে নৈতিকতায় মহানবী জীবন যাপন করেছেন তা অনুসরণ করা আমাদের দায়িত্ব। তিনি আরো বলেন, একবার এক ব্যক্তি মহানবী (স.)কে প্রশ্ন করেছিলেন, ইসলামের সবচেয়ে উত্তম জিনিস কী? তিনি এর জবাবে বললেন, দরিদ্র ও অভাবগ্রস্তকে খাওয়ানো এবং পরিচিত-অপরিচিত নির্বিশেষে সবাইকে সালাম জানানো। মহানবী (স.) দুটি জিনিসের প্রতি বিশ্বাসী ছিলেন, একটি হলো জ্ঞান এবং অপরটি সমবেদনা। তাঁর মধ্যে কখনো এক ফোঁটাও অহংবোধ দেখা যায়নি। তিনি প্রচার করতেন যে, জ্ঞান একাই মানুষের সব ধরনের অহংবোধকে পরাজিত করতে পারে। মহানবী (স.) বিশ্বাস করতেন যে, কারো যদি প্রয়োজনের তুলনায় বেশি কিছু থাকে তবে তার উচিত অভাবগ্রস্তদের মাঝে সেগুলো বিতরণ করা। তাই রমযান মাসে দান-খয়রাত করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ কাজ। মানুষ এই পবিত্র মাসে উদার হস্তে দান করে থাকেন। তিনি বিশ্বাস করতেন বস্তুগত সম্পদ কখনোই মানুষকে সম্পদশালী বানাতে পারে না।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মহানবী (স.) সম্পর্কে অনেকগুলো চমৎকার কথা বললেন। তিনি রমযানের তাৎপর্য ব্যাখ্যারও চেষ্টা করেছেন। এমন ইতিবাচক মনোভাবের জন্য আমরা তাকে ধন্যবাদ জানাই। এমন মনোভাবের প্রসার ঘটলে ভারতের সমাজ অনেক বেশি শান্তিপূর্ণ হতে পারে। কিন্তু বাস্তবে তেমনটি লক্ষ্য করা যায় না। গো-রক্ষার নামে মুসলমানদের হত্যা করা হয়, নামায পড়তেও বাধা দেয়া হয়, মুসলিম বিরোধী দাঙ্গাও হয় ভারতে। এমন চিত্রের পরিবর্তন প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে নরেন্দ্র মোদির সাফল্য কামনা করি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ