ঢাকা, মঙ্গলবার 15 May 2018, ১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫, ২৮ শাবান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

আজ খালেদা জিয়ার জামিন বিষয়ে আপিলের রায়

স্টাফ রিপোর্টার : বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া কী জামিন পাচ্ছেন নাকি জেলেই থাকছেন তা জানার জন্য আজ সবার নজর থাকবে দেশের সর্বোচ্চ আদালতের দিকে। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় বেগম খালেদা জিয়াকে দেওয়া হাইকোর্টের জামিন আদেশ স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষ ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা আপিল আবেদনের ওপর আজ মঙ্গলবার আপিল বিভাগের রায় ঘোষণার দিন নির্ধারণ রয়েছে। এ কারণে মামলাটি আপিল বিভাগের কার্যতালিকায় (কজ লিস্ট) ৩ নম্বরে রাখা হয়েছে।
প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বেঞ্চ আজ রায় ঘোষণা করবেন। খালেদা জিয়া এই মামলায় জামিন পেলেও তিনি এখনই মুক্ত হতে পারবেন না। কারণ কুমিল্লার একটি নাশকতার মামলায় গ্রেফতার আছেন বিএনপি চেয়ারপার্সন। এই মামলায় ৭ জুন জামিন আবেদনের ওপর শুনানি হবে কুমিল্লার আদালতে।
গত ৮ ও ৯ মে দু’দিন জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন আদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা আপিল আবেদনের ওপর শুনানি হয়। শুনানি শেষে মামলাটির রায় ঘোষণার জন্য ১৫ মে তারিখ নির্ধারণ করেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।
শুনানিতে খালেদা জিয়ার পক্ষে ছিলেন তার আইনজীবী এজে মোহাম্মদ আলী, অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন ও অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন। দুদকের পক্ষে আইনজীবী খুরশীদ আলম খান এবং রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম শুনানি করেন।
গত ১২ মার্চ দুদকের আবেদনের শুনানি নিয়ে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়াকে চার মাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেন বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ। পাশাপাশি এ মামলায় খালেদা জিয়ার সাজা কেন বাড়ানো হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন আদালত।
পরে গত ১৯ মার্চ খালেদা জিয়াকে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন আদেশ ৮ মে পর্যন্ত স্থগিত করেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন চার বিচারপতির আপিল বেঞ্চ। একইসঙ্গে খালেদা জিয়াকে দেওয়া হাইকোর্টের জামিন আদেশের বিরুদ্ধে দুদক ও রাষ্ট্রপক্ষকে আপিলের অনুমতি দেওয়া হয়। আর আপিল আবেদনের সারসংক্ষেপ পরবর্তী ২ সপ্তাহের মধ্যে জমা দিতে দুদককে নির্দেশ দেন আদালত। এ ছাড়া ৮ মে ওই আপিল আবেদনের ওপর শুনানির তারিখ ধার্য করেন।
উল্লেখ্য, গত ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়াকে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় পাঁচ বছরের কারাদ-াদেশ দেন ঢাকার ৫ নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক ড. আখতারুজ্জামান। রায় ঘোষণার পরপরই খালেদা জিয়াকে পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। বর্তমানে তিনি সেখানেই আছেন।
কারাগারে খালেদা জিয়ার সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের সাক্ষাৎ : বিএনপি  চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে কারাগারে দেখা করেছেন পরিবারের পাঁচ সদস্য। পরিবারের সদস্যরা হলেন, খালেদা জিয়ার ছোট ভাই শামীম এস্কান্দার, তার ছেলে অভিক এস্কান্দার, নাতনি রাইদা ইসলাম, ভাগনি শাহীনা খান জামান, গাড়িচালক নুরুল ইসলাম ও মামুন নামে আরও একজন। গতকাল সোমবার বিকেলে পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে দেখা করার জন্য তারা নামের তালিকা পাঠান কারা কর্তৃপক্ষের কাছে। পরে তাদের ভেতরে ঢোকার অনুমতি দেয়া হয়। কারাগার থেকে বের হয়ে অতীতের ন্যায় এবারো মিডিয়ার সাথে কোনো কথা বলেননি পরিবারের কেউই। প্রসঙ্গত, গত ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে পুরান ঢাকার পরিত্যক্ত কারাগারে রয়েছেন খালেদা জিয়া।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ