ঢাকা, বৃহস্পতিবার 17 May 2018, ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫, ৩০ শাবান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

রমযানে ভোগ্যপণ্যের দাম কমানোর আহ্বান

স্টাফ রিপোর্টার: পবিত্র রমযান মাস শুরু হওয়ার আগেই নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধিতে গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে বিএনপি। গতকাল বুধবার এক বিবৃতিতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এসব বলেন, পবিত্র রমযান মাসে পেঁয়াজ, রসুন, চিনি, কাঁচা মরিচ, বেগুন, আলু, হলুদ, আদা, টমেটো, শসাসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি এবং তা সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে যাওয়ায় আমি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি। রমযান মাসে নিয়ন্ত্রণহীন গতিতে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের আকাশচুম্বী মূল্যবৃদ্ধিতে জনগণের নাভিশ্বাস উঠবে তা বলাই বাহুল্য।
মির্জা ফখরুল বলেন, ক্ষমতাসীনদের সিন্ডিকেটের কারণেই নিত্যপণ্যের দামের এই লাগামহীন অবস্থা। বিভিন্ন ধরনের মসলাপাতিসহ খাদ্য পণ্যের দাম কেজিপ্রতি ১০/১৫ টাকা থেকে শুরু করে ৪০/৫০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধিতে নিম্ন আয়ের মানুষের অবস্থা এখন বিপন্ন। পেঁয়াজের কেজিপ্রতি মূল্য ২০ টাকা থেকে উন্নীত হয়ে আড়াই গুণ-তিন গুণ হয়েছে, ৭০/৮০ টাকা কেজির নিচে বাজারে কোনো কাঁচা শাকসবজি পাওয়া দুষ্কর। বেগুন ও ধনে পাতার মূল্য হু হু করে বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা রোজার মাসের অতি প্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, চিনির মূল্য নিয়ন্ত্রণে না নিতে পেরে এখন একজন মন্ত্রী চিনির কল বন্ধ করার কথা বলছেন। অর্থাৎ তার বক্তব্যে মনে হয়- হাতে ফোঁড়া হলে হাত কেটে ফেলাই ভালো। গণবিচ্ছিন্ন হলেই সরকারি নেতাদের উদ্ভট কথাবার্তা বলার প্রবণতা বৃদ্ধি পায়। পবিত্র রমযান মাসকে কেন্দ্র করে সরকারের আশকারাতে দেশের অসাধু ব্যবসায়ীরা বাড়তি মুনাফা লাভের জন্য কারসাজির মাধ্যমে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য বৃদ্ধি করে মানুষকে ভোগান্তিতে ফেলেছেন। কিন্তু মানুষের কষ্ট লাঘব করা তো দূরে থাক, বরং সরকার চায় তাদের দলের লোকজন সিন্ডিকেট করে জিনিসপত্রের দাম বৃদ্ধির মাধ্যমে আঙুল ফুলে কলা গাছ হয়ে উঠুক।
মির্জা ফখরুল আরো বলেন, একদিকে ভোটারবিহীন সরকারের সীমাহীন দুঃশাসনের যাঁতাকলে পিষ্ট মানুষ দু বেলা পেটপুরে খেতে পাচ্ছে না, অন্যদিকে মুসলমানদের পবিত্র মাস এই রমযানে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি তাদের জন্য ‘মরার ওপর খাঁড়ার ঘা’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এহেন দুর্বিষহ পরিস্থিতিতে পবিত্র রমযান মাসে নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধিতে মানুষ এখন দিশেহারা। আমি রমযান মাসে সরকারের গণবিরোধী নীতির ফলে সৃষ্ট নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য বৃদ্ধির তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং অবিলম্বে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের দাম কমানোর জোর দাবি করছি।
এদিকে পবিত্র মাহে রমযান উপলক্ষে বাণী দিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বাণেিত মির্জা ফখরুল বলেন, পবিত্র রমযান মাসে একজন রোজাদার মহান রাব্বুল আলামীনের নিকট করুণা ভিক্ষা করলে সন্তুষ্টচিত্তে তিনি বান্দাকে ক্ষমা করে দেন। এই পবিত্র মাহে রমযানে একজন প্রকৃত মোমিন ব্যক্তি সারাদিন সকল ক্ষেত্রে সংযমী থাকেন আল্লাহ’র নৈকট্য লাভের আশায়। রমযান মাস হলো বরকতের মাস, কেননা মানুষের গুণাহগুলোকে দূরীভূত করে তার আত্মিক ও আধ্যাত্মিক পূর্ণতার ক্ষেত্র সৃষ্টি করে সিয়াম সাধনা। অবশ্য রোজা রাখার উদ্দেশ্যটাও পাপ থেকে বিরত থাকা, ঈমান ও তাকওয়া অর্জন করা। প্রতি রমজানে এতিম থেকে শুরু করে সমাজের নানা স্তরের মানুষের সাথে ইফতারী করতেন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া, আমাদের সেই প্রিয় নেত্রী অন্যায় ও অবিচারের শিকার হয়ে কারাগারে বন্দী। আসুন আমরা তার নি:শর্ত মুক্তি ও সুস্থতার জন্য দোয়া করি। সংযমের মধ্য দিয়ে প্রতিহিংসা, অসূয়া ও উন্মার্গগামিতার পঙ্কিল আবর্ত থেকে মুক্ত হয়ে সমাজ জীবনে শান্তি, স্বস্তি ও ইনসাফ ফিরে আসুক-এই হোক পবিত্র রমজান মাসে আমাদের প্রার্থনা। আমি মাহে রমজানে সকলের সুখ-শান্তি ও কল্যাণ কামনা করি।

আজ বিএনপির যৌথ সভা
স্টাফ রিপোর্টার : আজ বৃহস্পতিবার যৌথ সভা ডেকেছে বিএনপি। সকাল ১১টায় নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই সভা হবে। দলের যুগ্ম মহাসচিব, সাংগঠনিক সম্পাদক ও অঙ্গ সংগঠনের নেতবৃন্দ সভায় উপস্থিত থাকবেন। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, যৌথসভায় ৩০ মে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ