ঢাকা, শুক্রবার 18 May 2018, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫, ১ রমযান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

চট্টগ্রামে ফারাক্কা লংমার্চ দিবসে আলোচনা সভা

চট্টগ্রাম ব্যুরো: ঐতিহাসিক ‘ফারাক্কা লংমার্চ দিবস’ উপলক্ষে ভাসানী অনুসারী পরিষদ, চট্টগ্রাম শাখার উদ্যোগে ১৪ মে সোমবার বিকেলে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের ইঞ্জিনিয়ার আবদুল খালেক মিলনায়তনে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের সাবেক সদস্য, চট্টগ্রাম আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি, ভাসানী অনুসারী পরিষদের আহ্বায়ক এডভোকেট কবীর চৌধুরী’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন ভাসানী অনুসারী পরিষদের কেন্দ্রীয় চেয়ারম্যান ডাঃ জাফর উল্লাহ চৌধুরী। প্রধান বক্তা ছিলেন সাবেক মন্ত্রী মোস্তফা জামাল হায়দার। বিশেষ বক্তা ছিলেন ভাসানী অনুসারী পরিষদ কেন্দ্রীয় মহাসচিব শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু। বিশেষ অতিথি ছিলেন ওয়ার্ল্ড এসোসিয়েশন অব প্রেস কাউন্সিলস্ নির্বাহী পরিষদের সদস্য, মুক্তিযোদ্ধা-সাংবাদিক মইনুদ্দীন কাদেরী শওকত ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সাবেক সভাপতি ড. হাসান মোহাম্মদ। ভাসানী অনুসারী পরিষদ চট্টগ্রাম শাখার সদস্য সচিব মোজাম্মেল হকের সঞ্চালনায় অনুুষ্ঠিত আলোচনা সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি চট্টগ্রাম মহানগর সভাপতি মোহাম্মদ ইলিয়াস, এডভোকেট জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, অধ্যাপক জসিম উদ্দিন চৌধুরী, জেলা জাসদ সভাপতি বেলায়েত হোসেন, শ্রমিক নেতা আবদুস সাত্তার প্রমুখ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডাঃ জাফর উল্লাহ চৌধুরী বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার সাথে চিকিৎসা ও জামিন নিয়ে যে আচরণ করা হচ্ছে তা অমানবিক ও মানবতাবিরোধী অপরাধ। তিনি বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রী বুদ্ধিমতী তবে ক্ষমতার অপব্যবহার করছেন। আকাশ ও সমুদ্র জয় করার কথা বললেও মানুষের মন জয় করতে পারেনি। এই সরকার বিভিন্নভাবে সংবিধান লঙ্ঘন করছে এবং ভারতীয় ব্রাহ্মণ্যবাদ ধ্বংস করছে সবকিছুই।

 বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রবীণ সাংবাদিক-মুক্তিযোদ্ধা মইনুদ্দীন কাদেরী শওকত বলেন, ফারাক্কা বাঁধের কারণে বাংলাদেশের এক তৃতীয়াংশ মানুষ, অর্থনীতি, জীবিকাসহ সকল ক্ষেত্রে ক্ষতিগ্রস্ত। মাওলানা ভাসানীর নেতৃত্বে ১৯৭৬ সালের ১৬ মার্চ বাংলার মানুষ লংমার্চ করেছিল ফারাক্কা বাঁধের প্রতিবাদে। ভারতের তৎকালিন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী চিঠি দিয়ে মাওলানা ভাসানীকে জানিয়েছিলেন- পরীক্ষামূলকভাবে ফারাক্কা বাঁধ চালু হবে। বাংলার মানুষ কষ্ট পাচ্ছে, মরে যাচ্ছে, কিন্তু এই পরীক্ষা এখনো শেষ হয়নি। তিনি বলেন, মাওলানা ভাসানী শাসকগোষ্ঠীর জুলুম-নির্যাতন-অত্যাচার-অবিচার-শোষণের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিলেন। এখন সরকার আত্মম্ভরিতা দম্ভের কারণে যে আচরণ করছে তা নমরুদ-ফেরাউনের মত। ভুলত্রুটি ধরিয়ে দিয়ে সঠিক পরামর্শ দিতে একটি শক্তিশালী বিরোধী দল অপরিহার্য। সরকারকে বেগম খালেদা জিয়ার যথোপযুক্ত চিকিৎসার পদক্ষেপ নিতে এবং বিচারপতিদেরকে ন্যায় বিচার নিশ্চিতে আল্লাহকে ভয় করতে আহ্বান জানান কাদেরী শওকত।

প্রধান বক্তা ১৯৬৯ এর গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম নেতা মোস্তফা জামাল হায়দারকে ফারাক্কার অভিশাপে নদী ফেটে চৌচির। রাজনীতি, অর্থনীতি, শিল্প আজ আগ্রাসনের শিকার। 

তিনি বলেন, বর্তমান শাসন ক্ষমতায় একটি নপুংশক সরকার- এই সরকার ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার জন্য সব ধরণের অন্যায় করছে। তিনি বলেন, আগামী ৩ মাসের মধ্যে রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তন আসতে বাধ্য।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ