ঢাকা, শুক্রবার 18 May 2018, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫, ১ রমযান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

ফুলের ডালি হাতে আসে গ্রীষ্ম

সুহৃদ আকবর: গগনে লাল সূর্য। প্রকৃতিতে চলছে সাদা রোদের খেলা। কাঠফাটা রোদে তপ্ত বাতাস। গ্রামের পথে হাঁটতে হাঁটতে পথিকের মন ক্লান্ত-শ্রান্ত অবসন্ন। পথিক ঘামে ভেজা শরীর নিয়ে এক সময় বসে পড়ে বৃদ্ধ বটগাছটির নিচে। বটগাছের ঠান্ডা বাতাসে পথিকের শরীর-মন জুড়িয়ে যায়। গাছের গাঢ় সবুজ পাতা আর লাল ফলের দিকে দৃষ্টি পড়তেই পথিকের মন ভালো হয়ে যায়। অদূরে পুকুর পাড়ে একটি কৃষ্ণচূড়া গাছে লাল লাল ফুল ফুটে রয়েছে। মনে হয় কেউ বুঝি সবুজ গাছটিতে আগুন লাগিয়ে দিয়েছে। এভাবে গ্রীষ্ম আমাদের সামনে ফুলের পসরা নিয়ে হাজির হয়। তাই তো এ কথা অবকাশ রাখে না যে, রুদ্র গ্রীষ্ম কেবল আগুনই ঝরায় না, বাহারি ফুলের পসরা সাজিয়ে আমাদের মনও কাড়ে। এ সময় নিষ্প্রাণ, রুক্ষতা ছাপিয়ে প্রকৃতি নিজেকে মেলে ধরে আপন মহিমায়। 

গাছে গাছে কৃষ্ণচূড়া, জারুল, সোনালু থেকে শুরু করে কাঠগোলাপ, গন্ধরাজের যে বর্ণিল আয়োজন তার কি কোনো তুলনা হয়? অন্য কোনো দেশে কি এ রকম গ্রীষ্ম দেখা যায়! দেখা যায় শুধু আমাদের দেশে। প্রিয় বাংলাদেশে। তীব্র রোদে বৃক্ষছায়ায় ঝলমলে রঙের খেলা আর কখনো কখনো বাতাসে সোঁদা গন্ধ এ তো গ্রীষ্ম ঋতুরই দান। বৈশেখ-জ্যৈষ্ঠে আমাদের বাগানে সুরভি ছড়ানো ফুলের তালিকাটিও বেশ বড়। দেশের প্রবীণতম প্রকৃতিবিদ দ্বিজেন শর্মার ‘ফুলগুলি যেন কথা’ বইতে পাই গ্রীষ্মে বাহারি ফুলের উচ্ছ্বাসের এক অপূর্ব চিত্রায়ণ: ‘কৃষ্ণচূড়ার লাল-কমলা, জারুলের হালকা বেগুনি, ক্যাশিয়ার গোলাপি-সাদা, পেল্টফরাম আর সোনাইলের হলুদ এবং বাতাসে ফেরে স্বর্ণচাঁপা শিরিষ হিজল মধুগন্ধ, বাগানে উজ্জ্বলতা ছড়ায় রঙবেরঙের জবা,  টগর, নানা রঙের ঘণ্টা ধুতরা কলকে, বনপথে ফোটে লুটকি কাঠমল্লিকা হিজল বরুণ।’

গ্রীষ্মে ডালে ডালে চোখ-ধাঁধানো রঙের ঔজ্জ্বল্য ছড়ায় রক্তলাল কৃষ্ণচূড়া। দীর্ঘ, প্রসারিত গাছে ফুলের প্রাচুর্যে লাল হয়ে ওঠে আকাশ-বাতাস। এ যেন লাল রঙের এক মায়াবী ক্যানভাস, যা যে কারো চোখে এনে দেয় শিল্পের দ্যোতনা। 

এরপর আসে জাফরুলের কথা। গোটা দেহ জুড়ে তার বেগুনির ¯িœগ্ধতা। সুন্দর. বিন্যস্ত পাপড়িতে অসাধারণ রঙের ছিটা। একই সঙ্গে ডালপালা জুড়ে থোকায় থোকায় ফোটে মায়াবী সোনালু। মেয়েদের কানফুলের মতো দেখতে হলুদে জড়ানো ফুলগুলো ছুঁয়ে যাবে  দৃষ্টি। লাল-বেগুনি আর হলুদের এ মনোরম উল্লাস চোখে পড়ে ঢাকার রমনা পার্ক, আবদুল গণি রোড, মানিক মিয়া এভিনিউ, চন্দ্রিমা উদ্যান, বোটানিক্যাল গার্ডেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকাসহ সড়ক, রাস্তার ধারে। গ্রীষ্মে সারাদেশেই দেখা যায় একই চিত্র। কৃষ্ণচূড়া, সোনালু আর জাফরুলের সম্মিলিত সৌন্দর্য প্রাণভরে উপভোগ করতে পরিকল্পিতভাবে গড়ে তোলা দরকার এর সুদীর্ঘ বীথি। ঢাকায় কিংবা ঢাকার বাইরে এটি হতে পারে।

উঁচু গাছে সবুজপাতার ভাঁজে মোহনীয় রূপে ফোটে ক্যাশিয়া জাভানিকা। যাকে বাংলায় লাল সোনাইল নামে ডাকা হয়। গোলাপি আর সাদায় মেশানো গুচ্ছ গুচ্ছ ফুলের শোভাও কাছে টানবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ