ঢাকা, শুক্রবার 18 May 2018, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫, ১ রমযান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

মাইনাস ফর্মুলার রাজনীতির হালহকিকত

এম. কে. দোলন বিশ্বাস : বিশেষ করে গাণিতিক সমস্যা সমাধানকল্পে ‘প্লাস’ আর ‘মাইনাস’ শব্দদ্বয়-এর ব্যবহার হয়। যার অর্থ যোগ এবং বিয়োগ। বীজগণিত শাস্ত্রে এ শব্দদ্বয়-এর অধিক পরিচিতিও বিদ্যমান। একদিকে গণিত শাস্ত্রে যেমন ওই শব্দদ্বয়ের প্রয়োজনীয়তা অনেকগুণে বেশী। অন্যদিকে বাস্তব জীবনেও তেমন ‘প্লাস’, ‘মাইনাস’ সমাধান কল্পের হাতিয়ারও বটে। এ কারণেই সম্ভবত বহুল পরিচিত ‘প্লাস মাইনাস’ শব্দদ্বয় গণিত শাস্ত্রের পরিধি অতিক্রম করে বাংলাদেশের রাজনীতিতে দেখা দিয়েছে নানাবিধ ব্যবহার। তবে রাজনীতির অঙ্গনে প্লাসের চেয়ে জয়জকার অধিক বেশি মাইনাসের। এ কারণেই আমাদের দেশের রাজনীতিবিদরা মাইনাস ফর্মুলার দিকে সহসাই অনেকগুণে বেশী অগ্রগামী। মাইনাস ফর্মুলার তীর কেউ ছুঁড়ে দেন রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ দলে। আবার কেউ ছুঁড়ে দেন স্বদলে। এতে প্রয়োজনীয়তা থাক বা না থাক, সেটা বড় কথা নয়। কে কী ভাবে রাজনীতিতে ‘প্লাস-মাইনাস’ ফর্মুলা নগ্নভাবে ব্যবহার করছেন আজ সেটাই বড় ভাববার বিষয়।

ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তার এক পর্যায়ে ‘প্লাস’, ‘মাইনাস’ ফর্মুলাটি বিশেষ করে রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণে পরিণত হয়েছে। সবদিক বিবেচনা করে নানাজনে নানাভাবে ‘প্লাস-মাইনাস’ ব্যবহার করতে প্লাসের চেয়ে মাইনাস ফর্মুলার দিকে ঝুঁকে থাকতে দেখা যায় অনেকটাই বেশি। এ ছাড়া ফর্মুলাটির নীতি অনুযায়ী ‘প্লাস’ আর ‘প্লাস’ এ মিলে ‘প্লাস’ হয়। অন্যদিকে ‘মাইনাস’ আর ‘মাইনাস’ এ মিলে ফলাফল ‘প্লাস’। তবে ‘প্লাস’ আর ‘মাইনাস’ এবং ‘মাইনাস’ আর ‘প্লাস’ এ মিলে ফলাফল ‘মাইনাস’ হওয়ায় কৌশলগত কারণেই পলিটিক্যাল লিডাররা ‘মাইনাস ফর্মুলা’ টিকেই অত্যাধিক গুরুত্ব দিয়ে থাকেন। মাইনাস ফর্মুলাটিকে ব্যবহার করতে রাজনীবিদরা অন্য সবার চেয়ে এগিয়েও বটে। যে কারণে লিডাররা ‘মাইনাস’ ফর্মুলাটি বিভিন্ন সময় বিভিন্নভাবে ব্যবহার করে আসছেন। তবে কেউ কেউ স্বীয় উদ্দেশ্য হাসিল করতে ইচ্ছা মাফিক থেকে শুরু করে নগ্নভাবে ‘মাইনাস’ ফর্মুলাটিকে ব্যবহার করতে দ্বিধা করছেন না।

স্বাধীনতার পর এ দেশের উন্নয়ন আর যাই হোক, বিশেষ করে গণমাধ্যমের যে বিস্তার লাভ হয়েছে এটা মোটেও অস্বীকার করার নয়। বরং বারবার গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধের অপচেষ্টার পরও সব বাধা অতিক্রম করে আজকাল গণমাধ্যমের সুফলের হাওয়া আকাশে-বাতাসে বিরাজ করছে। ফলে দেশের মফস্বল এলাকা থেকেও খুব সহজেই দেশ-বিদেশের অনেক হালতই জানা যাচ্ছে। 

গণমাধ্যমে জানা যায়, আমাদের দেশে মাইনাস ফর্মুলার রাজনীতির চর্চা অতীতেও ছিল। এখনও হচ্ছে। বিশেষ করে ইদানীং মাইনাস ফর্মুলার রাজনীতিতে চরম হাড্ডা হাড্ডি লেগেছে। তৃণমূল নেতাকর্মীদের থেকে আরম্ভ করে একেবার দলের শীর্ষ নেতারাও মাইনাস ফর্মুলার রাজনীতিতে বড় মসগুল। তবে মাইনাস ফর্মুলার রাজনীতিতে আজ হাড্ডা হাড্ডি লডাই থাকলেও শুরুটা অনেক পুরোনো। স্বাধীনতার পরবর্তী সময় থেকেই উৎপত্তি হয়েছিল মাইনাস ফর্মুলার রাজনীতির। স্বীয় উদ্দেশ্যপূর্ণ রাজনীতিতে মাইনাস ফর্মুলাটি বেশী গুরুত্ব পায়। এতে কতিপয় নেতার কণ্ঠে অশুভ কথাও কম শোনা যায় না। বরং আজকাল এমন হয়েছে যে, রাজনৈতিক মিটিং-মিছিল এমনকি টক-শো, সাংবাদিক সমম্মেলনেও মাইনাস ফর্মুলার রাজনীতিতে অশুভ কথামালায় রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে আক্রমণ করা হচ্ছে তথাকতিথ বিজ্ঞ দেশপ্রেমিক রাজনৈতিক বন্ধুদের তরফ থেকে।

জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) সভাপতি মহাজোট সরকারের তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু প্রায় প্রতিদিনই মাইনাস ফর্মুলার রাজনীতিতে বেশ সজাগ থাকেন। কোনো সভা, সমাবেশ কিংবা সেমিনার হলেই তিনি মাইনাস ফর্মুলার রাজনীতির কথা অনেকটা দাপটেই ছুঁড়ে দেন। তথ্যমন্ত্রী অনেক দিন থেকে তিনবারের নির্বাচিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে রাজনীতিতে মাইনাস করার কথা বলছেন। আর এতে তার কণ্ঠে অশুভ কথারমালা অনায়েসেই ঝরতে  শোনা যায়। মাইনাস ফর্মুলার রাজনীতিতে বাস্তবায়ন করতে মন্ত্রী বাহাদুর ‘রাজনৈতিক শয়তান’, বিশ্ব বেঈমান’, ‘বেহায়া’, ‘জঙ্গিবাদীর মা’ ‘জামায়াতের ঘোমটাওলা আমীর’, ‘সন্ত্রাসী’, ‘মিথ্যাবাদী জননী’ ও ‘রাজাকারের মা’ ইত্যাকার নানাবিধ অশালীন শব্দে বেগম খালেদা জিয়াকে আক্রমণ করতে দ্বিধা করেন না।

ইতিহাস স্বাক্ষ্য দেয়, ১৯৭২ সালের অক্টোবর মাসে আজকের মাননীয় তথ্যমন্ত্রী মহোদয়েরাই জাসদের ভক্ত হিসেবে মাইনাস ফর্মুলার রাজনীতি এদেশে প্রথম চর্চা শুরু করেন। ১৯৭২-৭৫-এ রাজনীতি থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে মাইনাস করার জন্য মনোনীত করা হয়েছিলো। পরিকল্পনা অনুযায়ী অতি সফলভাবে মাইনাস ফর্মুলাটি বাস্তবানও করা হয়েছে। যার জলজ্যান্ত প্রমাণ, জাতীয় নেতা বঙ্গবন্ধ সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এম. মুনসর আলীর বাড়িতে জাসদ বাহিনীর নেতৃত্বে হামলার ঘটনা।

এরপর বাকশাল কায়েমের মধ্য দিয়ে এ দেশের রাজনীতিতে দ্বিতীয়বার মাইনাস ফর্মুলাটি প্রয়োগের মহাপরিকল্পনার বোমা ফাটানো হয়। দুর্বল চিন্তায় ওই পরিকল্পনা অঙ্কুরেই ভঙ্গুর হয়। ফলে ভেস্তে যায় চক্রান্তকারীদের আসল উদ্দেশ্য। জাসদের ছকে তৃতীয় দফায় মাইনাস ফর্মুলাটি প্রয়োগের লক্ষ্য বস্তুতে পরিণত হন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। যার ফলশ্রুতিতে অকালেই না ফেরার দেশে পাড়ি জমাতে হয় লাল-সবুজের স্বাধীনতার এই মহান নায়ককে। 

এরপর সরকারি বন্দুকের নলে মাইনাস ফর্মুলাটি প্রয়োগের নয়া ইতিহাস সৃষ্টি হয়। ফলশ্রুতিতে বিচারপতি আব্দুস সাত্তার হয়ে মেজর জেনারেল খালেদ মোশাররফ বীর উত্তম শেষঅবধি মেজর জেনারেল রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান মাইনাস ফর্মুলার শিকার হয়ে অকালেই পাড়ি জমান না ফেরার দেশে। এরপর মাইনাস ফর্মুলার পথ অনুসরণ করেন পল্লীবন্ধু খ্যাত হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ। তার মাইনাস ফর্মুলার লক্ষ্য বস্তুর শিকার হন প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনা।

২০০৭ সালের ওয়ান-ইলেভেন-এর ক্ষমতাধর ফকরুদ্দীন-মঈনদ্দীন সরকারের আমলে বিংশ শতাব্দীতে আবারও এ  দেশের রজনীতিতে মাইনাস ফর্মুলাটি প্রয়োগের প্রবল আওয়াজ ওঠে। এতে রাজনীতির অঙ্গন থেকে দুই দলের দুু’জন প্রভাবশালী রাজনীতিবিদকে বিদায়ের ঘন্টা বাজানোর কূট-কৌশল গ্রহণ করে নানাবিধ ফিকির-ফন্দি আঁটা হয়। ফলে চারদিকে সৃষ্টি হয় মাইনাসের তুমুল হৈ হুল্লা। মাইনাস ফর্মুলার টার্গেটের একজন হলেন- বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া। অপরজন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা। গণমাধ্যমের সুফলে আর গণবিস্ফোরণে ওই পরিকল্পনা শেষমেশ আলোর মুখ দেখেনি। ফলে ব্যর্থ হয় ১/১১ এর ক্ষমতাধর ফ-ম সরকারের যতো অপক্ষমতার কূট-কৌশল। 

২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি নবম জাতীয় সংসদে প্রবেশের মধ্য দিয়ে নয়া মোড়কে এদেশের রাজনীতিতে আবারও মাইনাস ফর্মুলা প্রয়োগের চিন্তা-ফিকির শুরু করে আওয়ামী লীগ নেতুত্বাধীন মহাজোট সরকার। উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করতে তারা বেছে নেন ‘রাজাকার জিকির’।

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খালি মাঠে গোল দিয়ে ‘ম্যারাডোনা’ কৃতীত অজর্নকারী লীগবাদীরা নয়া মোড়কে এদেশের রাজনীতিতে আবারও মাইনাস ফর্মুলা প্রয়োগের চিন্তা-ফিকির শুরু করে নানাবিধ ফন্দি আঁটতে শুরু করেন। দিগন্ত, ইসলামিক, চ্যানেল ওয়ান হয়ে আমার দেশ বন্ধকরত হাজার হাজার উদ্দেশ্যপূর্ণ মামলায় লাখ লাখ বিরোধীমতীদের হয়রানিসহ শেষঅবধি বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের ৫বছরের কারাদ- ভায়া ‘বিএনপি মাইনাস ফর্মুলা’ প্রকল্পটিই তা প্রতিয়মান। এবার পরিষ্কারভাবে বুঝা যায় যে, মাইনাস ফর্মুলাটি প্রয়োগ করতে পারলেই হয়তো আগামীতে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের গণতন্ত্রের ক্লাব খ্যাত জাতীয় সংসদে প্রবেশের বিকল্প কোনো পথ এবং সুযোগ উভয়ই থাকবে না। সব অধিকার আদায় হবে মাইনাস ফর্মুলা প্রয়োগকারীদের। ফলে তাদের ভাগ্যের কেল্লাও ফলবে রাজনীতিতে। এতে অন্যের অধিকার হরণ হলেও মাইনাসকারীদের তাতে নো-টেনশন, ডু ফূর্তি। ‘যতো দিন শেখ হাসিনা বেঁচে থাকবেন, ততদিন তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী থাকবেন’ এমন ঘোষণা ‘বিএনপি মাইনাস ফর্মুলা’ প্রকল্পটিই বাস্তবায়নের যথেষ্ট ইঙ্গিত বহন করে।

গণতন্ত্রের হাউজে প্রবেশের ‘টিকেট’ সংগ্রহের যাবতীয় কার্যক্রমে বাধা প্রয়োগ করে ন্যূনতম রাজনৈতিক অধিকারটুকুও ছিনিয়ে নেওয়ার পরপরই দশম সংসদ নির্বাচনে খালি মাঠে গোলদাতাদের পক্ষে বয়ান দেওয়া হচ্ছে যে, ‘খালেদা জিয়া গণতন্ত্রে বিশ্বাসী নন। তিনি দেশে অনির্বাচিত সরকারের হাতে ক্ষমতা দিতে চান।’

এরপর খালেদা জিয়াকে মাইনাস বা বিয়োগ করার কথা চারদিকে চাউর হচ্ছে। শোনা যাচ্ছে, খালেদা জিয়া রাজনীতি থেকে মাইনাস হলেই নাকি রাজনৈতিক সব প্রতিবন্ধকতা রোধ হবে। 

আমরা বলতে চাই, বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক হিসাবের জাবেদায় মাইনাস ফর্মুলাটি প্রয়োগ করা নিতান্তই সহজতর নয়। যদিও সময় সাপেক্ষে তাকে রাজনৈতিকভাবে মাইনাস কিংবা বিয়োগ করা সম্ভব হতে পারে। কিন্তু ইতিহাসের পাতা থেকে খালেদা জিয়াকে মাইনাস করা শুধু চ্যালেঞ্জিং বিষয় নয়; অসম্ভবও বটে। কারণ প্রবীণদের কিংবা নতুন প্রজন্মদের যদি এদেশের প্রধানমন্ত্রীদের নামের তালিকার একটি সারণি তৈরি করতে বলা হয়। এতে বেগম খালেদা জিয়ার নাম বাদ দেওয়াটা হবে শিক্ষিত মেধাহীনদের অযোগ্যতা। আর অশিক্ষিত আবাল-বৃদ্ধ কিংবা নতুনদের হবে অক্ষমতা।

বাংলাদেশের ইতিহাসে এ রকম সত্যকে পেছনে ফেলে মাননীয় তথ্যমন্ত্রী সদাচার গলা হাঁকিয়ে বয়ান দিচ্ছেন যে, খালেদা জিয়া ‘জঙ্গিবাদী’, ‘সহিংসতার মদদদাতা’। নির্বাচিত তিন তিনবারের একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে 

মন্ত্রী মহোদয় অব্যাহতভাবে প্রতিদিন ‘রাজনৈতিক শয়তান’ বলে আখ্যায়িত করে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করে যাচ্ছেন। মন্ত্রী মহোদয় খালেদা জিয়াকে ‘দুর্র্ধর্ষ সন্ত্রাসী’ ও  চোগলখুরি নামেও অপবাদের বয়ান দিতে কোনো ধরনের দ্বিধা করছেন না। আমরা মনে করি, তথ্যমন্ত্রী তথ্য বেশী জানবেন এটা মোটেও অস্বাভাবিক নয়। সেকারণে আমরা না জানলেও তথ্যমন্ত্রী হিসেবে তার কাছে হয়তো বেগম খালেদা জিয়া একজন ‘দুর্র্ধর্ষ সন্ত্রাসী’, ‘মিথ্যাবাদী’ ও ‘জঙ্গিবাদী’ এমন যথেষ্ট তথ্য-প্রমাণ রয়েছে। সেকারণেই হয়তো মাননীয় বিজ্ঞ মন্ত্রীমহোদয় ওই রকম বেফাঁস অভিধায় সদাচার আক্রমণ করতে দ্বিধা করছেন না একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে। তবে কথা থাকে, একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে জনসভায় ‘মিথাবাদী’, ‘শয়তান’, এমনকি ‘জঙ্গিবাদীদের মা’ ইত্যাকার ‘অশুভ সম্বোধন’ করা কেবল বেমাননই নয়। এসব অপ্রত্যাশিত হীনকর্ম একজন আইন প্রণেতা হিসাবে শিষ্টাচার বহির্ভূতও বটে। বাস্তবতা হচ্ছে, বেগম খালেদা জিয়া ইতিহাসের পাতায় কতদিন থাকবেন বা কতটুকু স্থান দখল করবেন ওই পরিসংখ্যান এখন মিলানো না গেলেও তাঁকে অসম্মমান করাটা যে জ্ঞানীর কাজ নয় এমনটা নিশ্চিতভাবেই বলা যায়। কারণ খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন জোটে পরিধি ক্রমেই বেড়েই যাচ্ছে। গণতন্ত্র হাউজে প্রবেশের আন্দোলন-সংগ্রাম করারও যথেষ্ট শক্তি সামথ্যও দেখা যাচ্ছে। ফলে ক্ষমতায় ফিরতে সুযোগও সৃষ্টি করে নিতে পারে। কাজেই খালেদা জিয়াকে রাজনীতিতে মাইনাস ফর্মুলায় হঠানো বা বিয়োগের অপকর্ম থেকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ করাটাই হবে সাধুবীর জন্য একান্তই সাবধানতা। তাছাড়া স্বাধীন গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে রাজনীতির অঙ্গন থেকে কাউকে মাইনাস করার চিন্তা-ফিকির প-শ্রমও বটে। 

ইতিহাসের পাতা থেকে বঙ্গবন্ধুকে ডিলেট করে দেওয়াটা কোনো ইতিহাসবিদের ন্যূনতম হিম্মত আছে বলে কমপক্ষে আমার বিশ্বাস হয় না। বরং তিনি সর্বোচ্চ আসনেই আসীন থাকবেন এমনটা অসত্য নয়। তাপরও বঙ্গবন্ধুরই যখন স্বাধীন দেশের দেশপ্রেমিক নামধারী লিডারদের কাছে শেষ রক্ষা হয়নি। তাঁর চেয়ে কত যে পরের সিরিয়াল বেগম খালেদা জিয়ার এ হিসাব কেউ জানলেও অন্তত আমাদের পক্ষে অসম্ভব। কারণ বড় সখের পেশা সাংবাদিকতার মুজেজায় ন্যূনতম অধিকারের মুখ দেখার ইচ্ছা পোষণ করায় প্রায় দেড় ডজন মামলার ঘানি টানতেই কর্মকাম শেষ করে ফেলেছি। বস্তুনিষ্ঠ খবর পত্রিকায় প্রকাশের দায়ে পুলিশী গ্রেফতার থেকে শুরু করে থানা হাজতসহ জেল-হাজতে বসবাস করতে হয়েছে। কত বার যে আদালতের বারান্দায় বারান্দায় অসহায়ের মতো জামিন চাওয়া আর হাজিরা দেওয়ায় আজকাল মামলার ধার্য্য তারিখটাও মনে না থাকায় জামনি বাতিলের তিক্ত অভিজ্ঞতাও বেশ পুরনো। পুলিশী হয়রানি থেকে নিষ্কৃিত পেতে অনেক সাবধানতা অবলম্বন করতে হয়। এসব নানাবিধ কারণে জ্ঞান-বুদ্ধি আজ অনেকটাই লোপ পেয়েছে। যাক, দুখের সংলাপ বলে পাঠকদের সময় নষ্ট করতে চাই না। শুধু এতটুকু বলতে চাই, একটি দেশের স্বাধীনতার নায়ককে অশ্রাব্য ভাষায় আঘাত করে ইতিহাসকে জর্জরিত করা হলেও জাতির সম্মানের কোনো হানি না ঘটে। সেদেশে একজন গৃহবধূ থেকে প্রধানমন্ত্রী হয়েছিল এমন ব্যক্তিকে অশ্রাব্য ভাষায় আঘাত করা বুঝি খুব একটা বেমাননা নয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ