ঢাকা, শুক্রবার 18 May 2018, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫, ১ রমযান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

জনগণ ভোট দিলে  আছি না দিলে নাই   -----প্রধানমন্ত্রী 

 

স্টাফ রিপোর্টার: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘আমাদের সরকারের সময় ছয় হাজারের মতো স্থানীয় সরকার নির্বাচন হয়েছে। একটা নির্বাচন নিয়েও কেউ প্রশ্ন তুলতে পারে নাই। কারণ, আমরা সেখানে হস্তক্ষেপ করি নাই, করবোও না। জনগণের এটা অধিকার। জনগণ ভোট দিলে আছি, না দিলে নাই। তিনি বলেন, ‘আমরা চাই দেশে সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক ধারা ফিরে আসুক। সেটা ফিরে এসেছে। এটা যেন কেউ আর বানচাল করতে না পারে, নষ্ট করতে না পারে।

গতকাল বৃহস্পতিবার (১৭ মে) জাতীয় প্রেস ক্লাব প্রাঙ্গণে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন(বিএফইউজে) আয়োজিত প্রতিনিধি সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী, তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, তথ্য প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম, বিএফইউজের সভাপতি মনজুরুল আহসান বুলবুল, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি আবু জাফর সূর্য প্রমুখ এই সম্মেলনে যোগ দেন।

যারা এই দেশে কারফিউ দিয়েছে, তারা নির্বাচন সুষ্ঠু কিনা, তা নিয়ে কথা বলে, নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করে বলে মন্তব্য করেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘বিএনপি জোর গলায় গণতন্ত্রের কথা বলে। নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু নিরপেক্ষ হলো কিনা সে বিষয়ে বক্তব্য দেয়। কিন্তু আমরা যদি প্রশ্ন করি, এই দেশে নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ কারা করেছে? জিয়াউর রহমান অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে। তার হ্যাঁ/না ভোট, তার রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, অথবা সেই ৭৯ সালে সংসদ নির্বাচন প্রত্যেকটা নির্বাচনে ভোট চুরির প্রক্রিয়াটা আছে। এই দেশে দুর্নীতি এবং ঋণখেলাপি কালচার, এটা তো তারাই  তৈরি করেছে। অবৈধ ক্ষমতা দখল করে একটা এলিট শ্রেণি তৈরি করে তাদের ওপর নির্ভর করে ক্ষমতাকে কুক্ষিগত করা এটাই ছিল তাদের লক্ষ্য।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কাজেই যারা অন্ধকার পথে ক্ষমতায় আসে, অস্ত্র ঠেকিয়ে রাষ্ট্রপতি সায়েমকে হটিয়ে ক্ষমতায় আসে, তারা আবার গণতন্ত্র কীভাবে দেয়, সেটা আমি জানি না। এমনকি প্রতিদিন তো কারফিউ ছিল। তার মানে কারফিউ গণতন্ত্র দিয়েছে, জনগণতন্ত্র তারা দেয় নাই। এটাই হলো বাস্তবতা এবং গণতন্ত্রের ভাষাও তারা বোঝে না। যারা সব সময় জনগণের ভোট নিয়ে ছিনিমিনি খেলেছে, তাদের মুখে নির্বাচন, গণতন্ত্র, আবার নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়ার কথা শুনতে হয়।’

সুশীল সমাজের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশে কিছু লোক আছে, যারা দলও গঠন করতে পারে না, নির্বাচনও করতে পারে না। কিন্তু ক্ষমতায় যাওয়ার খায়েশটা তাদের আছে। যদি কোনও অবৈধপন্থায় কেউ ক্ষমতা দখল করে, অথবা ইমার্জেন্সি আসে, অথবা মিলিটারি রুলার ক্ষমতা নেয়, তখন তাদের গুরুত্বটা বাড়ে। তখন তারা নাকি একটা পতাকা পায়। এটাই হচ্ছে দুর্ভাগ্য এই দেশের। এরা জ্ঞানী-গুণী হয়েও এই ধরনের পাপ মন নিয়ে কাজ করে। এই দেশ আজ এগিয়ে যাচ্ছে। আওয়ামী লীগ সরকারে আছে। গণতন্ত্র আছে বলেই তো দেশ এগিয়ে যাচ্ছে।

পত্রিকার নাম উল্লেখ না করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা জানেন, দুটি পত্রিকা আমি পড়িও না, রাখিও না। আমার গণভবনে ঢুকতেও দিই না। দরকার নেই আমার। কাজের মধ্য দিয়েই জনগণই জেনে নেবে। কাজের মাধ্যমেই আমি থাকব। আওয়ামী লীগ থাকলে কী হয় আর না থাকলে কী হয়, তা দেশের মানুষ বোঝে।’ তাকে সব সময় সমালোচনার মধ্যে থাকতে হয়েছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, সে অনুযায়ী বিএনপির নির্যাতনের কথা গণমাধ্যমে উঠে আসেনি।

 শেখ হাসিনা বলেন, ‘কত পত্রিকা আমাদের বিরুদ্ধে লিখেছিল, কিন্তু কী দুর্নীতি প্রমাণ করতে পেরেছে? যারা এসব কথা লিখেছে, তাদের কী করা উচিত? এটাই কি সংবাদপত্রের স্বাধীনতা? আমি বলেছিলাম, কোথায় দুর্নীতি হয়েছে, তা প্রমাণ করতে। ওয়ার্ল্ড ব্যাংক প্রমাণ করতে পারেনি। কানাডার ফেডারেল কোর্ট বলেছে, এসব বানোয়াট।’

 শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা সমুদ্র বিজয় করেছি, আজকে আকাশ জয় করেছি। এই স্যাটেলাইট নিয়ে কত কথা এবং আরও অনেক কথাই তারা বলে। নিজেদের যদি মাথায় ঘিলু কিছু কম-টম থাকে তাহলে তো বলবেই। আমি নেভির জন্য সাবমেরিন কিনেছি। এই সাবমেরিন উদ্বোধন করে আসতে পারলাম না, বক্তৃতা শুনলাম যে, সাবমেরিন নাকি ফুটা, ফুটা পুরনোটা কিনেছি। ওটা নাকি পানির নিচে চলে গেছে। সাবমেরিন তো পানির নিচেই যাবে। সেই জন্যই তো আনা, সেই অভিযোগ আসলো।’

তিনি বলেন, ‘‘পদ্মা সেতুতে যেদিন স্প্যান উঠলো, সব পত্রিকা লিখলো পদ্মা সেতুর স্প্যান উঠেছে। সেই কথা শুনেই একজন বক্তৃতা দিয়ে ফেললেন, ‘জোড়া-তালি দিয়ে পদ্মা সেতু বানানো হচ্ছে, কেউ ওই সেতুতে উঠবেন না।’ আমি দেখবো ভবিষ্যতে এই সেতু হওয়ার পর তারা ওঠে কিনা। স্যাটেলাইট সম্পর্কে তো আরও কথা। কী যেন একটা আগুন জ্বালাইয়ে আকাশে উড়ে গেলো, আমরা কী পেলাম? এটা থেকে কী পাবে, সেই সাধারণ জ্ঞানটুকুও যাদের নাই, তারা ক্ষমতায় থেকে দেশের উন্নয়নটা কীভাবে করবে, এটা আপনারাই বিবেচনা করেন। দেশবাসী বিবেচনা করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘টকশোতে বলছেন বা মাইকের সামনে বলছেন। কথাটা বলার পর যখন বলেন স্বাধীনতা নাই, তখন আমার প্রশ্ন, তাহলে এত কথা বললেন কীভাবে? অনলাইন মিডিয়া এমনকি সোশ্যাল মিডিয়া, এর একটা নীতিমালা থাকা প্রয়োজন। অনলাইন মিডিয়ার নীতিমালা প্রয়োজন। সেই সঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়ার ক্ষেত্রেও। আমি জানি না সাংবাদিকরা কেন আতঙ্কিত হচ্ছে নীতিমালা নিয়ে। আওয়ামী লীগ তো কখনও হয়রানি করে না। একটা মানসিক ব্যাধি আছে আমাদের দেশে। অনেকে মনে করে সরকারের বিরুদ্ধে সংবাদ পরিবেশন না করলে গণমাধ্যম চলবে না। এই মানসিক ব্যাধি থেকে আমাদের বের হতে হবে। দেশের জন্য যদি ভালো কাজ করে থাকি, সেটা যেন একটু ভালোভাবে প্রচার করা হয়।’

 শেখ হাসিনা বলেন, ‘আওয়ামী লীগের সভাপতি হয়ে বাংলাদেশে আসার পর ৩৭ বছর পূর্ণ হলো। তবে দুঃখের কথা, আমি কখনও প্রেসের কাছ থেকে খুব বেশি সহযোগিতা পাইনি। সব সময় একটা বৈরিতা নিয়েই আমাকে এগুতে হয়েছে। সমালোচনার মুখোমুখি হয়েই আমাকে এগুতে হয়েছে। কিন্তু আমি সেগুলো নিয়ে কখনও মাথা ঘামাইনি। কারণ, আমি জানি কী কাজ করছি। ন্যায় এবং সত্যের পথে থাকলে, সৎপথে থাকলে ফলাফল পাওয়া যায়।

তিনি বলেন, ‘২০০১ সালের পর আমি দেখেছি, বিএনপির অত্যাচার-নির্যাতনের কথাটা অনেকেই লিখতে চায়নি। আবার অনেকেই সাহসের সঙ্গে সংবাদ দিয়েছে। যারা দিয়েছে তাদের ধন্যবাদ জানাই, আর যারা দেয় নাই তাদের করুণা করা ছাড়া আর কোনও উপায় নাই। আপনারা জানেন যে দুটি পত্রিকা আমি কিন্তু পড়িও না, রাখিও না। গণভবনে ঢোকা নিষেধ। দরকার নেই আমার। ওই সার্কাসের গাধার মতো যারা বসেই থাকে দড়ি ছিঁড়বে কবে, আর পতাকা পাবে কবে? তারা দ্বরা তো আমার দেশের জন্য কল্যাণের কাজ হবে না। তাদের আমার দরকার নাই।

সংগঠনকে আরো শক্তিশালী করার আহ্বান

সংগ্রাম ডেস্ক : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুর আদর্শে ঐক্যবদ্ধ থেকে সংগঠনকে আরো শক্তিশালী করতে সর্বস্তরের নেতাকর্মীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একটা কথা মনে রাখতে হবে, সংগঠন যদি শক্তিশালী হয়, সংগঠনে যদি ঐক্য থাকে আর এই সংগঠন যদি জনগণের পাশে থেকে জনমত সৃষ্টি করতে পারে তখনই যেকোন কিছু অর্জন করা সম্ভব হয়। যা আমরা বার বার প্রমাণ করেছি।’

প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে আওয়ামী লীগ এবং তার সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসে গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে তাকে শুভেচ্ছা জানাতে এলে তিনি এ কথা বলেন।

১৯৭৫ এর বিয়োগান্তক অধ্যায়ের পর শেখ হাসিনা প্রবাসে দীর্ঘদিন রিফ্যুজি হিসেবে কাটাতে বাধ্য হবার পর আওয়ামী লীগ তাকে সভাপতি নির্বাচন করলে ১৯৮১ সালের এই দিনে তিনি দেশে ফিরে আসেন।

প্রথমে দলের সিনিয়র নেতাকর্মীরা প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানান।

এ সময় অন্যান্যের মধ্যে দলের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য এবং শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু এবং তোফায়েল আহমেদ,সভাপতি মন্ডলীর সদস্য কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী এবং অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন, দলের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, যুগ্ম সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ এবং ডা দিপু মনিসহ দলের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

এরপর একে একে প্রধানমন্ত্রীকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানায় বিভিন্ন সহযোগী সংগঠন।

ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ উত্তর ও দক্ষিণ, আওয়ামী যুব লীগ, ছাত্রলীগ, আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ, কৃষক লীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ, বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ, যুব মহিলা লীগ, জাতীয় শ্রমিক লীগ, তাঁতী লীগ, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন এবং মহিলা শ্রমিক লীগের নেতা-কর্মীরা শুভেচ্ছা জানান প্রধানমন্ত্রীকে।

প্রধানমন্ত্রী এদিন তার ভাষণে দেশে ফেরা থেকে শুরু করে তার রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন ঘাত প্রতিঘাত, আন্দোলন-সংগ্রাম এবং দেশ পরিচালনার ক্ষেত্রে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জসমূহ তুলে ধরেন এবং তার অবর্তমানে আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব খোঁজার জন্যও দলীয় নেতা-কর্মীদের পরামর্শ দেন ।

প্রধানমন্ত্রী ৩৭ বছর আগের ঝঞ্ঝা বিক্ষুব্ধ এই দিনে তার স্বদেশে ফিরে আসার স্মৃতি রোমন্থনে বার বারই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেইদিন প্রচন্ড ঝড়-বৃষ্টির মধ্যেই তাকে বরণ করে নেয়ার জন্য মানুষের যে ঢল দেখেছেন, মানুষের যে ভালবাসা পেয়েছেন তা তাকে এখনও আপ্লুত করে।

মা-বাবা ভাই, পরিজনদের হারিয়ে বাংলার মানুষের কাছ থেকে পাওয়া ভালবাসাই তাঁকে চলার পথ দেখিয়েছিল উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন,‘তাঁদের আশ্রয়েই আমার রাজনৈতিক জীবনের শুরু।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, যে ক্ষমতা ক্যান্টনমেন্টে চলে গেছে তা জনগণের কাছে ফিরিয়ে দেয়া এবং দেশের গণতন্ত্রায়ন ও নিরন্ন দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটানোই ছিল তাঁর রাজনীতির লক্ষ্য।

ছাত্র রাজনীতি করলেও আওয়ামী লীগের মত সংগঠনের দায়িত্ব নেয়াটা একটা বিরাট চ্যালেঞ্জ ছিল উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এক কঠিন সময়ে তিনি দেশে ফেরেন। জাতির পিতার খুনীরা তখন পুরস্কৃত হয়ে বহাল তবিয়তে,ইনডেমনিটি অর্ডিন্যান্স থাকায় পিতা হত্যার বিচার চাইতে পারছেন না, জিয়া তখন নিজেকে রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করে প্রতিরাতে কারফিউ দিয়ে দেশ চালাচ্ছে। আর ভাঙ্গার চেষ্টা চলছে আওয়ামী লীগকে।

আওয়ামী লীগ সভাপতি অভিযোগ করেন, ১৯টি ক্যু করে সেনাবাহিনীর বহু মুক্তিযোদ্ধা সেনা অফিসার-সৈনিকদের হত্যা এবং বিমানবাহিনীর ৫৬২ জন কর্মকর্তাকে হত্যা করেছে জিয়াউর রহমান।

শেখ হাসিনা বলেন,‘অনেকে জানেনা (ষড়যন্ত্রের বিষয়ে) ছুটিতে বাড়িতে ছিল তাদেরকে ধরে নিয়ে এসে ফায়ারিং স্কোয়াডে দিয়ে মারা হয়েছে।’

জিয়াউর রহমান হত্যাকান্ডের পর সেনাবাহিনীর অফিসারদের হত্যার ষড়যন্ত্রের ব্লুপ্রিন্ট বাস্তবায়ন করা হয়েছে এমন অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘জিয়া তার দলের ভেতরের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে চট্টগ্রামে নিহত হন।’

‘জিয়া নিহত হবার পর বিচারের নামে প্রহসন করে ১২ জন তরুন অফিসারকে মারা হলো, অনেকে কিছুই জানে না ঘরে বসে টেলিভিশন দেখছে তাকেও ফাঁসি দেয়া হয়েছে,’ বলেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে জাতির পিতা হত্যাকান্ড এবং যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের সাক্ষিদের নিরাপত্তা বিধানে সচেষ্ট থাকার জন্যও দলের নেতা-কর্মীদের পরামর্শ দেন।

‘আমরা হত্যার বিচার করেছি, কিন্তুু ষড়যন্ত্রের বিচারতো আর হয়নি, তদন্ত হয়নি। এটা হচ্ছে বাস্তবতা।’

প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে দেশের তথাকথিত বুদ্ধিজীবী শ্রেণী যারা দেশের গণতন্ত্র দেখতে পান না, তাদের কঠোর সমালোচনা করে এদেরকে সামরিক সরকারগুলোর পদলেহনকারী ও সুবিধাভোগী বলে উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, ‘অবৈধভাবে দল গঠনের মধ্যে তারা গণতন্ত্র পায়।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘৩৭ বছর হয়ে গেছে এ দলের সভাপতি হিসেবে, এতগুলো বছর থাকাটা বোধ হয় সমীচিন নয়। আওয়ামী লীগকে মনে হয় ধীরে ধীরে চিন্তা করতে হবে তার নতুন নেতৃত্বের কথা।’

তিনি সততার সঙ্গে রাজনীতি করার এবং পাওয়া না পাওয়ার হিসেব না মেলাতে দলীয় নেতা-কর্মীদের প্রতি আহবান জানিয়ে বলেন, ‘কতটুকু দিতে পারলাম, কতটুকু করবো সেটাই বড় কথা।’

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ