ঢাকা, শুক্রবার 18 May 2018, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫, ১ রমযান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

অবহেলায় কবি শেখ ফজলল করিমের কবিবাড়ি

আবু আফজাল মোহাঃ সালেহ:

 কোথায় স্বর্গ ? কোথায় নরক ? কে বলে তা বহুদূর ?

মানুষেরি মাঝে স্বর্গনরক - মানুষেতে সুরাসুর।

রিপুর তাড়নে যখনি মোদের বিবেক পায় গো লয়,

আত্মগ্লানির নরক অনলে তখনি পুড়িতে হয়। 

প্রীতি-প্রেমের পুণ্য বাঁধনে মিলি যবে পর¯পরে,

স্বর্গ আসিয়া দাঁড়ায় তখন আমাদেরি কুঁড়েঘরে” -  এই কবিতাটি অতি চেনা। 

অথবা 

লাগলে মাথায় বৃষ্টি বাতাস

উল্টে কি যায় সৃষ্টি আকাশ ? 

রোদের ভয়ে থাকলে শুয়ে রে

নৌকা বাইবে কারা ?

ছোট্ট নদী কোন সুদূরে ধায় -

বক্ষে  রজত ধারা। 

-মর্ম¯পর্শী এরকম বেশ কিছু কবিতা ছোটবেলায় আমাদের মনে ধরেছিল। এসব কবিতাগুলোর স্রষ্টার নাম জানে না এমন লোক খুব কম পাওয়া যাবে। কবি শেখ ফজলল করিম এগুলোর স্রষ্টা। ১৮৮৩ সালের ১৪ এপ্রিল (৩০ চৈত্র, ১২৮৯ বঙ্গাব্দ) সোমবার বৃহত্তর রংপুর জেলার (বর্তমানে লালমনিরহাট জেলা) কাকিনাতে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। এটি বর্তমানে কালিগঞ্জ উপজেলায় অবস্থিত।  কবির ডাকনাম ছিল মোনা।  

৫৪ বছরে তিনি অনেকগুলো বই লিখেছেন। প্রসঙ্গত, ১৮৮২ সালের ১৪ এপ্রিল সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন কবি শেখ ফজলল করিম। মাত্র ১৩ বছর বয়সে পার্শ্ববর্তী বিনবিনা গ্রামের গনি মোহাম্মদ সর্দারের মেয়ে বসিরন নেছা খাতুনের সাথে বিয়ে হয় কবির। তিনি মোট ৫৫টি কাব্যগ্রন্থ লিখেছিলেন। যার অনেকগুলো এখন পাওয়া যায় না। তাঁর প্রতিভার স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলা ১৩২৩ সনে নদীয়া সাহিত্য পরিষদ তাকে সাহিত্য বিশারদ উপাধিতে ভূষিত করে।

সতেরো বছর বয়সে লিখেছেন লায়লী মজনু।  ১৯০৩ সালে লায়লী মজনু বের হয়। ১৯৩৮ সালে 

বইটির  নবম সংস্করণ প্রকাশিত হয়। এরপর লিখেছেন পরিত্রাণ কাব্য (১৯০৩), পথ ও 

পাথেয় (১৯১৩), খাজাবাবার জীবনচরিত (১৩১৩), বিবি রহিমা (১৯১৮), রাজর্ষি এবরাহীম (১৯২৪)। 

এরপর বের হয় “পয়গম্বরগণের জীবনী”। “মুক্তির পথ” বইটিরও কোন কপি পাওয়া যায়নি। তার 

জীবদ্দশায় তার কবিতা বই আকারে সংকলিত হয়নি। তার কবিতা “ভারতবর্ষ”, “নবনূর”, কোহিনূর, বাসনা,  আরতি, কল্পতরু,  সওগাত, শিশুসাথী, দিলরুবাসহ নানা পত্র-পত্রিকায় ছাপা হয়। কোন পত্রিকায় ছাপা না হওয়া কবির  কবিতা এবং পত্রিকায় প্রকাশিত হওয়া কিছু কবিতা নিয়ে ১৯৯০ সালে মোহাম্মদ আব্দুল কুদ্দুসের স¤পাদনায় “শেখ ফজলল করিমের কবিতা শিরোনামে কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। দুঃখের বিষয়- কবির জীবদ্দশায় তার কোন কবিতার বই প্রকাশিত হয়নি। কবি শেখ ফজলল করিমের কবিতাগুলি অত্যন্ত আকর্ষণীয় এবং ঐতিহাসিক মূল্য সমৃদ্ধ। কবির “আমার জীবন চরিত”  নামে একটি অসমাপ্ত পান্ডুলিপি পাওয়া যায়। এতে লেখকের দীর্ঘ ২১ বছরের  জীবনকর্মের স্মৃতিচারণ আছে। 

১৯৩৬ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর কবি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগের পর অরক্ষিত হয়ে পড়ে কবি শেখ ফজলল করিমের গ্রামের বাড়ি। এখন অবহেলায় পড়ে আছে কবি ভিটা ও বাড়িঘর। মেরামত করে বসাবস করছেন কবির নাতী ও বংশধরের সদস্যগণ। কবি শেখ ফজলল করিম এর বাসায় গিয়েছিলাম সপরিবারে বছরের শুরুতে।  এটি “কবিবাড়ি” নামে পরিচিত। কবির নাতি ওহায়েদুননবীর সাথে কথা হয়। দুঃখকষ্টে আছেন তাঁরা। অনেক অবহেলায় পড়ে আছে কবির স্বৃতি। ৫ জানুয়ারি,২০১৮ এর ঘটনা। কবির জন্মভূমি কাকিনায়  “কবি বাড়ি”তে কিছু স্মৃতি এখনও সংরক্ষিত আছে : টুপি, ডায়েরি, দাড়ি, দোয়ত, কলম, বোতাম, মেডেল, ছোট কোরান শরিফ, গ্লাস, খাট, চেয়ার, কবির একটি বিশাল ছবি যা দেয়ালে টাঙানো আছে। এ ছাড়াও আছে ৪টি পান্ডুলিপি। 

অবস্থান

কালীগঞ্জ উপজেলার কাকিনা ইউনিয়নের কাকিনা মৌজায় শেখ ফজলল করিমের বাড়ি।

যাতায়াত ব্যবস্থা

লালমনিরহাট সদর হতে অথবা কালীগঞ্জ উপজেলা সদর হতে সড়কপথে কবি শেখ ফজলল করিমের বাড়ি ও কবর দেখতে যাওয়া যায়। কালীগঞ্জ উপজেলা সদর হতে সড়কপথে এর দূরত্ব ১০ কিমি। 

লালমনিরহাট থেকে ২৬ কিমি দূরে কবিবাড়ি অবস্থিত। 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ