ঢাকা, শুক্রবার 18 May 2018, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫, ১ রমযান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

খুলনায় নতুন কায়দায় ভোট ডাকাতি হয়েছে ----------মির্জা ফখরুল

 

স্টাফ রিপোর্টার : খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বর্তমান সরকার নতুন কায়দায় ভোট ডাকাতি করেছে মনÍব্য করে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, নির্বাচন কমিশন সুষ্ঠু নির্বাচন পরিচালনার যোগ্য নয়। তারা একটা সিটি করপোরেশন নির্বাচন করতে পারে না। তারা কী করে সুষ্ঠুভাবে জাতীয় নির্বাচন করবে ? এসময় তিনি  কমিশনের পদত্যাগসহ ইসির পুনর্গঠন দাবি করেন। 

গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে দলের যৌথ সভা শেষে রাজধানীর নয়াপল্টনের বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে মির্জা ফখরুল এই দাবি করেন।

খুলনার নির্বাচন প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, আজ আওয়ামী লীগ আবার ক্ষমতায়, তারা ফের ভিন্ন মতকে পদদলিত করে একদলীয় শাসন কায়েম করেছে। এমনকি সম্প্রতি খুলনায় বর্তমান সরকার এখন নতুন কায়দায়, নতুন রূপে ভোট ডাকাতি  করেছে। এখন সবাই দেখে সবকিছু সুন্দর ও সুষ্ঠু হচ্ছে; কিন্তু সুকৌশলে জনগণের ভোটাধিকার হরণ করে নিয়ে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, আমরা সেই জন্য বার বার করে বলছি, এই নির্বাচন কমিশনের শুধু পদত্যাগ নয়, পুনর্গঠন চাই। আমরা অবিলম্বে নির্বাচন কমিশনকে ভেঙে দিয়ে পুনর্গঠনের দাবি জানাচ্ছি।

মির্জা ফখরুল বলেন, খুলনার নির্বাচন আপনারা দেখেছেন। সেই নির্বাচনেও সরকার সেখানকার মানুষকে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করেছে। পত্র-পত্রিকায় এসেছে- আজকে নতুন কায়দায় নতুন রূপে ভোট ডাকাতি শুরু হয়েছে, ভোট কেন্দ্র দখলের রাজনীতি শুরু হয়েছে। আওয়ামী লীগের এই সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচন যে সুষ্ঠু হতে পারে না খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে তা প্রমাণ হয়ে গেছে বলে দাবি করেন বিএনপি মহাসচিব।

প্রসঙ্গত, গত মঙ্গলবার খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জুকে পরাজিত করে বিজয়ী হয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী তালুকদার আবদুল খালেক। ভোটে অনিয়মের অভিযোগে তিনটি কেন্দ্র স্থগিত ছাড়া বিচ্ছিন্ন কয়েকটি ঘটনার মধ্য দিয়ে ভোট সুষ্ঠুভাবে হয়েছে বলেও দাবি নির্বাচন কমিশনের।

নির্বাচন কমিশন ইসির সমালোচনা করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, নির্বাচন কমিশন সুষ্ঠু নির্বাচন পরিচালনার যোগ্য নয়। তারা একটা সিটি করপোরেশন নির্বাচন করতে পারে না। তারা কী করে সুষ্ঠুভাবে জাতীয় নির্বাচন করবে? আমরা কমিশনের পদত্যাগসহ ইসির পুনর্গঠন চাই।

বিএনপির মহাসচিব দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করে বলেন, সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে খালেদা জিয়াকে রাজনীতি ও নির্বাচন থেকে দূরে রাখতে দীর্ঘ সময় আটকে রাখা। সে জন্য তাকে অন্য মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। খালেদা জিয়া গুরুতর অসুস্থ থাকার পরও সরকার তার চিকিৎসার জন্য কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। আমরা বার বার এ বিষয়ে সরকারকে অবহিত করলেও তারা কোনো কর্ণপাত করছে না।

মির্জা ফখরুল আরো বলেন, বর্তমান শাসকগোষ্ঠী সম্পূর্ণরূপে প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে অন্যায়ভাবে খালেদা জিয়াকে কারাবন্দী করে রেখেছে। তার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে দায়ের করা সব অসত্য মামলা ও অন্যায় সাজা প্রত্যাহারসহ অবিলম্বে মুক্তির দাবি জানিয়েছে যৌথসভা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ