ঢাকা, শুক্রবার 18 May 2018, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫, ১ রমযান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

অনিস্পন্ন পড়ে আছে ৫১ হাজার ২৬৯টি বিদ্যুৎ সংযোগের ফাইল  

 

কামাল উদ্দিন সুমন : নিম্নচাপের বিদ্যুৎ সংযোগ সাতদিনের মধ্যে ও উচ্চচাপের বিদ্যুৎ সংযোগ ২৮ দিনের মধ্যে দেয়ার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত রয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগের। চলতি বছরের জানুয়ারি শেষে বিতরণ কোম্পানিগুলোর দেয়া নিম্নচাপ সংযোগের প্রায় ২৮ শতাংশ সাতদিনের মধ্যে এবং উচ্চচাপের সংযোগের মধ্যে ৯২ শতাংশ ২১ দিনের মধ্যে দেয়া হয়েছে। বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে এমনটা বলা হলেও এখনো অনিস্পন্ন পড়ে আছে ৫১ হাজার ২৬৯টি বিদ্যুৎ সংযোগ। বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য আবেদনকারী তাদের স্থাপনা (বাসবাড়ি/বাণিজ্যিক ভবন) নির্মাণ কাজ শেষ করে এখনো বিদ্যুৎ সংযোগ পাচ্ছে না। 

বিদ্যুৎ বিভাগ বলছে, অনুমোদিত পরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্য না থাকলে ভবনে নতুন বিদ্যুৎ সংযোগ দেবে না বিতরণ কোম্পানিগুলো। অনুমোদিত পরিকল্পনা অনুযায়ী ভবনের শ্রেণি ঠিক থাকলেই তবে বিদ্যুৎ সংযোগ মিলবে। সম্প্রতি বিদ্যুৎ বিভাগের অধীনস্থ প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বয় সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়েছে।

সূত্র জানায়, পরিষেবা সংযোগ নিতে ভবন ব্যবহার সনদ (অকুপেন্সি সার্টিফিকেট) বাধ্যতামূলক করে নির্দেশনা জারি করেছে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)। বিদ্যুৎ বিভাগের অধীনস্থ প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বয় সভায় এটি অনুসরণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। নতুন সংযোগ দেয়ার ক্ষেত্রে ভবনের মূল নকশায় উল্লেখ করা শ্রেণির সঙ্গে সাযুজ্যপূর্ণ হলে সংযোগ দেবে বিতরণ কোম্পানিগুলো। পাশাপাশি এ বিষয়ে আন্ত ঃমন্ত্রণালয় সভা আয়োজনেরও সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে সভায়।

২০০৮ সালের ঢাকা মহানগর ইমারত নির্মাণ বিধিমালা অনুযায়ী, ইমারতের নির্মাণকাজ আংশিক বা সম্পূর্ণ  শেষ করার পর তা ব্যবহার বা বসবাসের জন্য সনদ নিতে হবে। এ সনদ পাওয়ার আগে ইমারত আংশিক বা সম্পূর্ণ কোনো অবস্থাতেই ব্যবহার করা যাবে না। ওই সনদের মেয়াদ হবে পাঁচ বছর। এ সময় পর এটি বাধ্যতামূলকভাবে নবায়ন করতে হবে। এ সনদ ছাড়া ভবনে নতুন করে কোনো ধরনের পরিষেবা সংযোগ না দেয়ার বিষয়ে নির্দেশনা জারি করেছে রাজউক।

বিদ্যুৎ সচিব ড. আহমেদ কায়কাউস সাংবাদিকদের বলেন, নতুন সংযোগ দেয়ার ক্ষেত্রে ভবনের অনুমোদিত নকশা অনুসরণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। অনুমোদিত মূল নকশা অনুযায়ী ভবনের শ্রেণি নির্ধারণ করা হবে। এক্ষেত্রে নকশা অপরিবর্তিত থাকলে সংযোগ দেয়া হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংযোগ না দেয়ার কারণ জানানোর নির্দেশনা দেয়া হয়েছে বিতরণ কোম্পানিগুলোকে।

জানা গেছে, ২০০৯ সাল থেকে চলতি বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত ছয় বিতরণ কোম্পানি বিভিন্ন শ্রেণির মোট ১ কোটি ৬৮ লাখ ৮৭ হাজার নতুন সংযোগ দিয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) ১৩ লাখ ৪৯ হাজার ৪৮২, বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (বিআরইবি) ১ কোটি ৪১ লাখ ১২ হাজার ১১৪, ঢাকা ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি (ডেসকো) ৪ লাখ ৯৪ হাজার ২৫৮, ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (ডিপিডিসি) ৩ লাখ ৪৫ হাজার ৩৪৭, ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (ওজোপাডিকো) ৪ লাখ ৯৮ হাজার ৭১৯ ও নর্দান ইলেকট্রিক কোম্পানি লিমিটেড (নেসকো) ৮৭ হাজার ১৩২টি নতুন সংযোগ দিয়েছে। যদিও এ সময়ে নতুন সংযোগের জন্য মোট আবেদন জমা পড়ে ১ কোটি ৬৯ লাখ ৩৮ হাজার ৩২১টি।

জানুয়ারি শেষে বিদ্যুৎ সংযোগের আবেদন অনিষ্পন্ন রয়েছে ৫১ হাজার ২৬৯টি। এর মধ্যে বিপিডিবির ২ হাজার ৬৬২, বিআরইবির ৪৪ হাজার ৭৮৭, ডেসকোর ৩ হাজার ৩১০, ডিপিডিসির ৫ হাজার ১৪২, ওজোপাডিকোর ৫৬৬ ও নেসকোর ১ হাজার ৪২২টি আবেদনের বিপরীতে এখনো সংযোগ দেয়া হয়নি।

নতুন সংযোগ দেয়ার পাশাপাশি বিদ্যুৎ বিল অনাদায়ে সংযোগ বিচ্ছিন্নও করা হচ্ছে। চলতি বছরের জানুয়ারি শেষে ছয়টি বিতরণ সংস্থার ৫৮ হাজারের বেশি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে বিআরইবির। সংস্থাটির ৩৪ হাজার ৮২৫টি সংযোগ এ সময়ে বিচ্ছিন্ন করা হয়। বিপিডিবির ৭ হাজার ৬৬৭টি, ডেসকোর ৩ হাজার ৮৭০টি, ডিপিডিসির ৪ হাজার ৩৮৪টি, ওজোপাডিকোর ২ হাজার ২৬০টি ও নেসকোর ৫ হাজার ৭৫টি সংযোগ এ সময়ে বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।

 এছাড়া বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে ১ হাজার ৪৮৭টি অবৈধ সংযোগ। এর মধ্যে বিপিডিবি ১৪২টি, বিআরইবি ৭৭৬টি, ডেসকো ২৫৭টি, ডিপিডিসি ৮৫টি, ওজোপাডিকো ৪২টি ও নেসকো ১৮৫টি অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছে। বিচ্ছিন্ন করা সংযোগের বিপরীতে প্রতিষ্ঠানগুলোর বিদ্যুৎ বিল বাবদ ১২৬ কোটি টাকার বেশি পাওনা রয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ