ঢাকা, শুক্রবার 18 May 2018, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫, ১ রমযান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে দৃশ্যত কোনো অগ্রগতি হয়নি 

স্টাফ রিপোর্টার : রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়াকে খুব জটিল ও কঠিন হিসেবে আখ্যা দিয়েছে বাংলাদেশ। তবে জানিয়েছে, রোহিঙ্গাদের দ্রুত ফেরাতে বাংলাদেশ মিয়ানমারের সাথে কাজ করার চেষ্টা করছে। পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক বলেন, এমন প্রত্যাবাসন সব সময়ই জটিল ও কঠিন বিষয়। কিন্তু আমরা অনুভব করছি এই প্রত্যাবাসন যত তাড়াতাড়ি সম্ভব শুরু হবে। এ বিষয়ে আমাদের মাঝে কোনো মতভেদ নেই। বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে দৃশ্যত কোনো অগ্রগতি না হলেও তা শুরু করতে যাচাই প্রক্রিয়ায় গতি আনার আশ্বাস দিয়েছে মিয়ানমার।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন মেঘনায় দুই দেশের জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের দ্বিতীয় সভা শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি। বেলা ১১টা থেকে সাড়ে চার ঘণ্টার এ বৈঠকে বাংলাদেশের ১৫ সদস্যের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন পররাষ্ট্রসচিব শহীদুল হক। আর মিয়ানমারের নেতৃত্বে ছিলেন দেশটির পররাষ্ট্র সচিব মিন্ট থোয়ে।

বৈঠকের পর এক ব্রিফিংয়ে শহীদুল হক বলেন, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন দ্রুততর করার বিষয়ে দুপক্ষই একমত। তাহলে সমস্যা কোথায় জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, আসলে প্রত্যাবাসনের সঙ্গে সব ধরনের সমস্যাই উঠে আসে। আজ সব দিক নিয়েই আলোচনা হয়েছে। বাস্তবায়নের বিভিন্ন দিক নিয়ে আমরা আলোচনা করেছি।

সচিব বলেন, আমাদের আলোচনায় অগ্রগতি হয়েছে। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সংশ্লিষ্ট সব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলেও জানান তিনি। তিনি আরো জানান, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় যাতে গতি আসে তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার উভয়পক্ষই এক সাথে কাজ করার চেষ্টা করছে।

বেঠক ফলপ্রসূ হয়েছে জানিয়ে মিন্ট থোয়ে বলেন, দুই দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় যে চুক্তি হয়েছে, সে অনুযায়ী তারা প্রস্তুতি এগিয়ে নিচ্ছেন। প্রত্যাবাসনের জন্য সচেতনতা বাড়াতে হবে। সে বিষয়টিও বৈঠকে এসেছে।

দুই পক্ষের মধ্যে সব বিষয়েই খোলামেলা আলোচনা হয়েছে জানিয়ে শহীদুল হক বলেন, আলোচনায় অগ্রগতি হচ্ছে। আমি এটুক শুধু বলতে পারি, আলোচনায় সব দিক উঠে এসেছে। প্রত্যাবাসন কেন বিলম্বিত হচ্ছে- এ প্রশ্নে তিনি বলেন, এ বিষয়টি আপনাদের (সাংবাদিক) সামনে বলতে চাচ্ছি না। যে কারণগুলো আছে সেগুলো আমরা দেখছি এবং জানেন যে প্রত্যাবাসন সব সময় জটিল ও দুরূহ ব্যপার। কিন্তু এটা (প্রত্যাবাসন) যে হওয়া প্রয়োজন, সে ব্যাপারে কোনো পক্ষের দ্বিমত নাই।

প্রত্যাবাসন দ্রুততর করতে যে সমস্যাগুলো রয়েছে, আলোচনার মাধ্যমে সেগুলোর মীমাংসা করা যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। আরেক প্রশ্নের জবাবে শহীদুল হক বলেন, জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের পরবর্তী বৈঠকের তারিখ এখনও চূড়ান্ত হয়নি।

জেডব্লিউজি গত ১৫ জানুয়ারি মিয়ানমারে প্রথম বৈঠক করে। রোহিঙ্গাদের নিজ মাতৃভূমি রাখাইন রাজ্যে ফেরত পাঠানোর প্রথম ধাপ হিসেবে গত ১৬ ফেব্রুয়ারি মিয়ানমারের কাছে ১ হাজার ৬৭৩ রোহিঙ্গা পরিবারের (৮ হাজার ৩২ ব্যক্তি) তালিকা হস্তান্তর করে বাংলাদেশ। কিন্তু মিয়ানমার এখন পর্যন্ত তাদের মধ্যে ৯০০ জনের কম রোহিঙ্গাকে যাচাই করেছে।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে ২০১৭ সালের ২৩ নভেম্বর বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মাঝে চুক্তি সই হয়। এরই অংশ হিসেবে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের নিজ মাতৃভূমিতে ফেরত নেয়ার ব্যবস্থা করতে চলতি বছরের ১৬ জানুয়ারি দুই দেশের মধ্যে মাঠপর্যায়ের চুক্তি ‘ফিজিক্যাল অ্যারেঞ্জমেন্ট’ সই হয়। এ চুক্তি অনুযায়ী, প্রত্যাবাসন শুরু হওয়ার দুই বছরের মধ্যে তা সমাপ্ত হবে। 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ