ঢাকা, শুক্রবার 18 May 2018, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫, ১ রমযান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

রাজশাহীতে পরিচয়ের আয়োজনে  ফররুখ আহমদের জন্মশতবর্ষ সেমিনার

সাহিত্যে মিথের ব্যবহার যেমন গুরুত্বপূর্ণ তেমনি চরিত্র সৃষ্টিও একজন লেখকের সাফল্যজনক অধ্যায়। কবি ফররুখ আহমদের সিনবাদ এবং হাতেমতায়ী তেমনি একটি কৃতিত্বপূর্ণ অর্জন। সেইসাথে পাঞ্জেরীকেও তিনি একটি প্রতীক হিসেবে সফলভাবে জনপ্রিয় করতে সমর্থ হয়েছেন। প্রাক-ইসলামী যুগে আর্থ-সামাজিক দুরবস্থার মধ্যেও হাতেমতায়ী যেভাবে সত্য-সুন্দরের পক্ষে অবস্থান গ্রহণ করে সমাজ উন্নয়নে সচেতন থেকেছেন তেমনি বর্তমান সময়েও প্রত্যেককে হাতেমতায়ীর ভূমিকায় এগিয়ে আসা প্রয়োজন বলে সেমিনারে বক্তাগণ মন্তব্য করেন।

সম্প্রতি পরিচয় সংস্কৃতি সংসদ এর আয়োজনে রাজশাহী সিটি প্রেসক্লাব মিলনায়তনে কবি ফররুখ আহমদ এর জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে “ফররুখ আহমদ এর হাতেমতায়ী : সৃজনের পূর্ব প্রেক্ষাপট”- শীর্ষক এক সেমিনারের আয়োজন করা হয়। কবি ও গবেষক ড. মাহফুজুর রহমান আখন্দ-এর সভাপতিত্বে সেমিনারে প্রবন্ধ পাঠ করেন কবি ও প্রাবন্ধিক খুরশীদ আলম বাবু। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রফেসর ইমেরিটাস ও আইআইইউসি’র সাবেক ভিসি ড. একেএম আজহারুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের ডীন প্রফেসর ড. মো. ফজলুল হক। আলোচনা রাখেন বিশিষ্ট সমাজবিজ্ঞানী ও কলামিস্ট প্রফেসর ড. আব্দুর রহমান সিদ্দিকী, কথাশিল্পী ও নন্দন সম্পাদক নাজিব ওয়াদুদ,  কবি মুকুল কেশরী, কবি আলাউদ্দিন আহমেদ, ড. মুর্শিদা খানম, কবি সোহেল মাহবুব প্রমুখ। 

আলোচকগণ বলেন, ফররুখ আহমদ একজন বড় মাপের কবি ছিলেন। তিনি নিজূস্ব কাব্যভাষা নির্মাণ করতে সক্ষম হয়েছিলেন; যা একজন কবির সবচেয়ে বড় কৃতিত্ব। তাঁর ভাবনা চিন্তার সবকিছুই ছিল তাঁর যুগের অন্যান্য লেখকদের থেকে আলাদা। সে জন্য তিনি নিজেকে বিশিষ্ট করে গড়ে তুলতে পেরেছিলেন। কিন্তু তাঁর কাব্যকীর্তির সঙ্গে সঙ্গে তিনি এটাও চেয়েছিলেন, যেন তাঁর কাব্যের ভেতর দিয়ে বাঙালি মুসলিম সমাজের জাগরণ সূচিত হয়। তিনি জাগরণের পথে উদ্বুদ্ধ করতেও চেয়েছিলেন। সেটা তিনি কবিতার চাহিদা মেনে নিয়েই করেছিলেন। সে কারণে তাঁর এই মানবচিন্তা কখনো শ্লোগানে পরিণত হয়নি। এবং ফররুখ আহমদের কাব্যচিন্তা ও মানবকল্যাণ চিন্তা এখনো প্রাসঙ্গিক। সে জন্য আমাদের ফররুখ চর্চা বৃদ্ধি করা দরকার।  সাহিত্যিক আবুল ফজলের মন্তব্যেও সাথে সুর মিলিয়ে প্রাবন্ধিক খুরশীদ আলম বাবু উল্লেখ করেন, কবি ফররুখ আহমদ শুধু যে এক বিশেষ ঐতিহ্যানুসারী ছিলেন তা নয়, সেইসঙ্গে তিনি ঐতিহ্যসন্ধানীয়ও ছিলেন। তিনি চেয়েছিলেন বাংলা কাব্যে নতুন ঐতিহ্য নির্মাণ করতে। তাই ইসলামের হারানো ইতিহাস আর নানা কাব্যে ও কল্পকাহিনীতে তিনি তার ধ্যান আর কবিতার উপজীব্য খুঁজেছেন এবং তার সৃজনশীলতাকে তাতেই রেখেছিলেন অনেকখানি সীমিত। সিন্দাবাদ, হাতেম, নৌফেল ইত্যাদি নাম-চরিত্র এ কারণে তার কাব্যেও অনুসঙ্গ হয়েছে বারবার।  কবি ও প্রাবন্ধিক শাহাদাৎ সরকারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন পরিচয় সংস্কৃতি সংসদের সাধারণ সম্পাদক কথাশিল্পী মাতিউর রাহমান। অনুষ্ঠানে কবি ফররুখ আহমদের নিবেদিত গান ও কবিতা পরিবেশন করেন কবি এরফান আলী এনাফ, কবি ফৌজিয়া ইয়াসমিন, কবি শফিকুল ইসলাম শফিক, কবি শরিফ জামিল, শিল্পী এনাম খান, শিল্পী মুজাহিদ সৌরভ, শিল্পী কিবরিয়া, কবি সাদরুকা আফরিন, ইমরান হোসাইন, নূর মোহাম্মদ, সুলতান মাহমুদ রুপশ, রহিসুল ইসলাম, উপেন্দ্রনাথ সূত্রধর, জসিম উদ্দিন বিজয়, নাইমুল হক হামিম, প্রমুখ।   

-শাহাদাৎ সরকার

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ