ঢাকা, শুক্রবার 18 May 2018, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫, ১ রমযান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

খুলনার নৌ সীমান্ত দিয়ে বন্যপ্রাণী ও রাসায়নিক সার ভারতে পাচার 

খুলনা অফিস : খুলনার বিভিন্ন নৌ সীমান্ত দিয়ে গোলপাতা, পশুর কাঠ, মধু, বন্যপ্রাণী, জ্বালানি তেল, রাসায়নিক সার ও বাংলাদেশি টাকা ভারতে পাচার হচ্ছে। পাচারকৃত বন্যপ্রাণীর মধ্যে রয়েছে কুমির, হরিণ ও বাঘ। ২০১২ সালের জুন মাসে সুন্দরবন থেকে তিনটি বাঘের শাবক পাচার হওয়ার পর ঢাকা থেকে উদ্ধার হয়। অপরদিকে, ভারত থেকে আসা পণ্য সামগ্রীর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে বাংলা মদ, ফেনসিডিল, ইয়াবা ও কীটনাশক।

বিভাগীয় কমিশনারের দপ্তরে গত সপ্তাহে খুলনা জেলা প্রশাসনের পাঠানো চোরাচালানবিরোধী অভিযান সংক্রান্ত এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, কয়রা সংলগ্ন আংটিহারা, রায়মঙ্গল, হারিয়াভাঙ্গা, আকরাম পয়েন্ট, মানকি পয়েন্ট, হিরণ পয়েন্ট, কুকিলমুনি, নলিয়ান, পাটকোষ্টা, দোবেকি, দুবলার চর, হংসরাজ, দাকোপ ও জোড়শিং নৌ রুট দিয়ে ভারতে বনজসম্পদ, বন্যপ্রাণী পাচার, স্বর্ণ ও বাংলাদেশি টাকা পাচার হচ্ছে। ভারত থেকে আসা পণ্য সামগ্রীর মধ্যে মাদকদ্রব্য ছাড়া সবজির বীজ, গরু, কসমেটিক্স, বাইসাইকেল, সিগারেট, থ্রিপিস, পলিথিন, পাঞ্জাবীর থান ইত্যাদি বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করছে। গেল মাসে ৬ কোটি টাকা মূল্যের চোরাচালান পণ্য আটক করা হয়। পুলিশ, বিজিবি, কাস্টমস, কোস্ট গার্ড, নৌ বাহিনী, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর অভিযান পরিচালনা করে।

বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ অঞ্চলের বন সংরক্ষককে দেয়া স্থানীয় বন কর্তৃপক্ষের এক চিঠিতে বলা হয়েছে, সুন্দরবন, পূর্ব, পশ্চিম ও দক্ষিণ অংশে বন্যপ্রাণীর অভয়রাণ্য সমূহের তদারকি, রক্ষণাবেক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা হচ্ছে না। বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য থেকে বিভিন্ন প্রকার গাছ ও গোলপাতা কর্তন ও বন্যপ্রাণী শিকার এবং পাচার হচ্ছে। মৎস্য আহরণ নিষিদ্ধ থাকলেও বনের খাল থেকে বিষ প্রয়োগের মাধ্যমে মাছ শিকার করা হচ্ছে। সুন্দরবন বিভাগের রেকর্ড অনুযায়ী, ২০১২ সালের জুন মাসে তিনটি বাঘের শাবক পাচার হয়। ১১ জুন র‌্যাব ঢাকার শ্যামলী থেকে শাবকগুলো উদ্ধার করে।

শরণখোলা থানার রেকর্ড অনুযায়ী, ২০০৮ সাল থেকে গেল বছর পর্যন্ত কুমির শিকারের সাথে জড়িত থাকায় ২৩ জনের নামে সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। সুন্দরবনের দু’টি বিভাগকে ঘিরে অন্তত ৭৫টি গ্রুপ ও সিন্ডিকেট চক্র সক্রিয় রয়েছে। ৫ লাখ বর্গ কিলোমিটার এলাকার সুন্দরবনের এই সিন্ডিকেটের হাতে কুমির, কচ্ছপ, বানর, ডলফিন, হরিণ ও বাঘ নিরাপদে নেই।

সুন্দরবন বিভাগ সাতক্ষীরা রেঞ্জের রেকর্ড অনুযায়ী, শ্যামনগর উপজেলার রমজাননগর, ভেটখালি ও কৈখালি এলাকার ৮০ জন হরিণ শিকারির বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা রয়েছে। এ উপজেলার টেংরাখালি গ্রামের মান্দার গাজী, কালিঞ্চি গ্রামের ডা. নূরুল ইসলাম ও আনসার আলী বাঘের হাড় ও নখ পাচারের সাথে জড়িত বলে থানার রেকর্ডে উল্লেখ আছে।

কোস্ট গার্ডের মংলাস্থ প্রতিনিধি লে. মাহমুদ জানান, সুন্দরবন সংলগ্ন এলাকার কিছু অসাধু মানুষ হরিণ পাচারের সাথে সব সময় জড়িত থাকে। অভিযান চালিয়ে হরিণের মাংস জব্দ ও শিকারিদের গ্রেফতার করা হচ্ছে।

সুন্দরবন পশ্চিম বিভাগীয় সহকারী বন কর্মকর্তা মো. সোয়েব খান বলেন, বনজসম্পদ পাহারা দেয়ার জন্য বনরক্ষীদের পাশাপাশি কোস্ট গার্ড, নৌ বাহিনী, র‌্যাব, পুলিশ ও বিজিবি তৎপর রয়েছে। সুন্দরবন থেকে হরিণ পাচারকারীদের তালিকা কোস্ট গার্ড ও বিজিবির হাতে তুলে দেয়া হয়েছে।

খুলনা অঞ্চলের বন সংরক্ষক মো. আমির হোসেন চৌধুরীর দেয়া তথ্য মতে, বনের সম্পদ ও প্রাণী সংরক্ষণে ৫০ শতাংশ এলাকা অভয়ারণ্য ঘোষণা করা হয়েছে। বন্যপ্রাণী রক্ষণাবেক্ষণের জন্য চারটি রেঞ্জে স্মার্ট পেট্রোল ডিউটি পালন করছে। এতে অপরাধ প্রবণতা কমেছে ও অপরাধী ধরা পড়ছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ