ঢাকা, শুক্রবার 18 May 2018, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫, ১ রমযান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

শেয়ারবাজার পতন থামানোর কোনো প্রক্রিয়া কাজে আসছে না

 

স্টাফ রিপোর্টার: দিনের পর দিন দরপতন ঘটছে দেশের শেয়ারবাজারে। দিন যত যাচ্ছে পতনের মাত্রা ততো বাড়ছে। কিছুতেই যেন দিক খুঁজে পাচ্ছে না শেয়ারবাজার। ক্রমাগত পতনের দিকেই ধাবিত হচ্ছে। পতন থামানোর কোনো প্রক্রিয়া কাজে আসছে না। 

গত কয়েকদিনের ধারাবাহিকতায় গতকাল বৃহস্পতিবার দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) মূল্য সূচকের পতন হয়েছে। এর মাধ্যমে টানা ১২ কার্যদিবস পতনের মধ্যে থাকলো দেশের শেয়ারবাজার। সাম্প্রতিক সময়ে এত দীর্ঘ দরপতন আর হয়নি। 

শেয়ারবাজারের এ টানা দরপত ঠেকাতে আগামী ৭ জুন নতুন অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাব দেয়ার পর শেয়ারবাজারের উন্নয়নে স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে বসবেন বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। তিনি বলেন, শেয়ারবাজার দীর্ঘমেয়াদী অর্থায়নের উৎস হওয়া উচিত। আমাদের একটি ভালো শেয়ারবাজার স্থাপন করতে হবে যা দীর্ঘমেয়াদী অর্থায়নের উৎস হবে।

বাজার সংশ্লিষ্টরা টানা দরপতনকে অস্বাভাবিক উল্লেখ করে এর জন্য বাংলাদেশ ব্যাংককে দায়ী করছেন। তারা বলেন, এখন যে দরপতন হচ্ছে তা অস্বাভাবিক। এর জন্য দায়ী বাংলাদেশ ব্যাংক। শেয়ারবাজারকে ভালো করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংক কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। বরং তাদের প্রতিটি পদক্ষেপ শেয়ারবাজারের বিপক্ষে। টানা দরপতনের কারণে শেয়ারবাজারের বিনিয়োগকারীদের আস্থাহীনতা ভর করেছে বলে মনে করছেন তারা। 

গতকাল লেনদেনের শুরু থেকেই নি¤œমুখী হয়ে পড়ে ডিএসইর প্রধান মূল্য সূচক ডিএসইএক্স। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে পতনের মাত্রা বাড়তে থাকে। বেলা ১১টার পর লেনদেন হওয়া প্রায় সবকটি কোম্পানির শেয়ার দাম একের পর এক কমতে থাকে। দিনের লেনদেন শেষ ডিএসইতে লেনদেন হওয়া ২৫৪টি প্রতিষ্ঠানের দর হারায়। বিপরীতে দাম বেড়েছে মাত্র ৪৪টির। আর দাম অপরিবর্তিত রয়েছে ৩৮টির। 

এদিন সবকটি মূল্য সূচক কমলেও ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণ কিছুটা বেড়েছে। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ৪৯২ কোটি ৭৯ লাখ টাকা। আগের দিন লেনদেন হয় ৩৯৪ কোটি ৮৬ লাখ টাকা। সে হিসাবে আগের দিনের তুলনায় লেনদেন বেড়েছে ৯৭ কোটি ৯৩ লাখ টাকা।

দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইর প্রধান মূল্য সূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ৬৮ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৪৪৩ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। অপর দুটি মূল্য সূচকের মধ্যে ডিএসই-৩০ আগের দিনের তুলনায় ৩০ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ২৫ পয়েন্টে অবস্থান করছে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক দশমিক ১৩ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২৭৭ পয়েন্টে।

অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের সার্বিক মূল্য সূচক সিএসসিএক্স ১২৮ পয়েন্ট কমে ১০ হাজার ১৫৯ পয়েন্টে অবস্থান করছে। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ৫১ কোটি ৪৬ লাখ টাকা। লেনদেন হওয়া ২২৫টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ২৬টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ১৭৯টির। আর দাম অপরিবর্তিত রয়েছে ২০টির।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ