ঢাকা, শনিবার 19 May 2018, ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫, ২ রমযান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

রোজার প্রথম দিনেই পাল্টে গেছে দৃশ্যপট

প্রথম রমযান প্রথম জুমা, লাখো মুসল্লির জুমার নামায আদায়। ছবিটি গতকাল বায়তুল মোকাররম থেকে তোলা -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার : রোজার প্রথম দিনেই বদলে গেছে দেশের দৃশ্যপট। বদলে গেছে নাগরিক জীবনাচরণ। খোদাভীতি আর আত্মশুদ্ধির চেষ্টায় মুসলিম রোজাদার সবাই। গতকাল শুক্রবার রমযানের শুরুর দিন থেকেই বদলে যাচ্ছে স্বাভাবিক কাজের গতি প্রকৃতি আর পরিবর্তন আসছে নিয়ম-রীতিতে। অন্যান্য মাসের তুলনায় এখন এই রমযানে মসজিদমুখী হচ্ছে বেশি মানুষ। ফজর এবং তারাবী নামাযে বেশিরভাগ মসজিদেই যেন ঠাঁই নেই। আর গতকাল রমযানের প্রথম জুমায় মুসুল্লীদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। মসজিদগুলো ভর্তি হয়ে রাস্তায় ও বারান্দায় নামায আদায় করেছে।
বাজারঘাট, যানবাহন প্রতিটি ক্ষেত্রেই পবিত্র রমযানের ছোঁয়া লেগেছে। পাড়া মহল্লার মসজিদগুলো মুসুল্লীদের উপচে পড়া ভিড়। গতকাল ফজর থেকেই প্রতিটি মসজিদে ভিড় বেড়েছে মুসুল্লীদের। পাঁচ ওয়াক্ত নামাযেই মুসুল্লীদের উপস্থিতি বেড়েছে।
সরকারি ও বেসরকারি সকল অফিস ও দোকানপাটের সকল কাজ কর্মের সময় পরিবর্তিত হয়েছে। দুপুরের পরে বিশেষ করে জোহরের নামাযের পরই কিছু বিশ্রামের শেষে ঘরে ফেরার প্রস্তুতি নেন সবাই। রোজার কারণে চায়ের আড্ডা কিংবা কেন্টিনের খাবার টেবিলের আড্ডাও এখন নেই।
রোজা শুরুর পর থেকে রাস্তাঘাট কিংবা বাস ট্রেন অথবা লঞ্চ টার্মিনালের চিরচেনা সেই পরিবেশও চোখে পড়ছে না। হোটেল রেস্তোরার ব্যস্ততা আগের মতো নেই। প্রকাশ্যে খাবার হকার কিংবা পানি, পান, সিগারেট কিংবা অন্য কোন খাবারও বিক্রি হচেছ না।
ধর্মীয় চেতনা আর রীতি-নীতিতে বিশ্বাসী প্রতিটি মুসলিম পরিবারে চলে এসেছে আমূল পরিবর্তন। পুরুষ সদস্যদের কাজের রুটিনে যেমন পরিবর্তন এসেছে তেমনি নারী সদস্যদেরও কাজের পরিধি বৃদ্ধি পেয়েছে।
দুপুরের পর থেকেই নগরীর প্রতি পাড়া মহল্লার অলি-গলিতে বসেছে ইফতারির বাজার। ক্ষণস্থায়ী এই বাজার চলবে পুরো রোজার একমাস। রকমারি ইফতারির পসরা নিয়ে ক্রেতা আকর্ষণের কৌশলও নগরীকে ভিন্ন রুপ দেয়।
রমযানে রাতের দৃশ্যও পাল্টে গেলে। ইফতারির আগে নগরীতে কিছুটা স্থবিরতা বিরাজ করার পর ইফতারি শেষ হওয়ার কিছু সময় পর রাস্তায় লোকজন থাকে । তবে রাত আটটার পর অচেনা এক নগরী দেখতে পাই আমরা। তারাবী নামাজের জন্য লোকজন থাকে মসজিদমুখী। রাস্তাঘাট থাকে ফাঁকা। সকালের পরিবেশও অনেকটা অচেনা। খুব বেশি প্রয়োজন না হলে ফজরের পরে লোকজন বাইরে বের হননা বললেই চলে। সকাল আটটার আগ পর্যন্ত ফাঁকা থাকে রাস্তাঘাট।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ