ঢাকা, শনিবার 19 May 2018, ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫, ২ রমযান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

ফিলিস্তিনে গণহত্যা বন্ধে মুসলিম বিশ্বকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে

ফিলিস্তিনে বর্বর হামলার প্রতিবাদে গতকাল শুক্রবার বাদ জুমা বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন বিক্ষোভ মিছিল শেষে ইসরাইল ও মার্কিন পতাকায় অগ্নিসংযোগ করে -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার: গাজায় ও জেরুসালেমে মুসলিম গণহত্যা এবং জেরুসালেমে ইসরাঈলস্থ মার্কিন দূতাবাস স্থাপনের প্রতিবাদে কয়েকটি ইসলামী রাজনৈতিক দল বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করে। তারা বলেন, ফিলিস্তিনে মুসলমানদের উপরে গণহত্যা বন্ধে বিশ্ব মুসলিমকে ঐক্যবদ্ধভাবে আমেরিকার ও ইসরাইলকে প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়েছে। জেরুসালেমকে আন্তর্জাতিকভাবে ফিলিস্তিনের রাজধানী ঘোষণার দাবি। পাশাপাশি বাংলাদেশসহ বিশ্বব্যাপী মার্কিন ও ইসরাইলী পণ্য বর্জনের ডাক দেওয়া হয় সমাবেশ থেকে।
গতকাল শুক্রবার বাদ জুম’আ রাজধানী ঢাকায় জাতীয় মসজিদ বাইতুল মুকাররম উত্তরগেটে সমাবেশ শেষে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে পল্টন মোড় ঘুরে দৈনিক বাংলার মোড়ে এসে মুনাজাতের মাধ্যমে সমাপ্ত হয়।
ইসলামী আন্দোলনের মিছিল ও সমাবেশে
ইসলামী আন্দোলনের মিছিল-পূর্ব সমাবেশে প্রধান অতিথি মহাসচিব অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইউনুছ আহমাদ বলেন, ফিলিস্তিনে হত্যা ও দূতাবাস স্থাপনের জনক হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র্রের ডোনাল্ড ট্রাম্প। তারা বলেন, বিশ্বে অশান্তি সৃষ্টির মূলহোতা আমেরিকাকে একঘরে করে বয়কট, কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন, পণ্য বর্জন করতে হবে। গতকাল বাদ জুমআ বাইতুল মোকাররম উত্তর গেটে ফিলিস্তিনে মুসলিম গণহত্যা বন্ধের দাবিতে অনুষ্ঠিত সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ সভাপতি মাওলানা ইমতিয়াজ আলম। সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন রাজনৈতিক উপদেষ্টা অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন। অন্যান্য নেতৃবৃন্দ প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক মাওলানা আহমদ আবদুল কাইয়ূম, নগর সহ-সভাপতি আলহাজ্ব আব্দুর রহমান। উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক প্রকৌশলী আশরাফুল আলম, যুবনেতা মাওলানা নেছার উদ্দিনসহ অন্যান্য নেতৃবন্দ।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন বলেন, বিশ্বে অশান্তির মূলহোতা আমেরিকা। আমেরিকা বিশ্বব্যাপী অশান্তির আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছে। দেশে দেশে মুসলিম নিধন করছে। জেরুজালেমে দূতাবাস স্থাপন করে মুসলিম উম্মাহর হৃদয়ে প্রতিবাদের আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছে সন্ত্রাসি রাষ্ট্র আমেরিকা ও ইসরাঈল।
সভাপতির বক্তব্যে মাওলানা ইমতিয়াজ আলম বলেন, বাইতুল মুকাদ্দস রক্ষায় বিশ্বমুসলিমকে ঐক্যবদ্ধভাবে জিহাদের ডাক দিতে হবে।
ইসলামী ঐক্য আন্দোলন,ঢাকা মহানগরী : ট্রাম্প কর্তৃক জেরুজালেমকে ইসরাঈলের রাজধানী স্বীকৃতির ঘোষণা ও জেরুজালেমে সন্ত্রাসী রাষ্ট্র ইসরাঈলস্থ মার্কিন দূতাবাস স্থাপনের প্রতিবাদ জানায়। জুমআর নামায শেষে মসজিদের মুসলিম ও তাওহিদী জনতা রাজপথে নেমে স্লোগানে স্লোগানে গর্জে উঠেছিলো।
উল্লেখিত দাবীতে পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস এবং ইসলামী ঐক্য আন্দোলন,ঢাকা মহানগরী গতকাল বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ কর্মসূচি পালন করেছে।
 ফিলিস্তিনের রাজধানী করার ওআইসির ঘোষণা ট্রাম্পকে মেনে নিতে হবে।
বিক্ষোভ সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী করার ট্রাম্পের ঘোষণা বাতিল করতে হবে। আন্তর্জাতিকভাবে জেরুজালেমকে ফিলিস্তিনের রাজধানী ঘোষণা করতে হবে।
বিক্ষোভ মিছিল পূর্ব সমাবেশে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের নেতারা বলেছেন, ট্রাম্প জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানীর স্বীকৃতি দিয়ে অবৈধ ইসরাইল ও ইহুদীদের দালালে পরিণত হয়েছে। বিশ্ব মুসলিম নেতৃবৃন্দ ও মুসলমানরা ট্রাম্পের এ স্বীকৃতির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। সুতরাং ট্রাম্পকে এ স্বীকৃতি বাতিল করতে হবে এবং মুসলমানদের প্রথম কেবলার স্থান জেরুজালেম ফিলিস্তিনের রাজধানী ঘোষণা করতে হবে।
তারা বলেন, ট্রাম্প মুসলমানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। যুদ্ধের মোকাবেলায় মুসলিম উম্মাহকে ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা রাখতে হবে এবং আমেরিকার সকল পণ্য বর্জন করা সময়ের দাবি।
ইসলামী ঐক্য আন্দোলন : আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কর্তৃক জেরুজালেমকে ইসরাঈলের রাজধানী ঘোষণার প্রতিবাদে ইসলামী ঐক্য আন্দোলন, ঢাকা মহানগরী গতকাল শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ কর্মসুচি পালন করেছে। বিক্ষোভ মিছিল পূর্ব সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, মুসলমানদের প্রথম কেবলা জেরুজালেমকে ইসলাইলের রাজধানী করতে দেয়া হবে না। এ ঘোষণায় বিশ্বব্যাপী উত্তপ্ত হয়ে উঠলেও জাতিসংঘ, ওআইসি, আরবলীগ নিরব ভুমিকা পালন করছে। তারা বলেন, মার্কিণকে বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিকভাবে বয়কট করতে হবে। মার্কিণ পণ্য বর্জন অব্যাহত রাখতে হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ