ঢাকা, শনিবার 19 May 2018, ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫, ২ রমযান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

এতিম ও আলেম ওলামাদের নিয়ে বিএনপির ইফতার মাহফিল

স্টাফ রিপোর্টার: প্রতিবছরের ন্যায় এবারো রমযানের প্রথম রোজায় এতিম, আলেম ওলামাদের সন্মানে ইফতার মাহফিলের আয়োজন করেছে বিএনপি। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকতেন দলের চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। এবারো সব কিছুই ঠিক ছিল। ছিলেন না শুধু বেগম খালেদা জিয়া। দুদকের দায়ের করা কথিত জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় সাজাপ্রাপ্ত বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া কারাগারে ইফতার করবেন এটা সবারই জানা ছিল। তবুও দল আয়োজিত ইফতার মাহফিলে তার জন্য আসন রাখা হয়েছে। তবে সেটি ছিল ফাঁকা। গতকাল শুক্রবার রাজধানীর ইস্কাটনের লেডিসক্লাবে এই ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয়।
প্রতিবছর ইস্কাটন লেডিস ক্লাবেই মাদরাসার এতিম শিক্ষার্থীদের পাশে বসিয়ে রমযানের প্রথম ইফতার করতেন খালেদা জিয়া। এবার কারাগারে বন্দি থাকায় এই ইফতার অনুষ্ঠানে অনুপস্থিত থাকলেও মঞ্চে এতিমদের পাশে বেগম খালেদা জিয়ার আসন শূণ্য রাখা হয়। খালেদা জিয়ার পক্ষ থেকে এতিম শিক্ষার্থীসহ ওলামা-মাশায়েখদের স্বাগত জানান বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
ইফতার শুরুর আগে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আজকে অত্যন্ত ভরাক্রান্ত মন নিয়ে আমরা এই ইফতার মাহফিলের অনুষ্ঠান করছি। প্রতিবছরে পহেলা রমযানে এইদেশে সবচেয়ে জনপ্রিয় নেতা তিন বারের প্রধানমন্ত্রী , দুই বারের বিরোধী দলীয় নেতা যিনি ১৬ কোটি মানুষের স্বাধীনতা, সার্বভৌমতের¡ প্রতীক সেই দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া আজকে আমাদের মাঝে নেই। এই সময়ে তিনি কারাগারে।
প্রত্যেক বছর তিনি (খালেদা জিয়া) এখানে ছোট ছোট ছেলে-মেয়েদের নিয়ে ইফতার করেন। আজকে তিনি কারাগারের অন্ধকারে একেবারে নির্জনে প্রথম রমযানের ইফতার করছেন। এটা আমাদের সকলের জন্যে অত্যন্ত মর্মান্তিক। আমরা আল্লাহ তা‘লার কাছে দোয়া চাইব, আল্লাহ যেন তাকে অতিদ্রুত মুক্তি দিয়ে আমাদের মাঝে ফিরিয়ে দেন।
তিনি বলেন, আমরা এক কঠিন সময় পার করচ্ছি, যে সময়টা দেশের জন্যে, জাতির জন্যে অত্যন্ত ক্রান্তিকাল। এই সময়ে আমরা সাহসেব সঙ্গে ধর্যের সঙ্গে মোকাবিলা করে গণতন্ত্রকে ছিনিয়ে আনতে হবে, দেশনেত্রীর মুক্তিকে ছিনিয়ে আনতে হবে। এই জগদ্দল যে পাথর আমাদের বুকের ওপর চেপে বসেছে, ফ্যাসিবাদ এক নায়ক চেপে বসেছে, তার থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য আমাদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে সংগ্রাম করতে হবে।
লন্ডন অবস্থারত দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের শুভেচ্ছা জানিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, তার আজকে আপনাদের সামনে কথা বলার কথা ছিলো। যে কারণে উনি জুম্মার নামাযে থাকায় কথা বলতে পারলেন না। তিনি আপনাদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন, রমযনুল মোবারক জানিয়েছেন। তিনি তার জন্য, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জন্য আপনাদের কাছে দোয়া চেয়েছেন।
ইফতারে দলের মহাসচিব ছাড়া স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন।
ওলামা-মাশায়েখ ও এতিমদের সন্মানে বিএনপি এই ইফতার পার্টির আয়োজন করে। এতে ফার্মগেইটের মদিনাতুল উলুম বালক বালিকা কামিল মাদ্রাসা, শান্তিনগর মাদ্রাসা ও গোপীবাগ মাদ্রাসার দেড় শতাধিক এতিম ছাত্র-ছাত্রীরা অংশ নেয়।
ওলামা-মাশায়েকদের মধ্যে ইফতারে ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের চেয়ারম্যান মাওলানা সাইয়্যিদ কামাল উদ্দিন জাফরী, রাজধানীর সোহবান বাগ জামে মসজিদের খতিব মাওলানা শাহ ওয়ালী উল্লাহ, মসজিদ মিশনের সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা খলিলুর রহমান মাদানী, মিরপুর জামেয়া এমদাদিয়া মাদরাসার মহতামিম মাওলানা আবু তাহের জেহাদী, কামরাঙ্গীরচর মাদরাসা-ই নুরীয়ার মোহাদ্দিস মুফতি মাওলানা ফখরুল ইসলাম, জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর কারাবন্দি আন্তর্জাতিক মুফাচ্ছিরে কুরআন মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বড় ছেলে শামীম সাঈদী, জাতীয়তাবাদী উলামা দলের সভাপতি হাফেজ আব্দুল মালেক, সাধারণ সম্পাদক মাওলানা শাহ মো. নেসারুল হক, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা সেলিম রেজা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
ইফতার শুরুর আগে কারাগারে অসুস্থ খালেদা জিয়ার মুক্তি ও লন্ডনে অবস্থানরত ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সুস্বাস্থ্য এবং দেশের অগ্রগতি ও শান্তি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
উল্লেখ্য, গত ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক ড. আখতারুজ্জামান বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে ৫ বছরের কারাদণ্ড দেন। এরপর থেকে তিনি নাজিম উদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে আছেন। বিচারিক আদালতের রায় বাতিল এবং খালেদা জিয়ার জামিন চেয়ে আবেদন করা হলে হাইকোর্ট তাকে জামিন দেন। জামিনের বিরোধিতা করে দুদক ও রাষ্ট্রপক্ষ আপিল করলে বুধবার প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ হাইকোর্টের দেয়া জামিন আদেশ বহাল রেখেছেন।
আদেশে আপিল বিভাগ বলেছেন, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় হাইকোর্টে পেপারবুক প্রস্তুত। বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চকে ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে আপিল (দণ্ডাদেশের রায়ের বিরুদ্ধে খালেদা জিয়ার আপিল) নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়েছেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ