ঢাকা, শনিবার 19 May 2018, ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫, ২ রমযান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

চৌহালীতে যমুনার ভাঙনে বহু ঘরবাড়ি ফসলী জমি বিলীন

আব্দুস ছামাদ খান, বেলকুচি (সিরাজগঞ্জ) : উজান থেকে নেমে আসা ঢলে যমুনা নদী ফুলেফেপে ওঠায় সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুরে যমুনায় নদী ভাঙন শুরু হয়েছে। গত দু’দিনের ভাঙনে প্রায় ১৮টি বসত বাড়ি ও ফসলি জমি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙনে হুমকির মুখে রয়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কাপড়ের হাট, বহু ঘরবাড়ি ও তাঁত কারখানা। এদিকে ভাঙন অব্যাহত থাকলেও কর্তৃপক্ষ কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি এমন অভিযোগ এলাকাবাসির। সরেজমিন গিয়ে জানা যায়, যমুনা নদীতে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় এনায়েতপুর থানা সদরের ব্রাহ্মণগ্রাম-আড়কান্দি থেকে পাচিল পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৫ কিলোমিটার এলাকার নদী তীরবর্তী মানুষগুলো রয়েছে ভাঙন আতঙ্কে। মঙ্গল, বুধবার ও বৃহস্পতিবার ব্রাহ্মণগ্রামের রেজাউল, শহিদুল, ইব্রাহীম, জুব্বার ও জাহিদুল ইসলামের বাড়িসহ প্রায় ১৮টি বসতবাড়ি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। এ সময় আম-কাঠাল, লিচুসহ অসংখ্য গাছপালা নদীতে বিলীন হয়েছে। ব্রাহ্মণগ্রামের আবির আহম্মেদ ও আড়কান্দি চরের আব্দুল লতিফ জানায়, হঠাৎ করে নদীতে পানি বেড়ে যাওয়ায় মঙ্গলবার মধ্যরাতের দিকে মাত্র দেড় ঘন্টার ব্যবধানে ব্রাহ্মণগ্রামের ৮টি বাড়িঘর নদীতে চলে যায়। এছাড়া চোখের পলকেই আড়কান্দিচরের বহু ফসলি জমি যমুনা নদী গ্রাস করে। তারা আরো বলেন, ভাঙন একসপ্তাহ স্থায়ী হলে এলাকার শত শত মানুষকে সম্বল হারিয়ে পথে বসতে হবে। এখন সাংবাদিক ও জনপ্রতিনিধিদের বলা ছাড়া আমাদের আর কোনো উপায় নেই। এদিকে অব্যাহত নদী ভাঙনে হুমকির মুখে পড়েছে নয়াপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, আড়কান্দি ফোরকানিয়া হাফিজিয়া মাদরাসা, ব্রাহ্মণগ্রাম তারা জামে মসজিদ, এনায়েতপুর কাপড়েরর হাট, ২৬টি তাঁত কারখানাসহ তিনটি গ্রামের অন্তত ২৫ হাজার ঘর-বাড়ি। এ বিষয়ে এনায়েতপুরের ব্রাহ্মণগ্রাম এলাকার ইউপি সদস্য সোহরাব আলী বলেন, গত বছর পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নদী ভাঙন পরিদর্শনে এসে সভা করে ভাঙনরোধে আশ্বাস দিলেও এর কোনো বাস্তবায়ন না দেখে হতাশ যমুনা পাড়ের বাসিন্দারা। যমুনার অসময়ের এ ভাঙন এখনই ঠেকানো না গেলে বর্ষা মৌসুমে বহু ঘর-বাড়ি নদীতে বিলীন হয়ে যাবে। তাই দ্রুত ভাঙনরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তিনি।
এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের এসডিই রফিকুল ইসলাম বলেন, জরুরি ভিত্তিতে ভাঙন রোধকল্পে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। শীঘ্রই ভাঙন ঠেকানোর কাজ শুরু হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ