ঢাকা, শনিবার 19 May 2018, ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫, ২ রমযান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

খালেদা জিয়ার মুক্তি হবে কি না সরকার প্রধানের ইচ্ছার ওপর নির্ভর করছে -ব্যারিস্টার মওদুদ

গতকাল শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে ঢাকাস্থ লক্ষ্মীপুর জেলা জাতীয়তাবাদী যুব ফোরাম আয়োজিত বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টর মওদুদ আহমদ -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার : বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেছেন, খালেদা জিয়ার মুক্তি এখন সরকারের হাতে চলে গেছে। খালেদা জিয়ার মুক্তি হবে কি হবে না, এটা এখন সরকার প্রধানের ইচ্ছার ওপর নির্ভর করছে। কারণ বিচারকদের সরকার যা বলবে, তারা তাই করবেন। তিনি বলেন, খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে আনতে আইনি লড়াইয়ের সঙ্গে সঙ্গে রাজপথের কোনো বিকল্প নাই। আমাদের ধীরে ধীরে এখন কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার কথা চিন্তা করতে হবে। কারণ শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে এ সরকারের টনক নড়ানো যাবে না।
গতকাল  শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে ঢাকাস্থ লক্ষ্মীপুর জেলা জাতীয়তাবাদী যুব ফোরাম আয়োজিত প্রতিবাদ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন মওদুদ।
ব্যারিস্টার মওদুদ বলেন, এখন আমাদের দুটি বিষয় চিন্তা করতে হবে, প্রথমত, আগামী সিটি করপোরেশন নির্বাচনগুলোতে বিএনপির আর অংশগ্রহণ করবে কি-না।  দ্বিতীয়ত, খুলনা সিটি নির্বাচনে প্রমাণিত হয়েছে যে, বর্তমান ইসি (নির্বাচন কমিশন) অদক্ষ, অযোগ্য, পক্ষপাতদুষ্ট, দলবাজ একটি প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে দেশে সুষ্ঠু নির্বাচন হতে পারে বলে আমরা মনে করি না। সুতরাং বর্তমান নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন করতে হবে। এ ছাড়া এই ইসির অধীনে আমরা আর কোনো নির্বাচনে অংশগ্রহণ করব কি করব না, এটাও চিন্তা করতে হবে।
বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মুক্তি সরকারের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে মন্তব্য করে মওদুদ আহমদ বলেন, খালেদা জিয়ার মুক্তি এখন সরকারের হাতে চলে গেছে। খালেদা জিয়ার মুক্তি হবে কি হবে না, এটা এখন সরকারের প্রধানের ইচ্ছার ওপর নির্ভর করছে। কারণ বিচারকদের সরকার যা বলবে, তাঁরা তাই করবেন।
 এর ব্যাখ্যায় ব্যারিস্টর মওদুদ বলেন, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় হাইকোর্ট জামিন দিয়েছে এবং আপিল বিভাগ সেটা বহাল রেখেছে। এখন মুক্তি দিতে অসুবিধাটা কোথায়? কেন খালেদা জিয়া মুক্তি পাচ্ছেন না? এটা দেশবাসীকে জানাতে হবে। নিম্ন আদালতের কারণে। আর নিম্ন আদালত কার অধীনে কাজ করে? নিম্ন আদালত প্রশাসনের অধীনে কাজ করে। অর্থাৎ সরকারের অধীনে কাজ করে। সুতরাং নিম্ন আদালত স্বাধীন না।
বিএনপির এই স্থায়ী কমিটির সদস্য বলেন, উচ্চ আদালত খালেদা জিয়াকে জামিন দিয়েছে, তাঁকে আমরা মুক্ত করতে পারছি না। কেন ? কারণ সরকারের অপকৌশল, ষড়যন্ত্র ও দুরভিসন্ধি পরিকল্পনা রয়েছে, খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখে নির্বাচন করা, তাঁকে নির্মূল করা। আগে ছিল ছয়টা মামলা, গতকাল আরো দুই মামলা দেওয়া হয়েছে। এ মামলাগুলোতে জামিন বহাল রেখে তাঁকে আমরা মুক্ত করতে পারব না। কারণ সরকার চেষ্টা করবে, এ মামলাগুলোতে আরো লম্বা লম্বা তারিখ দেওয়ার।
সাবেক এই আইনমন্ত্রী বলেন, ঈদের পরে আমাদের নতুন করে চিন্তাভাবনা করতে হবে। দেশের সব গণতান্ত্রিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ করে বিএনপি ও খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে এ আন্দোলনকে আরো বেগবান করতে হবে। ঈদের পরে ব্যাপক কর্মসূচি দিতে হবে। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ফিরিয়ে আনতে হবে, দেশকে বাঁচাতে হবে। সে জন্যেই রাজপথে আন্দোলনে ছাড়া কোনও বিকল্প নাই।
তাই দেশের সকল গণতান্ত্রিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ করে বিএনপি ও বেগম জিয়ার নেতৃত্বে এ আন্দোলনকে আরো বেগবান করতে হবে। এবং শেষ পর্যন্ত রাজপথের এ সমস্যার সমাধান সম্ভব হবে- বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। 
তিনি আরও বলেন, এদেশে আইনের শাসন নেই, আছে দলীয় শাসন। বাংলাদেশের সব জেলায় বিএনপি নেতাকর্মীদের আটক করা হচ্ছে। এ পর্যন্ত ৭৮ হাজার মামলা হয়েছে, আর ১১ লাখের ওপরে বিএনপি নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়েছে।
বিএনপির এই নেতা বলেন, খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচন যেটি হয়েছে সেটি হচ্ছে ন্যক্কারজনক নির্বাচন। এই নির্বাচনের আগে সব নেতাকর্মীকে ভয়ভীতি দেখানো হয়েছে। এর আগে ৪/৫ শত নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে, সব জায়গায় কারচুপি করা হয়েছে। এই নির্বাচন কমিশনের অধীনে কোনও সুষ্ঠু নির্বাচন হতে পারে না। সুষ্ঠু নির্বাচন করতে হলে নির্বাচন কমিশনকে পুনর্গঠন করতে হবে। সুতরাং এই নির্বাচন কমিশনের অধীনে ফের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন কিনা এই বিষয়ে ভেবে দেখবেন।
নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্য করে তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের বর্তমান সংকটের উত্তর রাজপথের মাধ্যমে অর্জন করতে হবে।
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবুর মুক্তির দাবি’ শীর্ষক এ সভায় সভাপতিত্ব করেন আয়োজক সংগঠনের সভাপতি দেলোয়ার হোসেন হাওলাদার। এ সময় আরও বক্তব্য দেন বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা আবুল খায়ের ভূইয়া, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক ইয়াসিন আলী প্রমুখ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ