ঢাকা, শনিবার 19 May 2018, ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫, ২ রমযান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

ফুলবাড়ীতে শ্রমিক ও গ্রামবাসীদের অবরোধে বিদেশীসহ ৩ শতাধিক খনি কর্মকর্তা কর্মচারী অবরুদ্ধ

ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) সংবাদদাতা : দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়ায় শ্রমিক ও গ্রামবাসীদের অবরোধে বিদেশীসহ ৩ শতাধিক খনির কর্মকর্তা কর্মচারী ৭ দিন ধরে অবরুদ্ধ। গত ১৭ মে সকাল সাড়ে ১১ টায় মনমালা হল রুমে বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির স্থানীয় শ্রমিক ও বহিরাগত লোকজন কর্তৃক খনির কর্মকর্তাদেরকে মারপিটের ঘটনা কয়লা খনি কর্তৃপক্ষ সাংবাদিক সম্মেলনে তুলে ধরেন।
বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির স্থানীয় শ্রমিক ও বহিরাগত লোকজন কর্তৃক খনির কর্মকর্তাদের মারপিটের ঘটনায় কয়লা খনির ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী আলহাজ্ব হাবিব উদ্দিন আহাম্মদ আন্দোলনকারীদের অমানবিক আচরণ ও মারপিটের ঘটনায় গত ১৭ মে সাংবাদিক সম্মেলন করে বলেন, গত ১২ থেকে ১৫ মে পর্যন্ত তাদের অযৌক্তিক আন্দোলনের বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন। তিনি সাংবাদিক সম্মেলনে বলেন, চাইনিজ ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের স্থানীয় শ্রমিক বৈদেশিক ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান, এক্সএমসি-সিএমসি কনসোর্টিয়াম কর্তৃক নিয়োজিত এবং তাদের বেতনভুক্ত শ্রমিক তারা, বিসিএমসিএল এর কোনো পর্যায়ের শ্রমিক কর্মচারী নয় বলে জানান। তাদের কিছু অযৌক্তিক দাবী দাওয়া যেমন, চাকরি স্থায়ীকরণ, রেশন সুবিধা প্রদান, বৈশাখি ভাতা প্রদান সহ নানা বিষয়ে গত ১৩মে থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতি শুরু করে ধর্মঘট করেন। এতে খনির অফুরন্ত ক্ষতি হচ্ছে।
তিনি বলেন,গত ১৫মে সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটে বিসিএমসিএল এর কর্মরত কয়েকজন কর্মকর্তা মেইন গেইট দিয়ে অফিসে আসার সময় আন্দোলনরত শ্রমিকরা জীবননাশের জন্য মারধর করতে উক্ত গেইট থেকে বেশ কয়েজন কর্মচারীকে বাহিরে নিয়ে যায়। খনির কতিপয় কর্মকর্তা অফিসে যাওয়ার সময় তাদের আর্ত-চিৎকার শুনে তাদেরকে উদ্ধার করতে গেলে ঐ এলাকার স্থানীয় মো. মিজানুর রহমান মিজান গংরা বাড়ী থেকে লাঠিসোটা, ইটের টুকরা ও দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তার সহযোগী অন্যন্যরাসহ বহিরাগত লোকজনকে নিয়ে খনির কর্মকর্তা কর্মচারীদের উপর অতর্কিত হামলা চালায় এবং কর্মকর্তা কর্মচারী গণকে উপর্যুপরি ও এলোপাথাড়ি মারপিট করতে থাকে। পুলিশ ও আনসারদের সহযোগীতায় আহত কর্মকর্তা কর্মচারীদেরকে উদ্ধার করে খনির ভিতরে আনা হয় এবং চিকিৎসার জন্য আমরা ফুলবাড়ী ও দিনাজপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে দেই। তাদের হামলায়  কোম্পানির মহাব্যবস্থাপক (প্লানিং এন্ড এক্সপ্লোরেশন) ও প্রকল্প পরিচালক এ. বি. এম কামরুজ্জামানসহ ২০ জন কর্মকর্তা আহত হয়। তাদের মধ্যে ৫ জনের অবস্থা গুরুতর। বৃহস্পতিবার সাংবাদিক সম্মেলনে খনির ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী হাবিব উদ্দিন আহাম্মেদ বলেন, খনিতে কর্মকর্তা কর্মচারী ও তাদের পরিবার পরিজনসহ বিদেশী প্রায় ৩০০ জন নাগরিক অবস্থান করছে। তারা ১৩ মে থেকে খনির ভিতরে অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছে। কর্মকর্তা কর্মচারীদের কোন ছেলে মেয়ে স্কুল কলেজে অবরোধের কারনে যেতে পারছেনা। খনি কর্মকর্তা কর্মচারীদের অবরুদ্ধকারীরা খনি এলাকার ভিতরে কোন প্রকার খাদ্য, ঔষধসহ কোন প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ঢুকতে দিচ্ছেনা বলে অভিযোগ করেন। যারা আন্দোলন করছে তারা খনিটিকে ধ্বংস করার জন্য পায়তারা করছে। আমি আন্দোলনকারীদেরকে আহবান জানাচ্ছি তারা আন্দোলন প্রত্যাহার করে কাজে যোগদান করুক। দুষ্ট প্রকৃতির কিছু লোকজন বাধা প্রদান করছে। সাংবাদিক সম্মেলনে খনিতে কর্মরত কর্মকর্তা কর্মচারী ও তাদের পরিবার পরিজনসহ বিদেশী নাগরীকদের অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে মুক্তির দাবি করে প্রশাসনের হস্থক্ষেপ কামনা করেছেন।
সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী হাবিব উদ্দিন আহাম্মেদ, কোম্পানির মহাব্যবস্থাপক (প্লানিং এন্ড এক্সপ্লোরেশন) ও প্রকল্প পরিচালক এ. বি. এম কামরুজ্জামান, আবুল কাসেম প্রধানিয়া মহাব্যবস্থাপক প্রশাসন, এটিএম নুরজ্জামান চৌধুরী মহাব্যবস্থাপক মাইন অপারেশন, খান মোহাম্মদ জাফর সাদিক উপমহাব্যবস্থাপক, মো: ছাইফুল ইসলাম সরকার মহাব্যবস্থাপক ( সারফেস) অপারেশন, মো: জোবায়েদ আলী উপমহাব্যবস্থাপক, গোপাল চন্দ্র সাহা উপমহাব্যবস্থাপক, আনিসুরজ্জামান উপমহাব্যবস্থাপক মার্কেটিং, মো: আনিসুর রহমান ব্যবস্থাপক, মো: নজমুল হক উপমহাব্যবস্থাপক, মাসুদুর রহমান ব্যবস্থাপক প্রাশাসন। এই ঘটনার সাথে যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ভাবে বিচারের দাবী জানান। খনির আন্দোলনরত নেতৃবৃন্দরা বলেন, আমাদের ১৩ দফা দাবী মেনে নিলেই অবরোধ প্রত্যাহার করা হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ