ঢাকা, শনিবার 19 May 2018, ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫, ২ রমযান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

সুন্দরবনের ওপর অনাকাঙ্ক্ষিত অত্যাচারের শেষ নেই

গতকাল শুক্রবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে বাংলাদেশ পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের উদ্যোগে সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করা হয় -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার: সুন্দরবন বিষয়ে ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্য কমিটির প্রস্তাব সম্পূর্ণ বাস্তবায়নের পাশাপাশি বনের পাশে নির্মাণের সকল কাজ অবিলম্বে বন্ধের দাবি জানিয়ে সুন্দরবন রক্ষা জাতীয় কমিটির আহ্বায়ক এডভোকেট সুলতানা কামাল বলেছেন, আমরা সুন্দরবনের ওপর আর অত্যাচার চাই না।
তিনি রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রসহ সুন্দরবনের পার্শ্ববর্তী বা অভ্যন্তরের নির্মাণাধীন ও পরিকল্পিত ৩২০টিসহ সকল সরকারি-বেসরকারি প্রকল্প ও স্থাপনা অপসারণের দাবি জানান। তিনি বলেন, নির্মানাধীন প্রকল্প অবিলম্বে বন্ধ, বরাদ্দকৃত সকল প্লট অবিলম্বে বাতিল করতে হবে।
গতকাল শুক্রবার সুন্দরবন রক্ষা জাতীয় কমিটি, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) ও ওয়াটারকিপারস বাংলাদেশ এর যৌথ উদ্যোগে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি’র গোলটেবিল মিলনায়তনে এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি একথা বলেন। বিশিষ্ট লেখক-বুদ্ধিজীবী ও বাপা’র সহসভাপতি সৈয়দ আবুল মকসুদ এর সভাপতিত্বে এবং সুন্দরবন রক্ষা জাতীয় কমিটির সদস্য সচিব ও বাপা’র সাধারণ সম্পাদক ডা. মোঃ আব্দুল মতিন এর সঞ্চালনায় সম্মেলনে এ বিষয়ে মুল বক্তব্য রাখেন বাপা’র যুগ্মসম্পাদক ও ওয়াটারকিপারস বাংলাদেশ এর সমন্বয়ক শরীফ জামিল। আরো বক্তব্য রাখেন সুন্দরবন রক্ষা জাতীয় কমিটির নেতৃবৃন্দের মধ্যে এএলআরডি’র নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা, তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির সংগঠক রুহিন হোসেন প্রিন্স। এছাড়া  বাপা’র যুগ্মসম্পাদক হুমায়ন কবির সুমন, সেন্টার ফর হিউম্যান রাইটস মুভমেন্টের নির্বাহী প্রধান মোজাহেদুল ইসলাম মুজাহিদ এবং খুলনার সিনিয়র সাংবাদিক শেখ মোহাম্মদ নুর মিয়াসহঅন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
শরীফ জামিল বলেন, সুন্দরবনের উপর অনাকাক্সিক্ষত অত্যাচারের শেষ নাই, এটি এখন ধ্বংসের সর্বোচ্চ হুমকির সম্মুখীন। সম্প্রতি খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের গবেষকদের এক গবেষণায় দেখা গেছে, রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ সুন্দরবনের চারপাশের সব কারখানা পুরোদমে চালু হওয়ার আগেই সুন্দরবনের ক্ষতি শুরু হয়েছে। সব কারখানা নির্মাণ শেষে পুরোদমে চালু হলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়বে। গবেষকদের নতুন গবেষণার চিত্র উল্লেখ করে তিনি জানান, শিল্পকারখানার এলাকার মাটি দূষিত হয়ে পড়ছে। কারখানা রয়েছে এমন এলাকার প্রতি কেজি মাটিতে সর্বোচ্চ ১৫.৬ মাইক্রোগ্রাম তেল পাওয়া গেছে। আর শিল্প কারখানা নেই এমন এলাকায় এর পরিমাণ সর্বোচ্চ ৭.৬ মাইক্রোগ্রাম। শিল্প কারখানা এলাকায় বাতাসও দূষিত।
সুলতানা কামাল আরো বলেন, দেশবাসীর গভীর উদ্বেগ ও বিজ্ঞানীদের গবেষণার বিপরীতে সুন্দরবন প্রশ্নে সরকারি নির্লিপ্ততা ও সুন্দরবন বিনাশী কার্যক্রমে দেশবাসী উদ্বিগ্ন। সুন্দরবন বিষয়ে ইউনেস্কোর শর্ত এবং রামসা, আইইউসিএন-সহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো অব্যাহতভাবে উদ্বেগ জানালেও সরকার কোন কিছুই কর্ণপাত করছেন না, যা খুবই দুঃখজনক। গবেষণায় দেখা গেছে প্রকল্পগুলো পুরোদমে শুরু হওয়ার আগেই, এর প্রভাব সুন্দরবন ঘিরে শুরু হয়েছে। তাই আমরা সরকারের কাছে আবারও আহ্বান জানাচ্ছি, বিজ্ঞানীদের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে দেশ ও তার জনগণ-প্রকৃতি-সম্পদ-অর্থনীতি ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের অস্তিত্বের স্বার্থে সুন্দরবন বিনাশী কার্যক্রম বন্ধে পদক্ষেপ নেবেন।
সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, দেশে সুন্দরবন প্রশ্নে আজ দুটি পক্ষ তৈরী হয়েছে এক পক্ষ হচ্ছে সরকারি কিছু কর্মকর্তা, আর অন্য পক্ষ হচ্ছে পরিবেশবিদ- গবেষক-বিজ্ঞানী, শিক্ষক, সাংবাদিকসহ দেশপ্রেমিক সর্বস্তরের জনগন। সরকারি কিছু স্বার্থান্বেষী কর্মকর্তার কারণেই আজ সুন্দরবন বিনাশী একের পর এক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তাই সরকারকেও স্বার্থান্বেষী এই মহলের বিষয়ে সজাগ থাকতে হবে। আমরা আশা করবো বিশেষ মহলের স্বার্থ রক্ষা না করে, দেশের সম্পদ-পরিবেশ ও জনস্বার্থে সুন্দরবন বিনাশী কার্যক্রম বন্ধে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী উদ্যোগ নেবেন এবং সুন্দরবনকে রক্ষা করবেন।
ডা. মোঃ আব্দুল মতিন বলেন, কিছু মুনাফালোভী ব্যক্তির স্বার্থে সুন্দরবনের প্রতি সরকারের অবহেলামূলক মনোভাব ও নির্লিপ্ততা সকলকে বিষ্মিত করেছে।
রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, আমাদের আশঙ্কাই গবেষণার তথ্যে আবারও প্রমাণিত হলো। আমরা বারবার বলে আসলেও সুন্দরবন বিনাশী কার্যক্রম চলছেই। আর এসকল কার্যক্রম এখনই বন্ধ না হলে দিনে দিনে সুন্দরবন আরো ধ্বংসের দিকে যাবে। তিনি সুন্দরবন রক্ষায় সকলকে সোচ্চার হওয়ার জন্য আবারও আহ্বান জানান।
শামসুল হুদা বলেন, সুন্দরবন ঘিরে বিভিন্ন প্রকল্প ও প্লট বরাদ্দের কারণে শুধু সুন্দরবনই নয়, পাশ্ববর্তী কৃষিজমিও বিনষ্ট হচ্ছে। যার প্রভার পড়ছে স্থানীয় জনগনের জীবন-জীবিকা, প্রকৃতি ও পরিবেশের ওপর।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ