ঢাকা, শনিবার 19 May 2018, ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫, ২ রমযান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

শাহজাদপুরে অবৈধভাবে যমুনা থেকে বালু উত্তোলনে হুমকির মুখে জনপদ

শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) সংবাদদাতা : শাহজাদপুর যমুনা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে প্রভাবশালী ও ক্ষমতাসীন দলের লোকজন। প্রতিদিন যমুনা নদীর পাঁচিল, কৈজুরী, ঠুটিয়া, জগতলা, ভাটপাড়া এলাকা থেকে ট্রাক ও ড্রেজার মেশিন বসিয়ে লাখ লাখ টাকার বালু বিক্রি করছে। প্রশাসনের কোন অনুমতি ছাড়াই এসব বালু ১০/১২টি ট্রাকে এবং পাইপ দিয়ে দুরের বিভিন্ন খাল ভড়াট করে দিচ্ছে। বাণিজ্যিকভাবে এ বালু প্রকাশ্যে উত্তোলন ও বিক্রি করে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতারা রাতারাতি আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হলেও প্রতিবাদ করতে পারছেনা কেউ। তীরবর্তী এলাকার মানুষ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে সাংবাদিকদের কাছে মুখ খুললেও প্রতিবাদ প্রতিরোধ করতে পারছেনা। কারণ বালু উত্তোলনকারী চক্রটি ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় নেতা-কর্মী হওয়ায় প্রতিবাদকারীদের নানা ভাবে ভয়ভীতি এমনকি চাঁদাবাজ হিসেবে মামলা দেয়ার হুমকী দিচ্ছে। যমুনা নদীর পানি শুকিয়ে চর জেগে উঠায় এসব চরে ট্রাক দিয়ে বালু উত্তোলন করছে। ফলে নদী তীরে ঘর-বাড়ী ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান হুমকীর মুখে পড়ছে। সরে জমিনে ঘুরে দেখা গেছে প্রভাবশালী মহলটি বালূ দস্যুর ন্যায় নদীগর্ভের বালু গ্রাস করছে। যমুনা নদীর কৈজুরী পয়েন্টে একটি চক্র প্রতিদিন ১০/১২টি ট্রাক বালু উত্তোলণ করে বিভিন্ন এলাকায় ১০০০/১২০০টাকা প্রতি ট্রাক বালু সকাল থেকে স›ন্ধ্যা পর্যন্ত উত্তোলন করছে। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলামের নাম ভাঙ্গিয়ে মূলত বালু উত্তোলনের রমরমা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। বিস্বস্ত একজন জানান, স্থানীয় এক বি,এন,পি পন্থী ইউপি মেম্বর এবং ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতাদের যোগ সাজশেই যমুনা নদী থেকে চলছে বালু উত্তোলন ও বিক্রির কাজ। তবে কৈজুরী ইউপি চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম জানান, তিনি এই বালু বিক্রির ব্যবসার সাথে জড়িত নন। তাঁর নাম ব্যবহার করে নাম ভাঙ্গিয়ে স্থানীয় সুবিধাবাদী কয়েকজন বালু উত্তোলন করছে। আর সরকারি একটি গুচ্ছগ্রাম নির্মাণের জন্য বালু উত্তোলন করা হয়েছে। ব্যবসায়ী উদ্দেশ্যে নয়। এ ব্যাপারে নদী তীরের লোকজন দিন দিন ফুঁসে উঠেছে বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে। তবে স্থানীয় এক স্কুল শিক্ষক জানান, বালু ব্যবসায়ীরা দেদারসে ব্যবসা করে গেলেও যমুনা নদীতে বন্যার পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে শুরু হবে ভাঙ্গন। কিন্তু মহলটি কোন ক্রমেই বালু উত্তোলন বন্ধ করছেনা বিধায় আগামী বন্যায় মৌসুমে লাখ লাখ টাকা দিয়ে তৈরী সিসি ব্লক ধসে নদী তীরের বসতবাড়ী ভাঙ্গনের কবলে পড়বে। তাই নদী তীরবর্তী এলাকা রক্ষায় অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ করা প্রয়োজন বলে এলাকাবাসী জানিয়েছেন। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ