ঢাকা, শনিবার 19 May 2018, ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫, ২ রমযান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

রমযানে পণ্যমূল্য বাড়ানোর কারসাজি

দেখতে দেখতেই প্রতিবছরের মতো সমগ্র মুসলিমবিশ্বে সিয়াম সাধনার মাস রমযান আবারও ফিরে এলো। ঈমানদারদের জন্য আল্লাহর নিয়মিত ইবাদত করা ফরয হলেও রমযানে এর গুরুত্ব আরও বেড়ে যায়। সিয়াম সাধনাসহ দান-খয়রাত, কুরআন তেলাওয়াত, তারাবিসহ সব ইবাদতে মুসলমানদের মনোযোগী হতে দেখা যায় বেশি। পক্ষান্তরে খারাপ কাজ থেকে সরে এসে অনেকে বেশি বেশি ভালো কাজে অংশ নেন। এটা নিশ্চয়ই বিশ্বমানবতার জন্য একটা ইতিবাচক লক্ষণ। সামর্থ্যবানরা নিসাবে মাল হলে শতকরা আড়াই ভাগ জাকাত প্রদান করেন এ মাসে। ফিতরা আদায় করেন ঈদুল ফিতর সালাতের আগেই। অর্থাৎ আল্লাহর ইবাদতবন্দিগির মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হয় কুরআন নাযিলের পবিত্র মাসটি। এ মাসটি যেমন ইবাদতবন্দিগির, তেমনই মহান ত্যাগেরও।
কিন্তু অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য যে, একশ্রেণির ব্যবসায়ী এ মাসটিকেই অধিক মুনাফা লাভের মাস মনে করে নিত্যপণ্যের মূল্য বাড়িয়ে দেন। এমাসে বেচাকেনা এমনিতেই বেশি হয় বলে মুনাফাও বেশি হবার কথা। অথচ আমাদের দেশের প্রায় সব ব্যবসায়ীই নিত্যপণ্যের মূল্য বাড়িয়ে দিয়ে সায়েমদের কাছ থেকে অধিক অর্থ আদায় করে নেন। বিশ্বের অনেক দেশে পবিত্র রমযান মাসে জিনিসপত্রের মূল্য কমিয়ে দেয়া হয়, যাতে সিয়ামপালনকারীর কষ্ট কিছুটা লাঘব হতে পারে। এমনকি কোনও কোনও অমুসলিম দেশেও এ মাসে সায়েমদের সম্মানে নিত্যপণ্যের দাম হ্রাস করা হয়। কিন্তু আমাদের প্রায় শতকরা ৯০ ভাগ মুসলিম অধ্যুষিত দেশে রমযানে জিনিসপাতির দাম হঠাৎ করে বেড়ে যায়।
মধ্য শাবানের আগেই একদফা পণ্যের দাম বাড়ানো হয়েছে। ডাল, চিনি, তেল, পেঁয়াজ, রসুন, মশলা প্রভৃতির দাম কেজিতে ১৫ থেকে ২০ টাকা বেড়ে যায় শাবান মাসের শুরুতেই। এবার বেড়েছে সবজির দামও। বাণিজ্যমন্ত্রী বারবার এবার রমযানে পণ্যমূল্য বাড়বে না বলে ঘোষণা করলেও রমযান শুরুর আগেই এসব জিনিসের দাম বাড়ানো হয়েছে। অবশ্য চালের দাম রমযানে বাড়েনি। তাতে কী? বাড়ানো হয়েছে অনেক আগেই। ৬০/৬৫ টাকার নিচে বাজারে কোনও চালই পাওয়া যায় না। আমাদের ব্যবসায়ী ভাইয়েরা সবাই শুধু মুনাফা দেখেন এমনও নন। অনেক প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী আছেন যারা পরহেজগার। তাঁরা অন্তত পবিত্র রমযানে জিনিসপাতি অল্প লাভে বেচে সওয়াব হাসিল করতে পারেন। সৌদি আরবসহ কোনও কোনও মুসলিম দেশে রমযান মাসে ইফতার সামগ্রীসহ সাহরির খাবার বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়। আমাদের দেশের সামর্থ্যবানরাও গরিবদের জন্য এমন ঔদার্যের পরিচয় দিতে পারেন। তবে প্রদর্শনী করে মানুষ হত্যার ফাঁদ পেতে অবশ্যই নয়। এবারও চট্টগ্রামে এমন ফাঁদে ১০ জনের দুর্ভাগ্যজনক মৃত্যু ঘটেছে।
সরকারি উদ্যোগে ন্যায্যমূল্যে চাল, ডাল, চিনি, তেল বিক্রির কথা বলা হয় প্রতিবছর। নামকাওয়াস্তে শুরুও করা হয় রমযানের কয়েকদিন আগে। কিন্তু কয়েকদিন যেতে না যেতে সেটা আবার বন্ধও হয়ে যায়। এছাড়া ওজনে কম দেবার অভিযোগতো থাকেই। আসলে নামকাওয়াস্তে কোনও উদ্যোগ নিলে হবে না। মানুষের প্রকৃত উপকার বা সেবা করতে চাইলে মানসিকতাও সে রকম থাকতে হবে। আমরা চাই, রমযানে কারসাজি করে পণ্যের দাম যাতে বাড়ানো না হয়। আর যারা দাম বাড়ান তাদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির ব্যবস্থা করা জরুরি। সিয়ামসাধনায় নিয়োজিতদের কষ্ট যাতে না বাড়ে সেদিকে সরকার, ব্যবসায়ীসহ সংশ্লিষ্টদের নজর রাখতে হবে অবশ্যই।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ