ঢাকা, শনিবার 19 May 2018, ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫, ২ রমযান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

দলীয় সরকারের অধীনে এমনই হবে নির্বাচন

ডাঃ মোঃ মুহিব্বুল্লাহ : বিজ্ঞ ও প্রবীণজনেরা যেমন সকালের সূর্য দেখেই বলতে পারে এ প্রভাতি সূর্য দিনের দাবদাহের খবরবাহি নাকি মেঘবৃষ্টি ঝরাতে পারে। যারা বাচ্চাকাচ্চার শৈশবের প্রতিভা দেখে যৌবনের দাপটের ভবিষ্যতবাণী ও বলে দেয় এবং গর্জন দেখেই মেঘের বর্ষনের সম্ভাবনা বুঝতে পারে। এ অভিজ্ঞতা ছাড়াও মানুষ বাস্তবিক ক্ষেত্রে বলে থাকে আগের হাঁল যেদিকে যায় পিছের হাঁল ও সেদিকেই যায়।” তেমনি বাস্তব জীবনে কিছু মানুষ কিছু মানুষের পা বাড়ানো আর মুখ নাড়ানো দেখলেই অভিজ্ঞতার আলোকে তার মুভমেন্ট সঠিকভাবেই বুঝে নিতে পারে। আসলে এতোগুলো কথাবলার পিছে আমার একটা উদ্দেশ্য আছে যা, হলো বর্তমান সরকারের পছন্দে গঠিত ইসি নিয়মতান্ত্রিকভাবে গাজীপুর ও খুলনা দুটি সিটিতে নির্বাচন দিতে চলছে। যে নির্বাচন ১৫ই মে ২০১৮ তারিক হওয়ার কথা। মুলত দেশবিদেশের সকল মানুষ এদুটি সিটি নির্বাচন দেখেই পরিপূর্ণ ধারনা অর্জন করতে পারবে যে আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এ সরকার এবং এই ইসির অধীনে কেমন হবে। যাহোক দুটি সিটিতেই প্রার্থীতা প্রত্যাহারের আগেই দারুণ হাকডাকের সাথে বেশ জাঁকজমক ভাবে যার প্রচারণা ও চলছিলো। প্রার্থীতা প্রত্যাহারের আগেই সকল প্রার্থী বিশাল বিশাল গণসংযোগ ও করে চলছিলো।
যদিও স্বতন্ত্রভাবে জামায়াতের নেতা সানাউল্লাকে নমিনেশন জমা দেয়া সত্বেও যা জোটের সিদ্ধান্তে শেষ পর্যন্ত প্রত্যাহার করে জোট প্রার্থী হাসান উদ্দিন সরকারের পক্ষে কাজ করতে যেয়ে গ্রেপ্তার পর্যন্ত হতে হয়েছে। যা একটি নির্বাচনের জন্য বেশ গুরুতর হলেও নির্বাচন বাতিল হওয়ার মতো প্রভাব ফেলে ছিলো না। এতোকিছুর পরেও এ নির্বাচনের সার্বিক দিকেই দেশ ও দুনিয়া তাকিয়ে ছিলো। এ দুটি সিটি নির্বাচন দেখেই সবাই মেপে নিতে পারবে আগামী একাদশতম জাতীয় সংসদ নির্বাচন কেমন হবে। সরকার ও ইসির “নির্বাচন অবাধ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবেই” বলা কথার সাথে কাজেরকি প্রকৃতই কোনো মিল থাকবে নাকি তা শুধুমাত্র বিশ্ববিবেককে দেখাতে মিডিয়ার সামনে তাদের চালবাজি মাত্র। ১৫ই মে খুলনা সিটির এ নির্বাচনে ২০ দলীয় জোটের মেয়র প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু এবং আঃ লীগ এর দলীয় প্রার্থী তালুকদার আব্দুল খালেক।আর গাজীপুর সিটিতে বিএনপি তথা ২০ দলীয় প্রার্থী হাসান উদ্দিন সরকার এবং আঃ লীগের প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলমসহ দেশের ছোটোখাটো আরো কিছু দলের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিদ্বন্দ্বীতায় এ দুই সিটির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবার গন্তব্যের দিকে হেটে চলছিলো।
২০ দলীয় প্রার্থীর পক্ষ থেকে ছোটোখাটো কিছু অভিযোগ নির্বাচন কমিশন বরাবর পড়তে থাকলেও সবাই সে সকল অভিযোগকে জাস্ট নিজেদের সুযোগ সুবিধা গড়ে নিয়ার কৌসল মাত্রই ধরে নিচ্ছিল। যদিও অবাধ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দিতে এসব দাবী পুরণের জুড়ি নাই। ইভিএম (ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিন) বাতিল, সেনা মোতায়েন ও নির্বাচনে লেবেল প্লেইং ফিল্ড তৈরী এবং নেতাকর্মীকে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্তৃক কতৃক হয়রানি ও গ্রেপ্তারের মতো অভিযোগও যার মধ্যে সামিল। কিন্তু যতো হয়রানিই করা হক না কেনো বাংলার ইতিহাস সকলেরই জানা। গাজীপুরে জামায়াত বিএনপির জনবল প্রতিটি নির্বাচনেই শীর্ষে থাকে। সেখানে নিরপেক্ষ নির্বাচনে ভোটার সুষ্ঠুভাবে ভোট দিতে পারলে ১৪দলের প্রার্থীর নির্ঘাত ভরাডুবি হবে সবার জানা। এ কারণে এ সিটিতে চলমান এই বিনা ভোটে ক্ষমতায় আসা সরকারের আমলে ইসি নির্বাচনে নিরপেক্ষতার নিশ্চিত পরিবেশ তৈরী করার অভিনয় মঞ্চস্থ করলেও যে কোনো কুচক্রীমহলের প্রভাবে এ নির্বাচন প্রভাবিত হতে পারে এমন ধারণা অনেক বিশেষজ্ঞদেরই ধারণায় জন্ম নিয়ে ছিলো।
গত ১৫ মে সম্পন্ন হওয়া খুলনা সিটি নির্বাচনে যার প্রমাণ মিলেছে। বিরোধী দলের বাড়িতে বাড়িতে সরকার দলীয় সন্ত্রাসীরা হুমকি দিয়ে আসার কারণে তারা ভোটকেন্দ্রে না আসায় ভোট চলাকালীন বাহিরের পরিবেশ অনেকটা ভালো থাকলেও ভিতরটা ছিলো সম্পূর্ণ তাদের নিয়ন্ত্রণে। যে কারনে বিএনপির প্রধান পলিং এজেন্ট বের করে দিয়ে ব্যাজ-কার্ড বিহীন নিজেদের কর্মীদেরকে মিডিয়ার সামনে বিএনপির পলিং এজেন্ট বলে পেশ করা এবং একজন ভোটার ৫/৭শত ব্যালটে সিল মারার মত ঘৃণ্য কাজ গুলো করা তাদের পক্ষে সহজ সাধ্য হয়েছে। এক কথায় নিজেদের নিয়ন্ত্রণে থাকলে যা যা করা যায় তা তারা উৎসবমূখর পরিবেশেই করেছে।
গাজীপুর সিটি হাতে আনার তদবির হিসেবে তেমনি আশুলিয়ার কিছু এলাকাকে গাজীপুর সিটির সীমানায় সংযুক্ত করা এবং আশুলিয়া থানার শিমুলিয়া ইউনিয়ানের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগ নেতা এবিএম আজহারুল ইসলামের এ ইস্যু নিয়ে রিট করা ও হাইকোর্ট কর্তৃক তিন মাসের জন্য নির্বাচন স্থগিতাদেশ করাই যার সত্যতা প্রমাণ করে। বারবার রিট আবেদন করে থেমে থাকা ও নির্বাচনী পরিবেশকে স্বউল্লাসে এতোটা নিরব ভুমিকায় এগিয়ে আসতে চেয়ে দেখা লোকটির হঠাৎ আবার মাথানাড়া দেয়া যে নিশ্চয়ই কোনো না কোনো ইঙ্গিত ও ইন্ধনে হতে পারে তা কাউকেই বলে বুঝানোর অপেক্ষা রাখেনা।
আবার জামায়াত নেতা সানাউল্লাহ যিনি প্রার্থীতা প্রত্যাহারের আগে কোনো গণসংযোগ থেকে গ্রেপ্তার হননি। অথচ তিনিসহ নির্বাচনী কাজে অংশ নেয়া ৫২ জন নেতাকর্মী গ্রেপ্তার এবং কৌশল সাজিয়ে হাতছাড়া হবার হাত থেকে রক্ষা করতে সীমানা সমস্যা ঘটিয়ে নির্বাচন সুবিধা মত সময়কাল পর্যন্ত অপেক্ষা করানোর গৃহীত এ কৌশল এসরকারের আমলে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এ নির্বাচনী পরিবেশের প্রতিমূর্তি আরো সুন্দর ভাবে প্রকাশ করেছে।এমনকরে জনমত জরিপে যে স্থানে নেতৃত্ব ধরে রাখা অসম্ভব মনেকরে সেখানে ক্ষমতা প্রয়োগ, ভোট ডাকাতি ও দাঙ্গা হাঙ্গামা সৃষ্টি সহ সফলতার জন্য যেকোনো ফেৎনাবাজি পদক্ষেপ গ্রহণকরা প্রয়োজন হোকনা কেনো এ সরকার তাই গ্রহণ করতে পরিকল্পিত কার্যসূচি বাস্তবায়ন করে চলছে। যদিও শেষপর্যন্ত ২৮ জুনের মধ্যে গাজীপুর সিটি নির্বাচন সম্পন্ন করার সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ আবারও এ নির্বাচনকে আসার মুখ দেখাচ্ছে। তথপিও এদুটি নির্বাচন একসাথে হতে পরলোনা তা অবশ্য সবাইকে মানতেই হচ্ছে। তবে খুলনা সিটির নির্বাচনে ২০ দলীয় প্রার্থীর অভিযোগের চেয়ে যেমন বেশী হয়রানি, ভোটাধীকার হরণ, নির্বাচনের আগের রাতে ভোট কাস্ট, কেন্দ্র দখল, গ্রেপ্তার ও ভিত প্রকম্পিত এবং নির্বাচন কমিশন আর প্রশাসন মিলে সরকার দলীয় প্রতিকের পক্ষে ভোট কারচুপি করতে দেখা গেলো গাজীপুরে জয়ী হতে ক্ষমতাসীনদেরকে হয়তোবা এরচেয়ে আরো তিব্রতর ভূমিকায় দেখা যাবে। আর যা থেকে সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায় যে কোনো ভোটারবিহীন অনির্বাচিত সরকারের অধীনে কোনোদিন নিরপেক্ষ নির্বাচন আশা করা যায় না।
 সেজন্য এদুটি সিটি নির্বাচন থেকে শিক্ষা নিয়ে বিশ্বের অভিভাবকদের অভিভাবক সুলভ ভুমিকায় বাংলাদেশে একটি স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ জাতীয় নির্বাচন দেখার মানসিকতা নিয়ে সকল দলের অংশগ্রহণে নির্দলীয় নিরপেক্ষ শক্তির অধীনে অনুষ্ঠিত স্বচ্ছ ও সবার কাছে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করাবার কাজ করা কর্তব্য। আর এদেশের নাগরিকদের করনীয় একটা যথেচ্ছাচার সরকারের হাত থেকে দেশ ও জাতিকে রক্ষা করার জন্য সেই গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের দিকে এগিয়ে নিয়ার দায়িত্ব পালনকরা। এজন্য কোনো অপশক্তির মোকাবেলায় কঠোরতর প্রতিদান দিতে হলেও সে ত্যাগ স্বীকারে জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলে তামাশার নির্বাচন কারীদেরকে দাতভাঙ্গা জবাব দেয়ার মাধ্যমে জনগনের ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনতে হবে
তাই আসুন আমরা এমন হাস্যকর নির্বাচন দিয়ে বিশ্বের কাছে এদেশের ভাবমর্যাদা ক্ষুন্ন হতে না দেই। দেশ ও জাতিকে তামাসার পাত্রে পরিণতকারীদের অন্যায় সকল প্রচেষ্টাকে ব্যর্থ করে দিতে কোনো নির্দলীয় ও নিরপেক্ষ সরকারের মাধ্যমে সকল গনতান্ত্রিক দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে একটি অবাধ, সুষ্ঠু এবং গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে গণসমর্থীত সরকার গড়তে আবারো আমাদের বীরত্বের পরিচয়কে বিকশিত করি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ