ঢাকা, শনিবার 19 May 2018, ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫, ২ রমযান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

এসবই হলো একনায়কতান্ত্রিক দেশের চেহারা

সাইফুল ইসলাম তানভীর : বিশ্ব ইতিহাসের সকল স্বৈরতান্ত্রিকরা একনায়ক কেন্দ্রিক সরকার গুলোই ক্ষমতা হারানোর ভয়ে নানান ধরনের নির্লজ্জ কর্মকান্ড ঘটিয়ে আসছে। এধরনের ক্ষমতাসীনরা লজ্জা কি জিনিস তা বুঝে না। তারা নিজেদেরকে খুবই চালাকভাবে। তারা ভাবে আমরা কুটকৌশলে যেসব কান্ড ঘটিয়ে বিরোধীদের দমিয়ে রাখছি তা কেউ বুঝে না। যেমন সম্প্রতি কোর্টের রায়ে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন স্থগিত হওয়া। ক্ষমতাসীন সরকার বুঝাবার চেষ্টা করছে যে এটা কোর্টের আদেশ। আমরা কিছু জানি না। কিন্তু জনগন ঠিকই আসল জিনিসটা বুঝতে সক্ষম হয়েছে। গত ০৭ মে ২০১৮ ইং দৈনিক প্রথম আলোর প্রধান শিরোনাম ছিল- “শেষ সময়ে নির্বাচন স্থগিত”। এরপরের শিরোনাম ছিল-“বিএনপি প্রার্থীর বাড়ি ঘেরাও” উপ শিরোনাম ছিল বিএনপির ১২ নেতাকর্মী আটক। ছয়ঘন্টা পর আবদুল্লাহ আল নোমানকে ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ”।
একই দিন প্রথমআলোর যুগ্ম সম্পাদক মিজানুর রহমান খান এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন করেন। যেটি প্রথম পৃষ্ঠাতেই প্রকাশ হয়। শিরোনাম ছিল-“নির্বাচন আটকে যাওয়ার নেপথ্যে” এই শিরোনাম থেকে প্রথম অল্প কটি বাক্য এখানে তুলে ধরছি- “সরকারি দলের হেরে যাওয়ার আশঙ্কার পটভূমিতে তফসিল ঘোষনার পর ঢাকা উত্তর সিটি করর্পোরেশন নির্বাচন নাটকীয়ভাবে স্থগিত হয়েছিল। চারমাসের ব্যবধানে একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটল। উভয় ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনকে রিট চ্যালেঞ্জে শিথিল মনোভাব প্রদর্শন করতে দেখা গেছে।”
বর্তমানে বাংলাদেশে ক্ষমতাসীন আ’লীগ নামক এক সরকার। এরা বেশ পুরোনো দল। এদের  প্রথম দিকের নেতারা অনেক বিচক্ষণতার পরিচয় দিলেও বর্তমানে যারা আছেন তারা নিজেদেরকে ক্ষমতায় রাখার জন্য খুবই বিশ্রী কর্মের ঘটনা ঘটিয়ে যাচ্ছে। বেচারা আজমতউল্লাহখান! বেচারা জাহাঙ্গীর আলম! কতই না কষ্ট করেছেন মেয়র হওয়ার জন্য। তারা আ’লীগ করলেও তাদের ব্যক্তিগত ভালো জনপ্রিয়তা রয়েছে গাজীপুরে। কিন্তু তাদের সখ পুরণ হতে বিলম্ব ঘটাচ্ছে ক্ষমতাসীন আ’লীগ। তারা দুজনই দলের উপর যে আনুগত্য দেখিয়েছেন তা স্মরণীয়। ধৈর্য্যের ওপর নোবেল পুরস্কার থাকলে হয়তো এরা দুজনও ধৈর্যে নোবেল পেতেন! এর আগের নির্বাচনে আজমত উল্লাহ খান এক লাখের ওপরে ভোট পেয়েছিলেন। এই ভোটের অধিকাংশই ছিল আজমতউল্লাহ্র ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তার। তার পক্ষে প্রচারণায় আ’লীগে বহু নেতা-নেত্রী গাজীপুরে গিয়ে বাজে কর্মের কথা বলেছেন। যাতে অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছিল আজমতউল্লাহ্ খানের। এমনেতো আমাদের সমাজে একটি কথা চালু আছে- “তুই কি মানুষ না আ’লীগ”! কিন্তু তারপর ও আজমতউল্লাহ্, জাহাঙ্গীর আলমরা সাধারণ জনগণের আস্থা অর্জন করেছিলেন।
গাজীপুরে জামায়াত ইসলামীর ও একজন মেয়রপ্রার্থী ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি প্রার্থীতা প্রত্যাহার করে বিএনপির প্রার্থীকে সমর্থন করেন এই হয়ে যায় আ’লীগে মাথাগরম। কারণ গাজীপুরে রয়েছে জামায়াতের  প্রচুর ভোট। তাইতো তারা র্নিলজ্জভাবে ভয় পেয়ে ভোটবন্ধ করে দেয় এক বিশেষ কৌশলে। গত ০৭ মে The Daily Star এর একটি প্রতিবেদনের প্রথম কয়েকটি বাক্য এখানে তুলেধরছি। Just 10 days before the voting day, the high court yesterday stayed the Gazipur city corporation election for three months with the election commission entirely in the dark about the development. “truly speaking. I came to know about the matter from television Scrolls, Said Chief election commission KM Nurul Huda, who was in khulna yesterday for holding Talks with mayoral candidates of khulna city corporation.
পরবর্তীতে অবশ্য’ই প্রথম বিএনপি এবং পরবর্তীতে আ’লীগপ্রার্থী গাজীপুরের নির্বাচন চেয়ে উচ্চ আদালতে রীট করে। এবং আপিল বিভাগ এতে রায় দেয় যে ২৬ জুন গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন হবে। হঠাৎ নির্বাচন স্থগিতে সমালোচনা হয়েছিল দেশব্যাপী। যে প্রক্রিয়াতেই হোকনা কেন শেষ পর্যন্ত ২৬শে জুন গাজীপুরে সিটি করপোরেশন নির্বাচন হতে যাচ্ছে।
কিন্তু ক্ষমতাসীন আ’লীগ ক্ষমতায় অন্ধ হয়ে গেছে। তারা ক্ষমতা হারাতে চায়না। শেষ পর্যন্ত সেটাকে বিশেষ ইঞ্জিনিয়ারিং এর মাধ্যমে তাদের পক্ষের দাঁড় করানো হয়েছে। আইনজীবিদের নির্বাচনে অনেক ঝামেলা পাকিয়েও এবার তারা জয়ী হতে পারেনি।
তারা ২০০৮ এরপরে ২০১৪ পর্যন্ত কয়েকবার স্থানীয় পর্যায়ের নির্বাচন দিয়ে টেষ্ট করে দেখেছে যে কি পরিস্থিতি। তারা দেখেছে শুধুই ভরাডুবি। এই হয়ে গেল আ’লীগের মাথা খারাপ। এখন হয়তো সেই অনুযায়ী ২৬ জুনের নির্বাচনেও গাজীপুরে বিশেষ ইঞ্জিনিয়ারিং বা ভোট ডাকাতির মাধ্যমে তাদের প্রার্থীকে জিতিয়ে দেখাবে যে আমরা জনপ্রিয়। এসকল স্থানীয় নির্বাচন এখন আর স্থানীয় পর্যায়ের নেই। এখানে ভিন্ন খেলা।
খুলনার নির্বাচনেকীভাবে ভোট ডাকাতি করে তাদের জুয়াখোর প্রার্থীকে জিতিয়ে দেয়া হলোতা দেশবাসী প্রত্যক্ষ করেছে। যদিও মিডিয়াতে অত ভালোভাবে প্রচার করা হয়নি। এসবই হলো একনায়নতান্ত্রিক দেশের চেহারা। কাজেই আমাদের এই বেড়াজাল থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করা উচিৎ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ