ঢাকা, শনিবার 19 May 2018, ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫, ২ রমযান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

ফল প্রকাশের দিন বাঁধভাঙ্গা উচ্ছ্বাসে ভেসে ওঠে ভিকারুননিসা ক্যাম্পাস

মুহাম্মাদ আখতারুজ্জামান: সেদিন ছিল মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষার ফল প্রকাশের দিন। পরীক্ষার ফলাফল কি হবে এমন চিন্তায় সকাল থেকেই মগ্ন ছিল পরিক্ষার্থীরা। সময় বাড়ার সাথে সাথে বাড়ছিল উৎকণ্ঠা। দূরুদূরু মন নিয়ে পরীক্ষার্থীরা রওনা দেয় বিদ্যালয়ে। ভয়ের কমতি ছিল না অভিভাবকদের মনেও। কি হবে সন্তানের রেজাল্ট এমন প্রশ্ন বারবার উঁকি দিচ্ছিল তাদের মনে। ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের মূল ক্যাম্পাসে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ফলপ্রার্থী শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের উপস্থিতি বাড়তে থাকে। এসএসসি ফল জানতে শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের মধ্যে ছিল ব্যাপক আগ্রহ- উদ্দীপনা। তখনও স্কুলে আনুষ্ঠানিকভাবে ফল প্রকাশ করা হয়নি।
শিক্ষার্থী অভিভাবদের উৎকণ্ঠার শেষ পর্যায়ে ঠিক ঘড়ির কাটা বেলা ২টা। ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজে আনুষ্ঠানিকভাবে ফল ঘোষণা করা হয়। উৎকণ্ঠার অবসান ঘটিয়ে ক্যাম্পাস প্রাঙ্গণে তৈরি হয় মিলন মেলা। ফল প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই আনন্দ আর বাধভাঙ্গা উচ্ছ্বাসের জোয়ারে ভেসে ওঠে পুরো ভিকারুননিসা ক্যাম্পাস। শিক্ষার্থীদের দল বাঁধা উল্লাস ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে উঠে স্কুল প্রাঙ্গণ। দীর্ঘ সাধনা আর পরিশ্রমের কাঙিক্ষত ফল পেয়ে উদযাপনে নেমেছে তারা। বিজয় চিহ্ন দেখিয়ে সেলফি তুলে আনন্দে মাতোয়ারা হয়ে পড়ে।
প্রতিষ্ঠানটির ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নাজনীন ফেরদৌস বলেন, এবারের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষায় ভিকারুননিসা থেকে পরীক্ষায় অংশ নেয় ১ হাজার ৬১২ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে মোট পাসের হার ৯৯ দশমিক ৮৮ শতাংশ। মোট জিপিএ ৫ পেয়েছে ১ হাজার ৪৪২ জন। এর মধ্যে অকৃতকার্য হয়েছে ২ জন। এরা কমার্সের শিক্ষার্থী। এবার ৮৯ দশমিক ৫ শতাংশ জিপিএ-৫ পেয়েছে। বিজ্ঞান ও মানবিক বিভাগে সবাই পাস করেছে।
তিনি বলেন, পড়া- লেখার জন্য স্কুলের কিছু নিজস্ব পদ্ধতি আছে। যা অবলম্বন করায় গতবারের তুলনায় এবার অনেক ভালো করেছে শিক্ষার্থীরা। আমাদের সার্বিক প্রচেষ্টার ফল পেয়েছি। আমাদের প্রতিষ্ঠানে ডিসিপ্লিন অগ্রাধিকার পায়। ক্যাম্পাসে মোবাইল ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা এবং ফেসবুক ব্যবহারে কঠোর নিয়ন্ত্রণের কারণ রেজাল্ট ভালো হওয়ার আরেকটি কারণ।
তিনি বলেন, যে কারণেই হোক যারা খারাপ করেছে এজন্য চিন্তার কারণ নেই। আগামীতে আরও ভালো করার সুযোগ রয়েছে।
বিকাল তিনটা তখনও স্কুল প্রাঙ্গণে চলছে শিক্ষার্থীদের বাঁধ ভাঙ্গা উল্লাস। আর এই উল্লাসে অংশ নিয়েছে বাণিজ্য বিভাগ থেকে জিপিএ ৫ পাওয়া শিক্ষার্থী ইলমা তাছনিম। সঙ্গে তার মা। অভিব্যক্তি প্রকাশ করতে গিয়ে তিনি বলেন, দশ বছরের লালিত স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। খুব ভালো লাগছে। এ আনন্দ ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। ইলমা বলেন, যে কষ্ট করেছি তার প্রতিদান পেয়েছি। কাক্সিক্ষত এ ফল পেতে নিজের মাতো চেষ্টা করেছি। আর দিক নির্দেশনা দিয়েছেন বাবা-মা শিক্ষকরা। আমার বাড়ির শিক্ষকরাও আমাকে অনেক সহযোগিতা করেছে। সবার সহযোগিতা আজকের এ ফল।
পাশেই এক সাথে আনন্দ উল্লাস করছিলেন তিন বান্ধবি ফিজা জায়মা, প্রত্যাশ ও রিফা। তারা তিনজনই বিজ্ঞান বিভাগ থেকে গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়েছে। রিফার বাবা ওবায়দুর রহমান ও প্রত্যাশার বাবা ইমাম হুসাইন দু’জনেই ব্যবসায়ী।
রিফা এবং প্রত্যাশার ইচ্ছা ডাক্তার হওয়ার। তারা বলেন, এর আগের দুটি পরীক্ষায়ও (পিএসসি ও জেএসসি) জিপিএ-৫ পেয়েছি। সবমিলে এক অন্যরকম অনুভূতি। এইচএসসিও এ প্রতিষ্ঠানেই পড়তে চাই। ভবিষ্যতে আমরা ডাক্তার হয়ে দেশের মানুষের সেবাই আত্ম নিয়োগ করতে চাই।
ফিজা জায়মা বলেন, কি হবো তা ঠিক করিনি। তবে একজন ভালো মানুষ হতে চাই।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ