ঢাকা, শনিবার 19 May 2018, ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫, ২ রমযান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

তাড়াশে বোরো ধান কাটা শুরু দাম নিয়ে কৃষকরা শঙ্কায়

তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ) সংবাদদাতা : শস্যভা-ারখ্যাত চলনবিলের তাড়াশে পুরোদমে বোরো ধান কাটা শুরু হয়েছে এবং ভালো ফলন হওয়ায় কৃষকের চোখেমুখে হাসি ফুটলেও ধানের দাম কম হওয়ায় তা নিয়ে প্রান্তিক ও মধ্যবিত্ত কৃষকরা চিন্তিত।

কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি বোরো মৌসুমে চলনবিলের সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে ৩০ হাজার হেক্টর জমিতে বিভিন্ন জাতের বোরো ধানের আবাদ করা হয়। এরই মধ্যে বিভিন্ন জাতের ব্রিআর, মিনিকেট, জিরা শাইল, ব্রিআর-২৮, ব্রিআর নাটোর, ব্রিআর ৭৬, বিআর কাজল লতা, বিআর মিনিকেট-২ প্রভৃতি জাতের ধান কাটা চলছে। স্থানীয় কুন্দাশন গ্রামের কৃষক মোজাফ্ফর হোসেন জানান, তাড়াশে প্রতি বিঘা জমিতে প্রকারভেদে ২৫-২৮ মণ হারে ফলন হচ্ছে। এদিকে উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে বোরো ধানের ভালো ফলন হওয়ায় কৃষকের চোখেমুখে হাসি ফুটলেও ধানের দাম নিয়ে তারা চিন্তিত। উপজেলার বিভিন্ন প্রসিদ্ধ ধানের হাট- গুল্টা, বিনসাড়া, নওগাঁসহ ১০ থেকে ১৫টি হাটে প্রচুর পরিমাণে নতুন ধান বিক্রি হচ্ছে। হাট ঘুরে দেখা গেছে, বর্তমানে বিআর মিনিকেট জাতের ধান (ভেজা) মণপ্রতি ৫৫০-৬০০ টাকা, (শুকনা) ৭০০-৭৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। বিআর-২৮ জাতের ধান মণপ্রতি (শুকনা) ৭০০-৭২০, সদ্য ওঠা বিআর-২৯ জাতের ধান ৬৫০-৭০০ (শুকনা) টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। নওগাঁহাটে আসা পাবনার ধানের বেপারী আবদুর রাজ্জাক জানান, এক সপ্তাহের ব্যবধানে তাড়াশের হাট-বাজারে প্রকারভেদে ধানের দাম প্রতি মণে ১৫০-২০০ টাকা কমে গেছে। যেসব মধ্যবিত্ত ও প্রান্তিক কৃষক ধানের ওপর নির্ভরশীল, তারা ধারদেনা করে বোরো আবাদ করেছিলেন। ধানের দাম কমায় তারা চিন্তিত হয়ে পড়েছেন। উপজেলার হামকুড়িয়া গ্রামের কৃষক মোঃ আলাউদ্দিন হোসেন বলেন, তার পরিবার মূলত ধানের ওপর নির্ভরশীল। বর্তমানে ধানের দাম যেভাবে কমছে, তা অব্যাহত থাকলে তাদের উৎপাদন ব্যয় উঠবে না। তাড়াশ উপজেলার সরকারি খাদ্যগুদামে ধান কেনা শুরু হয়নি। ফলে যেসব কৃষক ঋণ করে বোরো আবাদ করেছিলেন, তারা ঋণের টাকা পরিশোধ ও সংসার চালাতে কম দামে ধান বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। এ কারণে দ্রুত সরকারি খাদ্যগুদামগুলোতে প্রকৃত কৃষকদের কাছ থেকে ধান কেনার দাবি জানিয়েছেন এলাকার কৃষকরা। এ প্রসঙ্গে তাড়াশ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম জানান, বর্তমানে হাট-বাজারে ধানের দাম ওঠানামা করছে। সরকারিভাবে ধান ক্রয় শুরু হলে কৃষক লাভবান হবেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ