ঢাকা, শনিবার 19 May 2018, ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫, ২ রমযান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

গাজীপুরে পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহক হয়রানির প্রতিবাদে এলাকাবাসির মানববন্ধন

গাজীপুর সংবাদদাতা: গাজীপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির প্রি-পেইড মিটারের নামে গ্রাহক হয়রানীর প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছে এলাকাবাসি। সোমবার সকালে বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স পার্টি গাজীপুর জেলা শাখার ব্যানারে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচিতে এলাকার কয়েকশ গ্রাহক অংশ নেন। তারা ঢাকা-গাজীপুর সড়কের গাজীপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর কার্যালয়ের সামনে জড়ো হয়ে ঘন্টাব্যাপী এ কর্মসূচি পালন করেন।
মানববন্ধন কর্মসূচি চলাকালে বক্তারা বলেন, গত কিছুদিন ধরে গাজীপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর আওতায় বিভিন্ন এলাকায় প্রিপেইড মিটার প্রতিস্থাপন করা হচ্ছে। ইতোমধ্যেই প্রায় ১০ হাজার প্রিপেইড মিটারের সংযোগ দেওয়া হয়েছে। বিদ্যুৎ ব্যবহারের জন্য সমিতি কার্যালয়ের একমাত্র ভেন্ডিং ষ্টেশন থেকে কার্ড সংগ্রহ করে এসব মিটারে রিচার্জ করতে হয়।
পর্যাপ্ত সংখ্যক বুথ বা বিক্রয় কেন্দ্র না থাকায় এবং সংশ্লিষ্ট কর্মীদের অবহেলার কারণে কার্ডের জন্য গ্রাহকদের প্রতিদিন নূন্যতম ৪/৫ ঘন্টা লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। নতুন এসব প্রিপেইড মিটারের মাধ্যমে গ্রাহকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হচ্ছে। আগে প্রতি মিটারে ব্যবহৃত বিদ্যুৎ বিলের সঙ্গে প্রতিমাসে শুধুমাত্র লাইন রেন্ট বাবদ ১০ টাকা করে নেয়া হতো। কিন্ত নতুন লাগানো এসব প্রিপেইড মিটারের মাধ্যমে গ্রাহকের কাছ থেকে প্রতিমাসে লাইন রেন্ট বাবদ ৪০ টাকা ও ডিমান্ড চার্জ বাবদ (২৫ কি/ও) ২৫ টাকা করে আদায় করা হচ্ছে।
এছাড়াও অফিস বন্ধ কালীন সময়ে গ্রাহকদের প্রিপেইড মিটারের ব্যালেন্স শেষ হয়ে গেলে পরবর্তী সময়ে অফিস খোলা পর্যন্ত নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ থাকবে বলে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ঘোষণা দিলেও বাস্তবে তা হচ্ছে না। ফলে সরকারী ছুটির দিনগুলোতে বা অফিস সময়ের পর মিটারের ব্যালেন্স শেষ হয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সরবরাহও বন্ধ হয়ে যায়। অন্য কোথাও কার্ড না পেয়ে গ্রাহকদের সীমাহীন দূর্ভোগে পড়তে হয়। এছাড়াও বিদ্যুৎ ব্যবহার করা না হলেও প্রায়শঃ মিটারের ব্যালেন্স শূন্য হয়ে যায়, যার সদোত্তর পল্লী বিদ্যুতের সংশ্লিষ্ট অফিস থেকে জানা যাচ্ছে না। বক্তারা এসব সমস্যার দ্রুত সমাধানের দাবী জানান। অন্যথায় বর্তমান প্রিপেইড মিটার পদ্ধতিসহ আন্দোলনের কর্মসূচি শীঘ্রই ঘোষণা করা হবে বলে জানান।
বক্তারা আরো বলেন, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও ঠিকাদারের দূর্নীতি ও অবহেলার কারণে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রেখে প্রয়োজনের চেয়ে কর্মী দিয়ে বিদ্যুৎ লাইন উন্নয়ন কাজ করার কারণে দীর্ঘ সময় লাগছে। বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করার আগে এলাকাবাসীদের সতর্ক করতে কোন প্রকার মাইকিং বা প্রচার করা হয় না। ফলে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় গ্রাহকদের ভোগান্তি পোহাতে হয়।
বক্তারা এসময় গাজীপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর সিনিয়র জেনারেল বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স পার্টি গাজীপুর জেলা শাখার সভাপতি আব্দুল মজিদের সভাপতিত্বে সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন গাজীপুর জেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান ও মহানগর আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক এসএম মোকসেদ আলম, সাবেক কমিশনার আব্দুল মতিন মতি, ছাত্রলীগ নেতা মফিজ উদ্দিন, বিকাশ চন্দ্র সরকার, মহানগর শাখা ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক মামুন হোসেন, স্থানীয় বাসিন্দা গোলাম মোক্তাদির ও সাহাজ উদ্দিন সাহা প্রমুখ।
গাজীপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার যুবরাজ চন্দ্র পাল জানান, চাহিদার তুলনায় বুথের স্বল্পতা রয়েছে। তবে নতুন প্রিপেইড মিটারের মাধ্যমে মাসিক লাইন রেন্ট বাবদ ৪০ টাকা এবং ডিমান্ডচার্জ বাবদ ২৫ টাকা করে আদায়ের সিদ্ধান্তটি বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলারিটি কমিশন (বার্ক)’র। এছাড়া গ্রাহকদের অন্য সমস্যাবলীর কথা আমার জানা নেই।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ