ঢাকা, রোববার 20 May 2018, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫, ৩ রমযান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

রমযান ও সেশনজট বিবেচনায় পরীক্ষা বর্জন স্থগিত, ক্লাস বর্জন চলবে

গতকাল শনিবার ঢাবি ক্যাম্পাসের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরীর সামনে সাংবাদিক সম্মেলন করে, কোটা সংস্কারের দাবিদার সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার : পবিত্র রমযান মাস ও সেশন জট বিবেচনা করে পরীক্ষা বর্জনের কর্মসূচি স্থগিত ঘোষণা করেছেন কোটা আন্দোলনকারীরা। তবে কোটা বাতিলে প্রজ্ঞাপন জারি না হওয়া পর্যন্ত ক্লাস বর্জন কর্মসূচি অব্যাহত থাকার ঘোষণা দেয়া হয়েছে।
গতকাল শনিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের ব্যানারে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে এসব কথা জানানো হয়।
বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের আহ্বায়ক হাসান আল মামুন বলেন, কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের মারধর, নির্যাতন ও হলত্যাগের হুমকি দিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হচ্ছে। একটি ‘অতি উৎসাহী ও কুচক্রী মহল’ সরকারকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলার জন্য এসব নোংরা ও ঘৃণ্য কাজ করে যাচ্ছে। 
সাংবাদিক সম্মেলনে কোটা আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয় এবং যথাসময়ে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সুফিয়া কামাল হলে ঘটে যাওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার কারণ দর্শানোর নামে সাধারণ ও নিরপরাধ শিক্ষার্থীদের হয়রানি না করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে অনুরোধ জানানো হয়।
হাসান আল মামুন বলেন, রমযান মাস ও সেশন জটের কথা বিবেচনা করে পরীক্ষা বর্জনের কর্মসূচি স্থগিত ঘোষণা করা হলো। তবে কোটা বাতিলে প্রজ্ঞাপন জারি না হওয়া পর্যন্ত ক্লাস বর্জন কর্মসূচি আগের মতো চলমান থাকবে।
আন্দোলনের সার্বিক অবস্থা জানাতে ডাকা সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে হাসান আল মামুন বলেন, কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজে আন্দোলনকারীদের মারধর, নির্যাতন ও হল ত্যাগের হুমকি দিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হচ্ছে। একটি অতি উৎসাহী ও কুচক্রী মহল সরকারকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলার জন্য এসব নোংরা ও ঘৃণ্য কাজ করে যাচ্ছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই এবং এর বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানাই।
কোটা সংস্কারের আন্দোলনের সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কবি সুফিয়া কামাল হলে ছাত্রলীগ সভাপতি ইফফাত জাহান এশাকে হেনস্তার ঘটনায় ওই হলের ২৫ ছাত্রীকে কারণ দর্শানোর নোটিস দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
এ প্রসঙ্গে হাসান আল মামুন বলেন, কারণ দর্শানোর নামে ছাত্রীদের হয়রানি করা হচ্ছে। কবি সুফিয়া কামাল হলে ঘটে যাওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় কারণ দর্শানোর নামে সাধারণ ও নিরপরাধ শিক্ষার্থীদের হয়রানি না করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে অনুরোধ করা হল।
পরিষদের যুগ্ম-আহ্বায়ক নুরুল হক নূর বলেন, গত ৮ এপ্রিল রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কবি সুফিয়া কামাল হলে ঘটে যাওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় ছাত্রলীগ নেত্রী এশার সংশ্লিষ্টতা যাচাই-বাছাই না করে তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। সেদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি, প্রক্টর সংবাদ মাধ্যমেও বলেছেন যে এশা দোষী প্রমাণিত হওয়ায় তাকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। কিন্তু পরে ভিসি আবার এ ঘটনা সম্পর্কে ভিন্ন কথা বলেছেন। মূলত বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি এবং প্রক্টরই হল গুজবের মহানায়ক।
‘কুচক্রী মহল ও অতি উৎসাহী’ কারা, সাংবাদিকদের এ প্রশ্নের জবাবে পরিষদের যুগ্ম-আহ্বায়ক নুরুল হক বলেন, ছাত্রলীগের একটি অনুপ্রবেশকারী দল সাধারণ ছাত্রদের হয়রানি করছে। যারা বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাস করে, তারা এ ধরনের ঘটনা ঘটাতে পারে না বলে উল্লেখ করেন তিনি।
নুরুল হক বলেন,  বিচার না হওয়ার কারণে তারা এ ধরনের ঘটনা ঘটিয়েই চলেছে। তাদের বিচার না হওয়াতে আমরা দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে পড়েছি যে সরকার তাদের উৎসাহ দিচ্ছে কি না। সাংবাদিক সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন পরিষদের যুগ্ম-আহ্বায়ক রাশেদ খান, ফারুক হোসেন প্রমুখ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ