ঢাকা, রোববার 20 May 2018, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫, ৩ রমযান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

রাজশাহী ও খুলনার বাজারে দ্রব্যমূল্য চড়া সুযোগ নিচ্ছে অসাধু ব্যবসায়ীরা

রাজশাহী অফিস : পবিত্র রমযান মাসে পণ্যমূল্য বৃদ্ধি করলে সরকারিভাবে ‘কঠোর’ ব্যবস্থা গ্রহণের ঘোষণায় কোন পরোয়া নেই রাজশাহীর অসাধু ব্যবসায়ীদের। ফলে এখানকার বাজারে দ্রব্যমূল্য চড়তে শুরু করেছে রোজার প্রথম দিন থেকেই। এই অবাধে বাড়তি মুনাফা লুটে নিচ্ছে তারা।
রাজশাহীর বাজারে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে নিত্যপণ্যের দাম। ক্রেতারা বলছেন, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী অতিরিক্ত মুনাফা তুলে নিতে সক্রিয় হয়ে উঠেছে। নিত্যপণ্যের দাম বাড়ালে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে- সরকারের এমন হুমকি-ধামকির মুখে ব্যবসায়ীরা আগেই ধাপে ধাপে নিত্যপণ্যের দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। অন্যদিকে দাম বাড়ার পেছনে বিক্রেতারাও নানা অজুহাত দেখাচ্ছেন। সরেজমিনে রাজশাহীর মহানগরীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, দাম বেড়েছে চাল, ডাল, চিনি, ছোলা, পিঁয়াজ, রসুন, আদা, লবনসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় কয়েকটি পণ্যের দাম। কাঁচা সবজির দামও কমছে না। অব্যাহত দাম বাড়ার কারণে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে। সবচেয়ে বিপাকে পড়েছে নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষ। রমযানের পণ্য হিসাবে পরিচিত ছোলা, চিনি, পিঁয়াজ, মসুর ডালের দাম প্রতিদিন ২ টাকা থেকে ৫ টাকা করে বাড়ছে। ব্যবসায়ীরা জানান, রমযান প্রায় এক মাসে আগ থেকে হাতে গোনা কিছু ব্যবসায়ী পণ্য গুদামজাত করে রাখে। সরকারের নজরদারির অভাবেই তারা এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে দাম বাড়িয়ে দিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। পাইকারী বাজার ঘুরে দেখা গেছে, দোকানগুলোতে মূল্য তালিকা টানানো হয়নি। বাজারে কোন তদারকিও নেই। এই সুযোগে ইচ্ছেমতো দাম নিচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। ছোলার দাম যেখানে ছিল কেজি প্রতি ৫৮ থেকে ৬০ টাকা আর এখন বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকায়। একই অবস্থা পিঁয়াজের ক্ষেত্রেও। দেশী পিঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকায়। আমদানি করা পিঁয়াজ ৩৫ টাকা। বেড়ে গেছে চিনির বাজারদর। প্রতিকেজি চিনি ৪৫ টাকা থেকে বেড়ে এখন তা ৫০ টাকায় কিনতে হচ্ছে ভোক্তাদের। খুচরা ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, বস্তাপ্রতি (৫০ কেজি) চিনির দাম বেড়েছে ২০০ থেকে ২৫০ টাকা। ছোট দানার দেশী মসুর ডাল কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১১০ টাকায়। আমদানি করা মোটা মসুর ডাল বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ৯০ টাকায়। এছাড়া মুগডাল, খেসারি, ডাল, ডাবলি, বুটসহ সবধরণের ডালে কেজিতে বেড়েছে ৫ থেকে ১০ টাকা। শশা, বেগুনসহ প্রায় সবধরণের সবজির দামও বেড়েছে ব্যাপকহারে। ফলমূলের দাম সাধারণের নাগালের বাইরে চলে গেছে। ব্যবসায়ীরা জানান, নিত্যপণ্যের দাম নিয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বা টিসিবির কোন নির্দেশনা ও মূল্য তালিকা তারা পাননি। আর এ জন্য প্রায় প্রতিদিনই ক্রেতাদের সাথে তর্ক-বিতর্ক হচ্ছে।
খুলনায় বেসামাল পেঁয়াজ
কাঁচা মরিচসহ সবজির বাজার
রমযানের শুরুতেই পেঁয়াজ, কাঁচা মরিচসহ সবজির বাজার বেসামাল হয়ে উঠছে। দফায় দফায় বৃদ্ধি পাচ্ছে দাম। অধিকাংশ সবজি বিক্রি হচ্ছে কমপক্ষে পঞ্চাশ টাকা দরে। এক শ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ী রমযান মাসকে পুঁজি করে অধিক মুনাফার আশায় ইচ্ছামত বাড়িয়ে দিয়েছে এসব পণ্যের দাম। দাম বেড়ে যাওয়া বিপাকে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যআয়ের ভোক্তারা।   
নগরীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ মানভেদে ৬০ থেকে ৮০ টাকা, বেগুন ৬০ টাকা, পটল ৫০ টাকা, পেঁপে ৫০ টাকা, ঝিঙে ৫০ টাকা, কুশি ৫০ টাকা, কাঁকরল ১০০ টাকা, বরবটি ৪০ টাকা, টমেটো মানভেদে ৬০ থেকে ৮০ টাকা, ক্ষিরই ৬০ টাকা, উচ্ছে ৪০ টাকা, গাজর মানভেদে ৫০ থেকে ৬০ টাকা, ঢেঁড়স ৪০ টাকা, দেশি পেঁয়াজ ৪৬ থেকে ৪৮ টাকা, ভারতীয় পেঁয়াজ ৩২ টাকা, আলু মানভেদে ২২ থেকে ২৫ টাকা, মিষ্টিকুমড়া ২৫ থেকে ৩০ টাকা, ধনেপাতা ২০০ টাকা, ঘিকাঞ্চন ও লালশাক ৩০ টাকা, কাঁচাকলা (প্রতিহালি) ২৫ থেকে ৩০ টাকা ও প্রতিহালি লেবু ২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
অথচ রোজার দুই একদিন আগেও প্রতিকেজি কাঁচামরিচ ৪০ টাকা, বেগুন ৩০ থেকে ৩৫ টাকা, পটল ৩০ টাকা, পেঁপে ৪০ টাকা, ঝিঙে ৩০ টাকা, কুশি ২০ টাকা, কাঁকরল ৮০ টাকা, বরবটি ৩০ টাকা, টমেটো মানভেদে ৪০ থেকে ৫০ টাকা, ক্ষিরই ৩০ থেকে ৩৫ টাকা, উচ্ছে ৩০ টাকা, গাজর মানভেদে ২৫ টাকা, ঢেঁড়স ২০ থেকে ২৫ টাকা, দেশি পেঁয়াজ ৪৫ টাকা, ভারতীয় পেঁয়াজ ৩০ টাকা, আলু মানভেদে ২০ থেকে ২২ টাকা, মিষ্টিকুমড়া ২৫ টাকা, ধনে পাতা ১০০ টাকা, ঘিকাঞ্চন ও লালশাক ৩০ টাকা, কাঁচাকলা (প্রতিহালি) ২৫ থেকে ৩০ টাকা ও প্রতিহালি লেবু ২০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। 
নগরীর ময়লাপোতাস্থ কেসিসি সন্ধ্যা বাজারে আসা ক্রেতা মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, রমযান মাস আসার সাথে সাথেই শাক-সবজিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যসামগ্রীর দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে দফায় দফায়। তিনি বলেন, বাজারে ৫০ টাকার নিচে কোনো সবজি বিক্রি হচ্ছে না। আরেক ভোক্তা সলেমান মোল্লা বলেন, প্রতি বছর রমযান মাস এলে প্রত্যেকটি পণ্যের দাম বেড়ে যায়। কিন্তু কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে কার্যকরী কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করে না। তিনি আরো বলেন, দফায় দফায় বাজারদর মনিটরিং করলে হয়তো সব ধরনের পণ্য সামগ্রীর দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হতো। আরেক ভোক্তা মনোয়ার সরদার চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘ভাই প্রত্যেকটি তরিতরকারির দাম অনেক বেশি।’ মাত্র ৫/৬ দিনের ব্যবধানে কাঁচামরিচ, পটল, টমেটো, ক্ষিরই, গাজর, ঝিঙে, বেগুন, কাঁকরল, কুশিসহ বিভিন্ন পণ্যের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে অস্বাভাবিক। নগরীর ময়লাপোতা এলাকার কেসিসি সন্ধ্যা বাজারের ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলাম বলেন, সবজির দাম অনেক বেড়েছে। বাজারে আসা রাহা গোবিন্দ বলেন, সব ধরনের তরিতরকারির দাম অতিরিক্ত বেড়েছে। দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের হস্তক্ষেপও কামনা করেছেন তিনি।
নগরীর নতুন বাজারে আসা ক্রেতা হায়দার আলী বলেন, প্রত্যেক বছর রমযান মাস এলেই সবজিসহ অন্যান্য পণ্য সামগ্রির দাম বেড়ে যায়। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, মাত্র কয়েকদিনে মধ্যে সবজিসহ বিভিন্ন পণ্যের দাম বেড়ে গেছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ