ঢাকা, রোববার 20 May 2018, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫, ৩ রমযান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

গ্রহণযোগ্য জাতীয় নির্বাচনের জন্যে...

খুলনা নির্বাচন মানুষকে হতাশ করেছে। ২০১৪ সালের নির্বাচনের পর পাঁচ বছর হতে চলল। নির্বাচনটা যে গ্রহণযোগ্য ছিল না এ নিয়ে অনেক কথা হয়েছে। মানুষ আশা করেছে এ ধরনের নির্বাচনের পুনরাবৃতি আর হবে না। এ নিয়ে শুরু থেকে দাবিদাওয়া উঠেছে এবং সেই থেকে আন্দোলনও চলছে। নির্বাচন কমিশনেরও পরিবর্তন ঘটেছে। মানুষ সরকারের কাছে এবং নতুন নির্বাচন কমিশনের কাছে ভালো নির্বাচন আশা করেছে। কিন্তু নতুন নির্বাচন কমিশন ইতিপূর্বে যে নির্বাচনগুলো করেছে তাতে মানুষের সে আশা পূরণ হয়নি। জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে গাজীপুর এবং খুলনায় জাতীয় নির্বাচনের আয়োজন করেছিল নির্বাচন কমিশন। মানুষ আশা করেছিল অন্তত এখন নির্বাচন কমিশন ভালো নির্বাচন করিয়ে জাতীয় নির্বাচনের প্রতি মানুষের আস্থা সৃষ্টি করবে। কিন্তু এবারও মানুষের সেই আশা পূরণ হলো না।
খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে অতীতের নির্বাচনে কারচুপীর যতো রকমের ঘটনা ঘটেছে তার সবগুলোই আরো ভয়াবহ আকারে সংগঠিত হয়েছে। নির্বাচনোত্তর ফলাফল বিশ্লেষণমূলক রিপোর্টে বলা হয়েছে জাল ও ভুয়াভোটের মাধ্যমেই খুলনায়  নৌকা বিজয়ী হয়েছে। জাতীয় গণমাধ্যমের সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষদের বিশ্লেষণেও এই তথ্য ধরা পড়েছে। বিবিসি’র সাংবাদিকের সরেজমিন রিপোর্টেও একই তত্ত্ব উঠে এসেছে। বিবিসি’র সাংবাদিক ভোট কারচুপি ও জালভোটের বিচিত্র রকমের সব তত্ত্ব তার রিপোর্টে তুলে ধরেছেন। ভোটের প্রকৃত অবস্থা বুঝাতে গিয়ে তিনি লিখেছেন, “ব্যালট বাক্স থেকে বের করে গণনার সময় দেখেছি কিছু ব্যালটের পেছনে সিল এবং স্বাক্ষর আছে। কিছু ব্যালটের পেছনে দেখেছি সিলমোহর আছে কিন্তু স্বাক্ষর নেই। আবার কিছু দেখেছি সিল-স্বাক্ষর কিছুই নেই। নির্বাচনী কর্মকর্তারা ভোট গণনার এক পর্যায়ে স্বাক্ষরবিহীন একটি ব্যালট প্রিজাইডিং অফিসারকে দেখালে তিনি তা অবৈধ ঘোষণা করেন। পরক্ষণেই একইরকম একগাদা ব্যালট তার হাতে দেয়া হলে তিনি অপ্রস্তুত হয়ে পড়েন। ওই সবগুলো ব্যালটই ছিল নৌকা মার্কায় দেয়া ভোট। পরে ভোটকেন্দ্রে অবস্থানরত পুলিশের সঙ্গে পরামর্শ করে প্রিজাইডিং অফিসার ব্যালটে স্বাক্ষরবিহীন ভোট বৈধ হিসেবে গণনার নির্দেশ দেন। এরপর আর ব্যালটে স্বাক্ষর আছে কিনা সেটি খতিয়ে দেখা হয়নি।” চাক্ষুস এই রিপোর্টে নির্বাচনের যে দৃশ্য দেখা গেলো তাতে এই নির্বাচনকে নির্বাচন বলা যায় না। অথচ এই ধরনের নির্বাচনই আমাদের দেশে এখন চলছে।
এই ধরনের নির্বাচন আর হওয়া উচিত নয়। ইতিমধ্যেই এই ধরনের নির্বাচন অনুষ্ঠান রোধ করার জন্যে  দেশ-বিদেশের বিভিন্ন মহল থেকে দাবি উঠেছে। খোদ জাতিসংঘ খুলনা নির্বাচন নিয়ে তদন্তের কথা বলেছে। আমরা মনে করি নির্বাচন কমিশনের অবশেষে বোধদয় হওয়া উচিত যে, খুলনা নির্বাচনে সরকারি দল যেভাবে দলীয় এবং পুলিশী শক্তি ব্যবহার করে ভোটকেন্দ্রগুলোকে আয়ত্তে নিয়ে যথেচ্ছা কারচুপি করেছে এবং জয়ী হয়েছে। সেসব কারচুপির বিষয় নির্বাচন কমিশনের স্বীকার করে নেয়া দরকার এবং এর প্রতিকারে এগিয়ে আশা উচিত। জাতীয় নির্বাচনকে গ্রহণযোগ্য করার জন্য সেনা মোতায়েন, নির্বাচন পরিচালনা ব্যবস্থার সংশোধন, সুষ্ঠু অবাধ নির্বাচনের জন্যে উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টিসহ বিরোধী দলের সকল ন্যায়সঙ্গত দাবি মেনে নিতে হবে। জাতীয় নির্বাচন অবাধ সুষ্ঠু হচ্ছে নির্বাচনের আগেই এই আস্থা সৃষ্টি হওয়া প্রয়োজন রাজনৈতিক দল এবং জনগণের মধ্যে। খুলনা নির্বাচন হোক কারচুপির শেষ নির্বাচন, জনগণের এটাই প্রত্যাশা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ