ঢাকা, রোববার 20 May 2018, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫, ৩ রমযান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

শুষ্ক মৌসুমের আগেই শুকিয়ে যায় চলনবিলের ৭৭টি নদ-নদী

সিংড়া, (নাটোর) : বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোডের্র অপরিকল্পিতভাবে যেখানে-সেখানে বাঁধ ও কালভাট নির্মানের কারনে শুকনো মৌসুমের শুরুতেই চলনবিলের নদ-নদী, খাল-বিল শুকিয়ে পানি শূণ্য হয়ে পড়ে। ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় এবং অপরিকল্পিত ভাবে বাঁধ নির্মাণের ফলে চলনবিলের প্রায় ৭৭টি নদী-বিল ও খাল শুকনো মৌসুমের আগেই শুকিয়ে ফুটবল খেলার মাঠে পরিনত হয়। এছাড়া নিয়মিত ড্রেজিং না করায় বর্ষা মৌসুমে পলি পড়ে এখন এ নদীগুলো মৃতের মতো আবস্থা। নদীর দু’ধারে জেগে উঠা অসংখ্যাক চরে গড়ে উঠেছে বাড়ি-ঘর। শুকনো মৌসুমে যেখানে পানি থাকে অহরহ সেখানে এক ফোটা পানিও মেলেনা।
ফলে এ অঞ্চলের মানুষ কৃষি কাজের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ায় অনেক গরীব চাষী এসব নদী-থেকে পানি তুলে জমিতে সেচ কাজে ব্যবহার করত। কিন্তু শুকনো মৌসুমের আগেই শুকিয়ে যাওয়ায় এবং ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ার ফলে মারাত্মক সেচ সংকটে পড়ে চলনবিলের কৃষকেরা। কৃষি মৌসুমে উৎপাদন ব্যবহত হওয়ার আশংঙ্কাসহ পাশাপাশি নদ-নদী কেন্দ্রিক ব্যবসা বাণিজ্যে দেখা দেয় স্থবিরতা।
এক গবেষণায় জানা যায়, চলনবিল অঞ্চলে ১৭৫৭ হেক্টর আয়তনের ৩৯টি বিল, ৪২৮৬ হেক্টর আয়তন বিশিষ্ট ১৬টি নদী এবং ১২০ বর্গ কিলোমিটার আয়তন বিশিষ্ট ২২ টি খাল রয়েছে। এরমধ্যে প্রধানত ৯টি নদী ও ১৮টি খালসহ ছোট-খাট বিভিন্ন বিল ও খাল রয়েছে। নদীগুলোর মধ্যে আত্রাই নদী, গুড় নদী, করতোয়া, বড়াল, তুলশি, চেচুয়া, ভাদাই, চিকনাই, বানগঙ্গা এবং যুবজীপুর তেলকুপি। ১৮টি প্রধান খালের মধ্যে নবীর হাজার জোলা, হক সাহেবের খাল, নিমাইচরা বেশানী খাল, বেশানী গুমানী খাল, উলিপুর, সাঙ্গুয়া খাল, দোবিলা খাল, কিশোরখলি খাল, বেহুলার খাড়া, বাঁকাই খাড়া, গোহালা নদী, গাড়াবাড়ী দারুখালী খাল, বিলসূর্য নদী, কুমার ডাঙ্গা নদী, জানি গাছার জোলা, সাত্তার সাহেবের খাল, কিনু সরকারের ধর পানাউল¬াহ খাল। এবং চলনবিলের মধ্যেস্থ কয়েকটি বিল রয়েছে। এগ্রলেুা হচ্ছে, বড়বিল, খলিশা গাড়ী বিল, ধনাইর বিল, ছয় আনি বিল, বাইডার বিল, সাধুগাড়ী বিল, মহিষা হালট এর নাম দেয়া হয়। এছাড়া ছোট ছোট শত শত খাল বিল চলনবিলের অংশ হিসেবে আছে। আর নদীগুলোর গড় প্রসস্থ ছিল ১৫’শ থেকে ২ হাজার ফুট।
জানা যায়, এই বিলে জলরাশি বদ্ধ বিলের ন্যায় স্থির না হয়ে গতিশীল ছিল বলেই এর নাম করণ করা হয় চলন বিল। অর্থাৎ চলন্ত জলরাশির বিলই চলনবিল। পদ্মার স্রোতধারা এখন আর বড়াল, চিকনাই, ইছামতি, করতোয়া, পদ্মাবতী, নন্দকুজা, গুমানী ও অত্রাই নদীতে প্রবাহিত হয় না। ফলে অধিকাংশ নদী এখন ভরাট হওয়ায় কোন রকম বেঁচে আছে গুড়নদী, গুরনই, বারনই, নগর, বানগংঙ্গা ও ভাদ্রনদী। আর এগুলেও এখন মৃতর মত অবস্থা। চলনবিলর নদ-নদীগুলোর দীর্ঘ দিন ধরে ড্রেজিং না করায় নদীগুলোর প্রস্থ ও গভীরতা কমে যাচ্ছে। বর্তমানে বিলের বিলের নদী গুলোর প্রস্থ ও গভীরতা কমে যাচ্ছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ