ঢাকা, মঙ্গলবার 22 May 2018, ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫, ৫ রমযান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

ইসরাইলী দখলদারিত্বের অবসান না হলে শান্তি নেই---তুরস্ক

এক জনভায় সমর্থকদের হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন রজব তৈয়ব এরদোগান

২১ মে, আনাদোলু, সাবাহ : ফিলিস্তিনী ভূখণ্ডে মূল সমস্যা হলো ইসরায়েলের দখলদারিত্ব এবং এর অবসান না হওয়া পর্যন্ত সেখানে কারো জন্য কোনো শান্তি, নিরাপত্তা, সমৃদ্ধি আসবে না। তুরস্কের প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র ইব্রাহিম কালিন এ কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর প্রশাসনের দায়িত্বজ্ঞানহীন ও লোক দেখানো নীতির জন্য ধন্যবাদ। আপনাদের এই নীতির জন্য কখনো শান্তি আসবে না; আজকের দিনের মতোই তা সবসময় দূরে দূরে থাকবে।’ ইব্রাহিম কালিন বলেন, ‘ইসরাইলের আইন লঙ্ঘন করা ও ফিলিস্তিনীদের বিরুদ্ধে অন্যায্য আচরণের বিরুদ্ধে অবশ্যই মুসলিম দেশগুলো, ইউরোপ, আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকার দেশগুলোকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।’

ইসরাইলের রাজধানী তেল আবিব থেকে পবিত্র বায়তুল মুকাদ্দাস শহরে মার্কিন দূতাবাস স্থানান্তরের বিরুদ্ধেও ইব্রাহিম কালিন নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, মার্কিন প্রশাসনের এই পদক্ষেপের কারণে দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের যেকোনো সম্ভাবনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

তুর্কি নির্বাচনে সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান এরদোগানের

তুর্কি রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে ইউরোপের প্রবাসী তুর্কি নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট রজব তৈয়ব এরদোগান। রবিবার বসনিয়ার রাজধানী সারায়েভোতে ‘ইউরোপীয়ান তুর্কি ডেমোক্রেটস ইউনিয়ন’ এর (ইউইটিডি) ষষ্ঠ সাধারণ অধিবেশনে দেয়া বক্তব্যে তিনি এই আহ্বান জানান।

এরদোগান বলেন, ‘আপনাদের দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়ার জন্য আমি আপনাদের অনুরোধ করছি। যারা আমার দেশের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে, তাদের সমর্থন করা উচিৎ হবে না। আমাদের মধ্যে (প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী) একটি ছোট্ট পার্থক্য করা উচিৎ হবে না, কারণ এটি বৃহত্তর লক্ষ্যের দিকে হাঁটার একটি বড় বাধা।’

ইউরোপীয় দেশগুলোতে বসবাসরত ২০ হাজারেরও বেশি প্রবাসী তুর্কি নাগরিকরা তার বক্তব্য শোনার জন্য সেখানে জড়ো হয়েছিল। এরদোগান বলেন, তুরস্কের প্রতি সবচেয়ে বেশি বৈরিতা প্রদর্শন করছে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের কয়েকটি সদস্য দেশ। তুরস্কের আসন্ন নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘২৪ জুন আমরা কেবল একজন প্রেসিডেন্ট ও পার্লামেন্ট সদস্যদেরকেই নির্বাচন করব না, একই সঙ্গে আমরা আমাদের পরবর্তী শতাব্দীর জন্যও একটি বিকল্প বেছে নেব।’

এরদোগান তার জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (একে) পার্টির ভূমিকার কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘গত ১৬ বছরে আমরা কি করেছি তা আপনারা প্রত্যক্ষ করেছেন। আমাদের দেশে কি হচ্ছে তা আপনারা বিদেশ থেকে যথাযথ মূল্যায়ন করবেন বলে আমি বিশ্বাস করি।’

তিনি প্রতিদ্বন্দ্বি প্রেসিডেন্ট প্রার্থীদের সমুদ্রের মাছের সঙ্গে তুলনা করে বলেন, ‘তুরস্কে কি ঘটছে তা কিছু প্রেসিডেন্ট প্রার্থী কি জানেন না। আমাদের দেশে বসবাসকারী এই প্রার্থীরা অনেকটা সমুদ্রের মাছের মতো, তারা কিছুই বুঝতে পারেন না। আপনি যখন তাদের সমুদ্র থেকে তুলে আনবেন এবং তাদের মাটিতে ফেলে দেবেন, তখন তারা সমুদ্রের মূল্য বুঝবে।’ তুরস্কের পার্লামেন্টকে প্রেসিডেন্সিয়াল সিস্টেমে পরিণত করতে দেশটিতে আগাম নির্বাচনের জন্য গত এপ্রিলে একটি বিল পাস হয়। ২০১৭ সালের এপ্রিলে অনুষ্ঠিত গণভোটে তুর্কি ভোটাররা সংসদীয় ব্যবস্থা থেকে প্রেসিডেন্সিয়াল সিস্টেমে উত্তোরণকে অনুমোদন করেন। রবিবার এক সরকারি সফরে বসনিয়ান রাজধানীতে পৌঁছান তুরস্কের নেতা। প্রেসিডেন্সি ভবনে তুর্কি নাগরিকরা বসনিয়া ও তুরস্কের পতাকা নেড়ে তাকে স্বাগত জানান। এরপর তিনি সারায়েভোর আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ও শিক্ষাবিদদের একটি অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। সেখানে তাকে সম্মানসূচক ডক্টরেট পদক প্রদান করা হয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ