ঢাকা, মঙ্গলবার 22 May 2018, ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫, ৫ রমযান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

মংলা-ঘষিয়াখালী নৌ চ্যানেলে ৮৩টি খাল খনন শুরু

খুলনা অফিস : মংলা-ঘষিয়াখালী আন্তর্জাতিক নৌ চ্যানেল সংযুক্ত ৮৩টি খাল খনন শুরু হয়েছে। নৌ চ্যানেলটির নাব্যতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ১৭ মে এসব খালের খনন কাজ শুরু হয়। রামপাল উপজেলার ঝনঝনিয়া গ্রামের ‘মনসুর খাল’ খননের মধ্য দিয়ে এ কাজ শুরু হয়।

বিআইডব্লিউটিএ এবং রামপাল উপজেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, মংলা বন্দরের সঙ্গে সারাদেশের দূরত্ব কমাতে ১৯৭৪ সালে ৩১ কিলোমিটার দীর্ঘ মংলা-ঘষিয়াখালী আন্তর্জাতিক নৌ রুট চালু হয়। পলি পড়ে ২২ কিলোমিটার বন্ধ হওয়ার কারণে ২০১০ সালের পর পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায় এই চ্যানেলটি। পরে ২০১৪ সালে ২শ’ ৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে পলি অপসারণ এবং দখল করে রাখা সংযুক্ত কয়েকশ’ সরকারি খাল খনন কাজ শুরু করে নৌ পথটি পুনরায় চালু করা হয়। তবে চ্যানেলের পাশে ৮৩টি খাল স্থানীয় প্রভাবশালীরা দখল করে চিংড়ি চাষ করায় নৌ চ্যানেলটির পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হত। এতে করে আবার পলি পড়ে চ্যানেলটি বন্ধ হওয়ার উপক্রম দেখা দেয়। একপর্যায়ে আশংকা করা হচ্ছিল এসব খাল খনন না করলে দুই থেকে তিন বছর পর চ্যানেলটি কার্যকারিতা হারাবে।

বিআইডব্লিউটিএ’র উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. আনিছুজ্জামান বলেন, ‘খালগুলো পুরোপুরি খনন হলে পানি প্রবাহ বৃদ্ধি পাবে এবং নৌ চ্যানেল সচল থাকবে।’

রামপাল উপজেলার নির্বাহী অফিসার তুষার কুমার পাল বলেন, ‘মংলা-ঘষিয়াখালী আন্তর্জাতিক নৌ চ্যানেল খননের পরও এ চ্যানেল সংযুক্ত ৮৩টি খাল দখল করে রাখায় প্রধান সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়। প্রভাবশালীরা এসব খাল আটকে চিংড়ি ঘের করতেন। এতে করে নৌ চ্যানেলের পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়ে নাব্য সঙ্কট দেখা দেয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একাধিকবার প্রভাবশালীরা যত বড়ই শক্তিশালী হোকনা কেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলেছেন। এরপর ত্রাণ ও দুর্যোগ অধিদফতর থেকে রামপাল উপজেলায় খাল কাঁটার জন্য ২শ’ ৪০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হলে এ চ্যানেলের সংযুক্ত খালের ১৫শ’ ৮টি অবৈধ বাঁধ অপসারণ করা হয়। এরপরও প্রভাবশালীরা বাকি ৮৩টি খাল দখল করে রাখেন। তাদের কবল থেকে এ খাল উদ্ধার করতে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে সার্ভের দায়িত্ব দেয়া হলে তারা খাল খননের জন্য পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে একটি প্রস্তাবনা পাঠান। পরে প্রস্তাবনা যাচাই করে খাল খননের জন্য ২০১৭ সালের ১০ জানুয়ারি জাতীয় অর্থনৈতিক কমিটি একনেক সাতশ’ ছয় কোটি ৪০ লাখ টাকার প্রকল্প অনুমোদন দেয়।’

পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাগেরহাট জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. জহুরুল ইসলাম বলেন, ‘গত ১৪ মে এ খনন কাজের কথা থাকলেও দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে তা সম্ভব হয়নি।’

মংলা-ঘষিয়াখালী আন্তর্জাতিক নৌ চ্যানেল খননের কাজে নিয়োজিত।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতায় খাল খনন প্রকল্পের পরিচালক (পিডি) মো. আবুল হোসেন বলেন, ‘প্রথম পর্যায়ে পাঁচশ ৫০ কোটি টাকা চুক্তিমূল্য নৌ বাহিনীর তত্ত্বাবধায়নে এ কাজটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জয় এন্টারপ্রাইজ এ অ্যান্ড এ জেভিকে দেয়া হয়। তারা তিন বছরের মধ্যে এ কাজ সম্পন্ন করবে। প্রথমে মনসুর খাল খনন করা হচ্ছে। এরপর ধারাবাহিকভাবে বগুরা খাল, দাউদখালী খাল, কাঁটালী খাল, কাঁটাখালী ১, ২, ৩, ৪, ৫, এবং ৬, মিরাখালী ১ ও ২, মোনালিখালসহ মোট ৮৩টি খাল খনন করবে।’

মংলা-ঘষিয়াখালী আন্তর্জাতিক নৌ চ্যানেল রক্ষা কমিটির সদস্য সচিব মো. সবুর রানা বলেন, ‘চ্যানেল সংযুক্ত ৮৩টি খাল খনন করলেই হবে না, এর পাশে আরও জলাশয় আছে; সেগুলোও অপসারণ করতে হবে। খাল খননের জন্য যে টাকা বরাদ্ধ হয়েছে, তা যেন ঠিকভাবে ব্যবহার করা হয়।’

খুলনায় টিসিবি পণ্যের ক্রেতা আছে  ডিলার নেই

খাদিজা বেগম। বসুপাড়া এলাকার ভাড়াটিয়া। অন্যের বাসায় কাজ করেন। কাজ বাদ দিয়ে টিসিবি’র (ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ) পণ্য কিনতে এসেছেন নগরীর ময়লাপোতা মোড়ে। ক্রেতাদের ভিড় মোটামুটি। তারপরও অপেক্ষা করে পণ্য কিনছেন তিনি। খাদিজার মতো আরও অনেক ক্রেতা রয়েছে টিসিবি’র পণ্য কেনার জন্য। ট্রাকসেল ছাড়া পণ্য বিক্রির জন্য নেই ডিলার।

জানা গেছে, রমযান উপলক্ষে ৬ মে থেকে খুলনায় টিসিবি’র পণ্য বিক্রি শুরু হয়। খুলনায় টিসিবি’র পণ্য বিক্রির জন্য ৪৫৮ জন ডিলার অনুমোদিত রয়েছে। খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে প্রার্থীতার কারণে দুইজন ডিলার তাদের ডিলারশিপ প্রত্যাহার করেছেন। কিন্তু খুলনায় বাকি ডিলারদের মধ্য থেকে ট্রাক সেল বাদে কোন ডিলার পণ্য উত্তোলন করেননি। মাত্র পাঁচটি ট্রালসেল দিয়ে খুলনা টিসিবি’র আঞ্চলিক কার্যালয়ের বিক্রয় কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এছাড়া রয়েছে টিসিবি’র নিজস্ব বিক্রয় কেন্দ্র। রোববার নতুন করে আরও একটি ট্রাক পণ্য বিক্রির জন্য মাঠে নেমেছে। এবার রমযান উপলক্ষে ৫ ধরনের পণ্য বিক্রি করছে টিসিবি। এ সকল পণ্যের মধ্যে রমযানের আগে টিসিবি আঞ্চলিক কার্যালয়ে সয়াবিন তেল মজুদ ছিল ১ লাখ ৫০ হাজার লিটার। রোযা উপলক্ষে নতুন করে বরাদ্দ পেয়েছে ১ লাখ ৪০ হাজার লিটার, চিনি ৩শ’ ৫১ মেট্রিক টন, ছোলা ৩শ’ ২৫ মেট্রিক টন, মসুরির ডাল ২শ’ ৭০ মেট্রিক টন এবং খেজুর ১০ মেট্রিক টন। 

এদিকে খুলনা টিসিবি আঞ্চলিক কার্যালয়ের অধীনে রোববার পর্যন্ত তেল ৮ হাজার লিটার, চিনি ৮ মেট্রিক টন, ছোলা ১২ মেট্রিক টন, মসুরির ডাল ৮ মেট্রিক টন এবং খেজুর ৩৩ মেট্রিক টন বিক্রয় করা হয়েছে। ট্রাকসেল ছাড়া খুলনায় কোন ডিলার টিসিবির পণ্য উত্তোলন করেননি। এদিকে টিসিবি’র পণ্য বিক্রির ট্রাকগুলো টিসিবি পণ্য বিক্রির পাশাপাশি সকাল থেকে রাত অবধি অন্যান্য পণ্যও বিক্রি করছেন।

নগরীর স্যার ইকবাল রোড থেকে টিসিবি’র পণ্য কিনতে আসা মো. আলম হাওলাদার বলেন, টিসিবি পণ্য কিনতে এসেও লাইন দিতে হয়। বেশি জায়গায় বিক্রি হলে ক্রেতাদের সময় নষ্ট করতে হতো না।

ফেরীঘাট মোড় থেকে পণ্য কিনতে আসা আকলিমা খাতুন বলেন, কোন কোন জায়গায় এই পণ্য বিক্রি হয় তাও অনেকে জানেনা। তারপরেও এসে দেখি লাইনে দাঁড়িয়ে নিতে হবে।

মেসার্স সেলিম ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী মো. সেলিম বলেন, পণ্য বিক্রি ভালোই হয়। ক্রেতাদের আগ্রহও অনেক বেশি। কোন মাল অবশিষ্ট থাকে না।

টিসিবি আঞ্চলিক কার্যালয়ের অফিস প্রধান মো. রবিউল মোর্শেদ বলেন, বিক্রি খুব বেশি হয় এমন নয়। তবে কোন দোকানের ডিলাররা পণ্য বিক্রির জন্য উত্তোলন করেননি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ